Logo

ইউএসএ নিউজ    >>   নাগরিক অধিকার আন্দোলনের অগ্রনায়ক রেভারেন্ড জেসি জ্যাকসন আর নেই: সমতা ও ন্যায্যতার সংগ্রামে এক যুগের অবসান

নাগরিক অধিকার আন্দোলনের অগ্রনায়ক রেভারেন্ড জেসি জ্যাকসন আর নেই: সমতা ও ন্যায্যতার সংগ্রামে এক যুগের অবসান

নাগরিক অধিকার আন্দোলনের অগ্রনায়ক রেভারেন্ড জেসি জ্যাকসন আর নেই: সমতা ও ন্যায্যতার সংগ্রামে এক যুগের অবসান

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা ও সমাজকর্মী Jesse Jackson (৮৪) আর নেই। স্থানীয় সময় ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এক বিবৃতিতে তাঁর পরিবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক কারণ জানানো না হলেও জানা যায়, ২০২৫ সালের এপ্রিলে তাঁর শরীরে বিরল স্নায়বিক রোগ প্রগ্রেসিভ সুপ্রানিউক্লিয়ার পালসি (PSP) শনাক্ত হয়। এর আগে ২০১৫ সালে তিনি পারকিনসন রোগে আক্রান্ত হওয়ার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন।
১৯৪১ সালে সাউথ ক্যারোলাইনার গ্রিনভিলে জন্ম নেওয়া জ্যাকসন তরুণ বয়স থেকেই সামাজিক ন্যায়বিচারের আন্দোলনে যুক্ত হন। ১৯৬০-এর দশকে তিনি Southern Christian Leadership Conference-এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং কিংবদন্তি নেতা Martin Luther King Jr.-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। ১৯৬৮ সালে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র আততায়ীর গুলিতে নিহত হওয়ার সময় জ্যাকসন তাঁর সঙ্গেই ছিলেন।
জেসি জ্যাকসন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি ১৯৮৪ ও ১৯৮৮ সালে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন নিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে আফ্রিকান-আমেরিকান রাজনৈতিক অগ্রযাত্রায় এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি সামাজিক ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকারের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করেন Rainbow PUSH Coalition।
জ্যাকসনের মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট Barack Obama তাঁকে “একজন সত্যিকারের মহীরুহ” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তাঁর ঐতিহাসিক প্রেসিডেন্ট প্রচারই নতুন প্রজন্মের নেতাদের অনুপ্রাণিত করেছে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট Bill Clinton ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী Hillary Clinton বলেন, তিনি মানব মর্যাদা ও সমতার জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন।
বর্তমান প্রেসিডেন্ট Donald Trump শোক প্রকাশ করে বলেন, তিনি সাহসী ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ ছিলেন।
নাগরিক অধিকার নেতা Al Sharpton বলেন, “তিনি আমাদের শিখিয়েছেন—আমাদের আশা বাঁচিয়ে রাখতে হবে।”
মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের কন্যা Bernice King তাঁর জীবনকে প্রান্তিক মানুষের জন্য নিবেদিত সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে আখ্যা দেন।
জেসি জ্যাকসন স্ত্রী জ্যাকলিন জ্যাকসন ও ছয় সন্তান রেখে গেছেন। তাঁর ছেলে Jesse Jackson Jr. যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কংগ্রেসম্যান।
নাগরিক অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানব মর্যাদার পক্ষে জেসি জ্যাকসনের দীর্ঘ সংগ্রাম তাঁকে ইতিহাসে অমর করে রাখবে। তাঁর প্রয়াণে যুক্তরাষ্ট্র হারালো এক অদম্য কণ্ঠস্বর, আর বিশ্ব হারালো সমতার এক অবিচল সৈনিক।