ন্যায়, মর্যাদা ও একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের প্রতি সম্মানের আহ্বান
ডা. আজিজ:
বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড—সংগীত, নাটক, কবিতা ও চিত্রকলা—কখনোই কেবল বিনোদনের মাধ্যম ছিল না। এগুলো আমাদের রাজনৈতিক চেতনা, জাতীয় পরিচয় এবং সামাজিক মূল্যবোধ গঠনে এমন এক গভীর ও সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রেখেছে, যা বিশ্বে বিরল।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ কেবল অস্ত্রের লড়াই ছিল না; এটি ছিল সংস্কৃতিরও এক ঐতিহাসিক সংগ্রাম। সংগীত, কবিতা, নাটক, বেতার সম্প্রচার ও চিত্রকলার মাধ্যমে বাঙালি জাতি প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, সাহস সঞ্চয় করেছিল এবং স্বাধীনতার স্বপ্নকে অম্লান রেখেছিল। সাংস্কৃতিক অঙ্গন হয়ে উঠেছিল ঐক্যের হাতিয়ার, প্রেরণার উৎস এবং জাতীয় পরিচয়ের শক্ত ভিত্তি।
এই ঐতিহ্যের ধারক-বাহকদের মধ্যে অন্যতম উজ্জ্বল নাম আসাদুজ্জামান নূর। তিনি কেবল একজন অভিনেতা নন; তিনি বাংলাদেশের নাট্যআন্দোলন, সাংস্কৃতিক জাগরণ ও জনসম্পৃক্ত শিল্পচর্চার এক প্রতীকী ব্যক্তিত্ব। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তিনি মঞ্চ, টেলিভিশন, আবৃত্তি এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক মূল্যবোধের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন।
ন্যায়বিচার, সংস্কৃতি ও মানব মর্যাদায় বিশ্বাসী একজন নাগরিক হিসেবে আমি তাঁর আটকাদেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। একজন প্রবীণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তাঁর বয়স, স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন এবং জাতির প্রতি আজীবন অবদানের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিনীত আহ্বান জানাই—তাঁর অবিলম্বে জামিন মঞ্জুর ও মুক্তির ব্যবস্থা করা হোক, যাতে তিনি যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেন, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পারেন এবং তাঁর সাংস্কৃতিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে সক্ষম হন। একই সঙ্গে তাঁর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও আইনগত অধিকার নিশ্চিত করা হোক—এটাই একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্রের প্রত্যাশিত আচরণ।
সংস্কৃতি আমাদের জাতির আত্মা। সেই আত্মার প্রতিনিধিদের প্রতি সম্মান ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
কলামিস্ট ডা.আজিজ, লংআইলেন্ড,নিউইয়র্ক।


















