ম্যানচেস্টার সিটির শিরোপা কেড়ে নেওয়া উচিত, বললেন স্টিভেন জেরার্ড
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে ম্যানচেস্টার সিটির শিরোপা কেড়ে নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন লিভারপুলের কিংবদন্তি স্টিভেন জেরার্ড। তাঁর মতে, সিটির বিরুদ্ধে এমন শাস্তি দেওয়া উচিত, যা ফুটবলে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময়ের জন্য পয়েন্ট কাটা ও দলবদলে নিষেধাজ্ঞার মতো শাস্তিও বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করেন সাবেক এই ইংলিশ অধিনায়ক। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে ১০০টির বেশি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলো ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যকার সময়ের। সিটি অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং সংশ্লিষ্ট রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে ক্লাবটির সম্ভাব্য শাস্তির বিষয়টি।
সিটির কী ধরনের শাস্তি হওয়া উচিত, তা নিয়ে ‘দ্য ওভারল্যাপ’ পডকাস্টে কথা বলেন জেরার্ড। নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, অভিযুক্ত সময়ে সিটির কারণে অন্য দলগুলো যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, শাস্তির ক্ষেত্রেও ক্লাবটিকে তেমন ভোগান্তির মুখোমুখি করা উচিত। জেরার্ডের ভাষায়, ‘আমার অনুভূতির কথা যদি বলেন, আমার ওপরও এর সম্ভাব্য প্রভাব থাকতে পারে। তবে আমি চাই না কোনো খেলোয়াড় ব্যক্তিগতভাবে তাদের পদক বা স্মারক ফেরত দিক, সেটা ঠিক হবে না।’
এরপর লিভারপুলের সাবেক অধিনায়ক বলেন, ‘কিন্তু তাদের শিরোপাগুলো কেড়ে নিতে হবে। একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা দরকার। অতীতে তাদের অর্জিত সাফল্যগুলোর পাশে কোনো তারকাচিহ্ন বা অন্য কিছু যুক্ত করা হোক, যাতে শিরোপা কেড়ে নেওয়া হোক বা না হোক—তা আর কোনো বিষয় হয়ে দাঁড়ায় না। কারণ, একবার সেই চিহ্ন বসে গেলে সবাই জেনে যাবে যে আমরা যা জানি, ঠিক সে কারণে সেই সাফল্য এসেছে।’
অবনমন নিয়ে আপত্তি, দীর্ঘমেয়াদি শাস্তির পক্ষে জেরার্ড
ম্যানচেস্টার সিটিকে শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে ইংলিশ ফুটবলের অন্য দলগুলোর স্বার্থও বিবেচনায় নেওয়া উচিত বলে মনে করেন জেরার্ড। তাঁর মতে, সিটিকে নিচের বিভাগে নামিয়ে দেওয়া হলে চ্যাম্পিয়নশিপের দলগুলোর জন্য নতুন জটিলতা তৈরি হতে পারে। এতে ওই বিভাগ থেকে প্রিমিয়ার লিগে ওঠার সুযোগ পাওয়া দলগুলোর হিসাবেও প্রভাব পড়তে পারে।
এ বিষয়ে জেরার্ড বলেন, ‘সঠিক শাস্তিটা কী, তা আমি জানি না...তারা নামতে বাধ্য হলে চ্যাম্পিয়নশিপের দলগুলোর প্রতি অবিচার হবে, কারণ তখন তারা ওপরের স্তরে উঠে আসা তিন দলের একটি হবে। এতে চ্যাম্পিয়নশিপের একটা কোটা নষ্ট হবে এবং সেটা ইএফএলের (ইংলিশ ফুটবল লিগ) দলগুলোর প্রতিও অবিচার হবে। অথবা প্রতি সপ্তাহে যারা সিটির বিরুদ্ধে খেলছে, তাদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।’
তবে সিটির বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি শাস্তির পক্ষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন জেরার্ড। বয়সভিত্তিক দলসহ লিভারপুলে ২৬ বছর কাটানো এই সাবেক ফুটবলারের মতে, দলবদলে নিষেধাজ্ঞা ও দীর্ঘ সময় ধরে পয়েন্ট কাটার মতো শাস্তি বিবেচনা করা যেতে পারে।
জেরার্ড বলেন, ‘এটা আমার ব্যক্তিগত মত, বলছি না এটাই সঠিক মত, তবে আমি এভাবেই অনুভব করছি। আমার মনে হয়, একটা দলবদল নিষেধাজ্ঞা (ট্রান্সফার ব্যান) এবং দীর্ঘ সময় ধরে পয়েন্ট কাটা উচিত। তারা গত নয়-দশ বছর সবাইকে যেভাবে ভুগিয়েছে, তাদেরও ঠিক সেভাবে ভোগাতে হবে।’
সিটির খেলোয়াড়দের প্রতি ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই
আপিলপ্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে সিটি দোষী প্রমাণিত হলে ক্লাবটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজেদের কাজের পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে মনে করেন ৪৬ বছর বয়সী জেরার্ড। তবে সিটির খেলোয়াড়দের প্রতি তাঁর কোনো ব্যক্তিগত বিদ্বেষ নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।
জেরার্ড বলেন, ‘আমার কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই, কারণ তারা সবাই অসাধারণ খেলোয়াড়। তারা মুহূর্তগুলো উপভোগ করেছে এবং ট্রফিগুলো তাদের প্রাপ্য ছিল।’
সিটির বিরুদ্ধে অভিযোগের সময়কালের মধ্যে ২০১৩-১৪ মৌসুমও রয়েছে। সে মৌসুমে জেরার্ডের অধিনায়কত্বে লিভারপুল প্রিমিয়ার লিগে রানার্সআপ হয়েছিল। শিরোপা জিতেছিল ম্যানচেস্টার সিটি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে জেরার্ডের মন্তব্যে লিভারপুলের সেই মৌসুমের প্রসঙ্গও সামনে এসেছে।
কোচিংয়েও কাজ করেছেন লিভারপুল কিংবদন্তি
খেলোয়াড়ি জীবনের সিংহভাগ সময় লিভারপুলে কাটিয়েছেন জেরার্ড। ক্লাব ছাড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস গ্যালাক্সিতে দুই বছর খেলেন তিনি। পরে কোচিংয়ে যোগ দিয়ে লিভারপুলের বয়সভিত্তিক দলের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর স্কটল্যান্ডের রেঞ্জার্স, ইংল্যান্ডের অ্যাস্টন ভিলা এবং সৌদি আরবের আল-ইত্তিফাকের কোচ হিসেবে কাজ করেন। গত বছর পারস্পরিক সমঝোতায় আল-ইত্তিফাকের দায়িত্ব ছাড়েন তিনি।
ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো গুরুত্বপূর্ণ। সিটি অভিযোগগুলো অস্বীকার করে আপিল করেছে। তাই সম্ভাব্য শাস্তি নিয়ে জেরার্ডের মন্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত মতামত হিসেবেই বিবেচ্য; ক্লাবটির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়টি নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার ওপর। সূত্র: দ্য ওভারল্যাপ পডকাস্ট; প্রথম আলো



















