সাহিত্যিকের মেলবন্ধন ‘শব্দচাষী’ —আজহারুল ইসলাম আল আজাদ
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
বাংলা সাহিত্য পত্রিকা ‘শব্দচাষী’ আধুনিকতার এক অমোঘ জাগরণ। বাংলা সাহিত্য ইতিহাসে কিছু পত্রিকা আছে, যেগুলো শুধু প্রকাশনা নয়—একটি সময়, একটি আন্দোলন এবং একটি মানসিক বিপ্লবের নাম। শব্দচাষী তেমনই একটি সাহিত্য পত্রিকা। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দশক পেরিয়ে প্রকাশিত এই পত্রিকাটি বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার বীজ বপন করে চলেছে এবং প্রথাগত সাহিত্যচর্চার বিরুদ্ধে এক সাহসী প্রতিবাদ গড়ে তোলেছে শব্দচাষী’ শুধু একটি সাহিত্য পত্রিকা নয়, এটি এ যুগের তরুণ প্রজন্মের কণ্ঠস্বর। আবির্ভাব ও সময়কাল ‘শব্দচাষী পত্রিকার প্রথম প্রকাশ ২০২২ সালে রাজারহাট- কুড়িগ্রাম,বাংলাদেশ থেকে । বর্তমানে বাংলার সমাজ ও সাহিত্য এক অদ্ভুত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রভাব সর্বব্যাপী, তাঁর সাহিত্য বাংলা ভাষাকে আন্তর্জাতিক মর্যাদা দিয়েছে-যা নিয়ে আমরা গর্বিত।রবীন্দ্র - নজরুল বাংলাকে আঁচল ভরিয়ে সাজিয়েছেন কিন্তু বর্তমানে তরুণ লেখকদের একাংশ অনুভব করছেন যে, রবীন্দ্র- নজরুল প্রভাবের ছায়ায় নতুন অভিজ্ঞতা, নগরজীবনের সংকট, ব্যক্তিমানুষের দ্বন্দ্ব ও শরীরী বাস্তবতা উপেক্ষিত হয়ে যাচ্ছে। এই বোধ থেকেই জন্ম নেয় "শব্দচাষী।"বাংলা সাহিত্যের বিশাল চারণভূমিতে 'ছোট কাগজ' বা লিটল ম্যাগাজিন সবসময়ই নতুন চিন্তা ও দ্রোহের বীজ বপন করে আসছে।এই ধারায় এক নবীন ও সম্ভাবনাময় সংযোজন কবি বিপুল চন্দ্র রায় সম্পাদিত সাহিত্য পত্রিকা 'শব্দচাষী'। ২০২২ সালের ১৪ই আগস্ট অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে।
শুরুতে এটি 'বাংলার শব্দচাষী' নামে আত্মপ্রকাশ করলেও বর্তমানে এটি 'শব্দচাষী' নামেই সমধিক পরিচিত। এর মূল লক্ষ্য হলো সাহিত্যের মাধ্যমে দেশ জাতির কল্যানে কাজ করা, লোকজ ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং বাংলা ভাষাকে বিশ্বদরবারে পরিচিত করা। ডিজিটাল যুগে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাংলাভাষী পাঠকদের কাছে মানসম্পন্ন সাহিত্য পৌঁছে দেওয়াই এই ছোট কাগজটির মূল ব্রত। পত্রিকাটি অত্যন্ত অল্প সময়ে দেশ বিদেশের বাংলা ভাষাভাষী সাহিত্যপ্রেমীদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। এটি কেবল একটি পত্রিকা , বরং অরাজনৈতিক ও অলাভজনক সাহিত্যিক আন্দোলন।
সাংগঠনিক কাঠামো ও প্রকাশনা একটি বলিষ্ঠ সম্পাদনা পর্ষদ ও উপদেষ্টা মণ্ডলীর মাধ্যমে পত্রিকাটি পরিচালিত হয়। বিপুল চন্দ্র রায় নিজে এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। উপদেষ্টা মণ্ডলীর প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন কবি সাহিত্যিক আজহারুল ইসলাম আল আজাদ।
নামকরণ ও উদ্দেশ্য শব্দচাষী-শব্দটা শুনলেই একটা সুন্দর রূপক চোখে ভাসে। একটু ভেঙে বলি। শব্দচাষী বলতে মূলত সেই মানুষটিকেই বোঝানো হয়, যিনি শব্দকে বীজের মতো বোনেন, পরিচর্যা করেন, আর শেষে অর্থ ও অনুভূতির ফসল তোলেন। যেমন একজন কৃষক মাটি চষে বীজ বোনে, তেমনি শব্দচাষী ভাষার জমিনে শব্দ বুনে দেন।
শব্দচাষীর বৈশিষ্ট্যঃ তিনি শব্দ বাছাই করেন খুব সচেতনভাবে শব্দের ভেতরের অর্থ, অনুভূতি, সুর ও নীরবতা বোঝেন শব্দকে শুধু সাজান না, শব্দের মাধ্যমে ভাবনা, প্রতিবাদ, প্রেম বা বেদনা তুলে ধরেন কারা শব্দচাষী? কবি কথাসাহিত্যিক,প্রাবন্ধিক গীতিকার এমনকি একজন সংবেদনশীল বক্তাও শব্দচাষী হতে পারেন। রূপক অর্থে শব্দচাষী মানে কেবল লেখক নন-তিনি সমাজের কথা বলেন, মানুষের না-বলা কষ্টকে ভাষা দেন,শব্দ দিয়ে প্রশ্ন তোলেন, আবার শব্দ দিয়েই আশ্রয় বানান। এক কথায়,যিনি শব্দ দিয়ে মানুষকে ভাবতে শেখান, অনুভব করান, জাগিয়ে তোলেন- তিনিই শব্দচাষী।
‘শব্দচাষীর নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে তারুন্যের চেতনা-কালো কালিতে রুপালি কাগজে শত কলমের আগামী আকাঙ্খা। পত্রিকার উদ্দেশ্য হলো সাহিত্যে নতুন ভাষা, নতুন বিষয় ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠা করা। শব্দচাষীর লেখকেরা বিশ্বাস করেন, সাহিত্য কেবল সৌন্দর্যবোধের বিষয় নয়; এটি জীবনের কাঁচা, নগ্ন, কঠিন বাস্তবতার প্রতিফলনও হতে পারে।
‘শব্দচাষী পত্রিকাকে ঘিরে গড়ে ওঠেছে একদল তরুণ লেখক, যাঁরা পরবর্তীতে অনেকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে শব্দচাষীর শব্দচাষী থেকে পরিচিত হন। শব্দচাষী সাহিত্যিকদের মেলবন্ধন অটুট রাখেন।


















