Logo

সাহিত্য সংস্কৃতি    >>   সেরা কবিদের লেখা - সেরা ছয়টি কবিতা

সেরা কবিদের লেখা - সেরা ছয়টি কবিতা

সেরা কবিদের লেখা - সেরা ছয়টি কবিতা

 

কবিতা-১

হাতে রাখো হাত 
                 পায়ে পা 
         হাত রেখে হাত
চল পথে নামি ।

যেতে হবে দূর 
               সুরে মিলাও সুর
আঁধার নামতে পারে 
              চলো আঁধার কাটি।

আকাশে জমেছে মেঘ 
বজ্র দিতে পারে ছুঁড়ে 
বুকের পাজর হাতে নাও 
চল বজ্রের সাথে লড়ি।

লাবণ্যলতা
             সময়ের শঙ্খধ্বনি শোনো 
রাখো হাতে হাত 
                  দাঁড়াও বেঁধে বুক
চলো 
    পথে নামি একসাথ ।।

-উৎপল দত্ত

 

কবিতা-২

আছি -অঙ্কন বসু 
মনে কর, তুমি আজকে এখানে নেই।
তবে তুমি আছো, আমি জানি তুমি আছো 
ঐত সেদিন বলে গেল রোদ্দুর 
মিছে কথা নয়, নোনা সমুদ্দুরে 
তুমি তো ভাসলে, জাহাজ যেমন ভাসে 
সাঁতরে পেরোলে ভাড়া বাড়ি, লেন দেন 
দৌড়ে পেরোলে চৌরাস্তার মোড় 
ছাতা নেই, তাই মাথা ভরা বৃষ্টিতে 
যেভাবে ঠিক দাঁড়ায় শিরদাঁড়া 
বুঝতেতো পারি, দাঁড়িয়ে রয়েছ পাশে
তুমি তো ভাসলে জাহাজ যেমন ভাসে 
ছেড়ে যেতে হয় একদিন পৃথিবীও
প্রজাপতি আঁকা খামের মধ্যে চিঠি 
গুঁড়ো চন্দন বিছিয়ে দেওয়া গাল
তুমি চলে যেতে অবাক হয়নি মোটে 
দুটো ঠোঁট ছিল রক্তের মতো লাল 
মনে করি তুমি আজকে এখানে আছো 
মনে করি আমি আজকে এখানে নেই 
সবাই তো আচ্ছি ছড়িয়ে ছিটিয়ে তবু 
সবাই তো আছি পৃথিবীর মধ্যেই

 

কবিতা-৩

পরিযায়ী পাখি
কল্পনা ব‍্যানার্জী

বয়ঃসন্ধির এক প্রভাতে  গলিত সোনার  মত আলো দেখা দিল চারিদিকে
ভাসাল  আমায় বন‍্যার মত দিকবিদিকে।
মনের কোনায়  উঁকি দিল কত কিছু
খোঁজা হল শুরু।
  একটা হাত, যে হাত ধরবে শক্ত করে আমায় ,
একটা কাঁধ যাতে  রাখবো মাথা নির্ভাবনায়।
 একটা গোটা মানুষ যে আমার শুধু আমার কাছে রবে।
  দেবে  উষ্ণতা বিপদে সহায় হবে॥
আকন্ঠ তৃষ্ণায় বাড়াই হাত আকুল হয়ে
সেই খোঁজা শুরু ।বড় একা লাগে। 
তুমি এলেনা যে।
যখন আমার চোখে সবই রঙ্গীন সবই সবুজ। 
অনাগত তারুণ্যের উদ্ভাস
পাগল পারা রূপের চ্ছটায় প্রকৃতি র অভিসার।
সে অভিসারে আমার  নেই অধিকার।
তুমি এলে না যে॥
অবুঝ তারুন‍্য পথ হারাতে পারত হয়ে দিশাহারা ।
পথ হারানো পথিকের আশায় কাটিয়ে দিল একা
তুমি  তখন ও এলেনা।
বয়ঃসন্ধি  কেটে গেল তার সাহারার অগ্নি দহন নিয়ে বুকে।
যখন তারুন‍্যে সবই ভাল সবই সুন্দর। তখন ও চেয়েছি তোমায়।
স্বপ্নে দেখা রাজ পুত্রের ঘোড়ায় চড়ে আসার শব্দ শুনেছি বারে বার 
কল্পনায় শুনেছি আঘাত, খোল দ্বার খোল দ্বার 
জানি তুমি আসনি তবু ছুটে গেছি বারে বার।
ফিরেছি শূণ‍্য হাতে অবাক বিস্ময়ে
কেউ নেই কোথাও নেই। 
আবার যন্ত্রনা বুকে। 
কেন এমন হয় হিসেব মেলেনা  যে।
যখন বয়ে যায় বসন্ত বাতাস, বার্তা নিয়ে সুন্দরের। 
নীল আকাশ রয়ে যায় নির্মলের প্রতীক হয়ে।
বর্ষা আসে শুদ্ধতা নিয়ে।
গ্রীষ্মের দহন শুধু পাওনা আমার,
এ কেমন বিচার তোমার।
সময় হলনা আসার।
একা একা চলে যায় দিন
আশা নিয়ে বুকে,  দিন গিয়ে রাত। ফিরে আসে সকাল।
তারুন‍্য ফিকে হয়। সায়াহ্ণ ঘনায়।
মনে হয় কেউ থাকলে ভাল হত।কত কথা বুকে জমা। 
কারুকে এ জীবনে হয়নি বলা। 
আজ মনে হয় জীবন নদীর কিনারায়,
এ বরং  ভালই হল তোমার না আসায়।
নিজের শক্তিকে জেনেছি, বিধি নিষেধের  বেড়াজালে যে কখন বন্দী থাকেনি।
একাকিত্ব শিখিয়েছে আমায়    আমি পারি  আমি সব পারি। 
ভাগ্যিস আসনি ।
আকাশ পানে বাড়াই হাত উচ্চ কন্ঠে বলি,
সাদা কালো নীল ধূসর যে রঙেই আসুক ধরা,
উড়তে আমার  নেই মানা।আকাশ আমি হাতের মুঠোয় ধরি।
আমি স্বাধীন আমি মুক্ত আমি পরিযায়ী পাখী ।

