Clinton B. Seely: বাংলা সাহিত্য ও পাশ্চাত্য বিশ্বের মধ্যে এক সেতুবন্ধন
ডা. আজিজ:
পিস কর্পস যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একটি স্বতন্ত্র সংস্থা ও কর্মসূচি, যা বিশ্বের বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশে আমেরিকান কলেজ-ডিগ্রিধারী স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে পাঠায়। তারা স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নে কাজ করেন।
Clinton B. Seely যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ Stanford University থেকে জীববিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। স্নাতকোত্তর অধ্যয়ন শেষ করে তিনি পিস কর্পসে যোগ দেন এবং ১৯৬৩ সালে বরিশালে জীববিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি দুই বছর বরিশালে অবস্থান করে বরিশাল জিলা স্কুলে পাঠদান করেন। এই সময় তিনি একটি স্থানীয় মিশনারি স্কুলে বাংলা ভাষা শেখেন। সেখান থেকেই বাংলাদেশ ও বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর গভীর আত্মিক সম্পর্কের সূচনা।
যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে এসে তিনি University of Chicago-এর দক্ষিণ এশীয় ভাষা ও সভ্যতা বিভাগে ভর্তি হন এবং ১৯৬৮ সালে সেখান থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
আইওয়ার এক লেখক কর্মশালায় তাঁর পরিচয় হয় প্রখ্যাত কবি ও সাংবাদিক Jyotirmoy Dutta-এর সঙ্গে। দত্ত তাঁর বাংলা সাহিত্যের প্রতি আগ্রহ লক্ষ্য করে তাঁকে Jibanananda Das-এর কবিতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন এবং জীবনানন্দকে “রবীন্দ্রনাথের পর সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি” হিসেবে উল্লেখ করেন। এই সাক্ষাৎ সিলির একাডেমিক যাত্রাকে জীবনানন্দকেন্দ্রিক গবেষণার দিকে পরিচালিত করে।
জীবনানন্দ দাশের জীবন, শিক্ষা ও সাহিত্য নিয়ে কলকাতায় দুই বছর গবেষণা শেষে তিনি আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান এবং University of Chicago-এ শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন; তাঁর গবেষণার মূল বিষয় ছিল জীবনানন্দ দাশ।
বরিশালের প্রকৃতি, বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা জন্মায়। তিনি উপলব্ধি করেন, পাশ্চাত্য বিশ্বে জীবনানন্দ দাশ প্রায় অজ্ঞাত। সেই শূন্যতা পূরণে তিনি অনুবাদ ও গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেন।
Clinton B. Seely রামপ্রসাদ সেন, Michael Madhusudan Dutt এবং Jibanananda Das-এর গুরুত্বপূর্ণ রচনা অনুবাদ করেন। তিনি জীবনানন্দ দাশের ওপর প্রথম পূর্ণাঙ্গ ও গবেষণাভিত্তিক জীবনী রচনা করেন এবং দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা শিক্ষা দেন। তাঁর প্রবন্ধ, অনুবাদ ও গবেষণা পাশ্চাত্য একাডেমিক জগতে বাংলা সাহিত্যকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে।
বর্তমানে তিনি অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক এমেরিটাস হিসেবে সম্মানিত, তবে চিন্তা ও গবেষণায় এখনো সক্রিয়।
শেষ কথা—ক্লিন্টন বি. সিলি বাংলা সাহিত্যকে বৈশ্বিক পরিসরে একটি দৃশ্যমান কণ্ঠস্বর দিয়েছেন। তাঁর অনুবাদ, গবেষণা ও আজীবন নিষ্ঠা নিশ্চিত করেছে যে জীবনানন্দ দাশ, মাইকেল মধুসূদন দত্ত ও রামপ্রসাদ সেনের সাহিত্যিক সৌন্দর্য বাংলার সীমানা অতিক্রম করে বিশ্বমঞ্চে প্রতিধ্বনিত হতে পারে। তাঁর কাজ কেবল একাডেমিক অবদান নয়—এটি এক অনন্য ভালোবাসার দলিল।
কলামিস্ট ডা: আজিজ, লংআইলেন্ড ,নিউইয়র্ক ।


















