নতুন প্রজন্মের প্রতীক: জাইমা রহমান কি বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব?
উত্তম কুমার সাহা :
বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবার ও উত্তরাধিকার—এই দুই শব্দ বরাবরই আলোচিত। সেই প্রেক্ষাপটে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর মেয়ে জাইমা রহমানকে ঘিরে কৌতূহল, প্রত্যাশা ও আলোচনা দিন দিন বাড়ছে। তিনি সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয় না হলেও, সামাজিক ও শিক্ষামূলক বিভিন্ন পরিসরে তার উপস্থিতি নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে।
জাইমা রহমান মূলত শিক্ষা ও ব্যক্তিগত বিকাশকে অগ্রাধিকার দিয়েই নিজের পরিচয় নির্মাণের চেষ্টা করেছেন। পরিবারগত রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে নিজস্ব একাডেমিক ও পেশাগত পরিচয় গড়ে তোলার প্রবণতা তার মধ্যে লক্ষণীয়। ফলে অনেকেই মনে করেন, তিনি চাইলে ভবিষ্যতে রাজনীতিতে প্রবেশ করলেও সেটি হবে প্রস্তুতিপর্ব পেরিয়ে—একটি সচেতন সিদ্ধান্ত হিসেবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে পারিবারিক ধারাবাহিকতা নতুন কিছু নয়। তবে বর্তমান প্রজন্মের ভোটাররা কেবল বংশপরিচয় নয়, যোগ্যতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দেন। সে বিচারে জাইমা রহমান যদি ভবিষ্যতে সক্রিয় ভূমিকা নেন, তবে তাকে একটি ভিন্ন রাজনৈতিক ভাষা ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগোতে হবে।
অন্যদিকে বিএনপির তৃণমূলের একাংশ মনে করেন, নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব সামনে আনা সময়ের দাবি। তাদের মতে, তরুণ নেতৃত্ব দলের সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। যদিও দলীয়ভাবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই।
সমালোচকরা অবশ্য মনে করিয়ে দেন—রাজনীতি শুধু পরিচয়ের বিষয় নয়; এটি দীর্ঘ সংগ্রাম, জনসম্পৃক্ততা ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার পথ। তাই জাইমা রহমানের সম্ভাব্য রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা থাকলেও, বাস্তবতা নির্ভর করবে তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ও জনসম্পৃক্ততার ওপর।
সব মিলিয়ে, জাইমা রহমান এখনো সরাসরি রাজনীতির ময়দানে না নামলেও, তিনি আলোচনার কেন্দ্রে। তিনি কি কেবল একজন রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি হিসেবেই পরিচিত থাকবেন, নাকি নিজস্ব আদর্শ ও কর্মদক্ষতায় নতুন পরিচয় নির্মাণ করবেন—সেই উত্তর সময়ই দেবে।


