কবিতা-৪

মৃত্যুঞ্জয় 
নাহিদ ফারজানা 

অভিমানে ঘর জুড়ে 
না জানি কত অন্ধকার লুকোচুরি খেলে 
তবু এই ঘরে 
আঁধারকেই সঙ্গী লাগে চোখ বুজতে গেলে।
 যুগ যুগান্তরের এই ঘর 
সৃষ্টির আদি রহস্য বর্ননা করে চলে। 
অন্তরের আলিঙ্গন থেকে মুক্ত হলে 
বন্ধনকে অতিক্রম করে গেলে 
তখন কে এল বা কে গেল ছায়া পড়ে কই ? 
চার পাশের কোলাহল স্তব্ধ হয়ে গেলে, 
বইয়ের ফাঁকে খুঁজে পাওয়া 
এক আধ পংক্তি এলোমেলো 
কাঁপতে থাকা মোমের আলোয়
 হয়তোবা ভেসে ওঠে চোখের ছায়ায়
 তারপরও বেঁচে থাকা বড্ড মায়াবী লাগে । 
এই পৃথিবীর যত সব নব নব লুকানো সম্পদ 
ধীরে ধীরে মেলে ধরে আবার রাঙিয়ে তোলে 
সব অন্ধকার মুছে দিয়ে রঙের আভাসে 
সব রূপ ঢেলে দেয় বিস্তীর্ণ ঘাসে।

 

কবিতা-৫

রাজাকারের মতো ভুল দেশপ্রেমিকের ছায়ায়
প্রেম ভেসে যায় আদিম বনোজলে
এই শহরে এখনো বৃষ্টি ঝরে
পথ-ঘাট যায় ভিজে যত্রতত্র
অমাবস্যায় গ্রহণ লেগে
চাঁদের মৃত্যুতে আকাশে নামে অন্ধকার
যখন-তখন যোনির মানচিত্র
ভেঙ্গে যায় নষ্ট বীর্য্য'ঘাতে
সীমান্ত থেকে সীমান্তর ভূগোল ল্যাপ্টে থাকে
বেশ্যার বুকের নোঙ্গরে
অন্ধকার আলোয় মাতাল ডুবে যায়
যেখানে সীমান্ত বিহীন বুনো গন্ধে
জেগে থাকে প্রহরীর রাইফেল!

- রাশেদ চেীধুরী

 

কবিতা-৬

সেই তো তুমি
সবুর খান স্বপন

সেই তো তুমি, আমার প্রিয়া
তুমি চলো উত্তপ্ত রাজপথে 
ভাসো স্লোগানের মাথে
গলে যাওয়া তপ্ত পীচের ভাপে॥

আমার প্রিয়ার আঁচলে বাঁধা জন্মভূমির চাবি, মুক্তির দীপালী আরতির,
আমার প্রিয়ার নখে আঁকা রক্তের রাজটিকা 
বিপ্লবী মিছিলের আগে পতাকার রঙ।
আমি দেখি না,
দেখিনা তাকে উড়ে বেড়াতে শরতের মেঘে মেঘে 
অথবা স্বচ্ছ সকালের রোদ গায়ে মেখে!
সে 
সুন্দরা, সুন্দরা
পর্ষণ‍্য- স্পর্শ-বিদ‍্যুত- ধন‍্যা, উত্তরা
অপ্সরা, সুন্দরা।
সমাজ পিশাচের থুথুতে ভিজে
আমার প্রিয়া শ্রাবণের ভেজা কাক
নিরন্তর বর্ণের ভাষ‍্য-বিলাস।

আমার প্রিয়ার শাড়ীর পাড়ে ভবিষ্যৎ রাজপথ
খুন কার্পেটে রক্তকরবী মোড়া ॥
মেহনতী সৈনিকের আগে আমার প্রিয়া॥
সেতো তুমিই , যাকে মেনেছি আমার প্রিয়া॥