Logo

ইউএসএ নিউজ    >>   হারিয়ে যাওয়া সূর্যনগরীর ইতিহাস: মায়া সভ্যতার উত্থান, জ্ঞান ও রহস্যময় পতন

হারিয়ে যাওয়া সূর্যনগরীর ইতিহাস: মায়া সভ্যতার উত্থান, জ্ঞান ও রহস্যময় পতন

হারিয়ে যাওয়া সূর্যনগরীর ইতিহাস: মায়া সভ্যতার উত্থান, জ্ঞান ও রহস্যময় পতন

উত্তম কুমার সাহা:
মধ্য আমেরিকার ঘন অরণ্য, উঁচু পিরামিড আর রহস্যময় শিলালিপির ভেতর লুকিয়ে আছে এক বিস্ময়কর অতীত—Maya civilization। খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ২০০০ সাল থেকে শুরু করে প্রায় দেড় হাজার বছর ধরে এই সভ্যতা শিল্প, বিজ্ঞান, গণিত ও জ্যোতির্বিজ্ঞানে এমন অগ্রগতি অর্জন করেছিল, যা সেই সময়ের পৃথিবীতে বিরল ছিল।
বর্তমান মেক্সিকোর ইউকাতান উপদ্বীপে গড়ে উঠেছিল সমৃদ্ধ নগরী Chichén Itzá। এখানকার বিখ্যাত পিরামিড ‘এল কাস্তিয়ো’ আজও প্রাচীন জ্ঞানের সাক্ষী। বছরে দু’বার বিষুব দিনে সূর্যের আলো এমনভাবে পিরামিডের সিঁড়িতে পড়ে যে মনে হয় এক বিশাল সাপ ধীরে ধীরে নেমে আসছে—যা ছিল তাদের দেবতা কুকুলকানের প্রতীক। এই স্থাপত্য কেবল ধর্মীয় বিশ্বাস নয়, জ্যোতির্বিজ্ঞানের সূক্ষ্ম জ্ঞানকেও তুলে ধরে।


অন্যদিকে, গুয়াতেমালার জঙ্গলে অবস্থিত Tikal ছিল এক শক্তিশালী নগররাষ্ট্র। উঁচু মন্দির, রাজপ্রাসাদ ও বিশাল প্রাঙ্গণে ভরপুর এই শহর রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তির কেন্দ্র ছিল। রাজারা নিজেদের কীর্তি পাথরে খোদাই করতেন, যা আজ ইতিহাসের মূল্যবান দলিল।
মায়ারা জ্যোতির্বিদ্যায় ছিল অসাধারণ দক্ষ। তারা তৈরি করেছিল অত্যন্ত নিখুঁত একটি পঞ্জিকা—Mayan calendar—যার মাধ্যমে সূর্যগ্রহণ, চন্দ্রগ্রহণ ও গ্রহের গতিপথ নির্ণয় করা সম্ভব হতো। তারা শূন্যের ধারণা ব্যবহার করত এবং জটিল গণনা করত অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে। তাদের এই বৈজ্ঞানিক দক্ষতা প্রমাণ করে যে জ্ঞানচর্চা ছিল তাদের সভ্যতার অন্যতম ভিত্তি।


তবে নবম শতাব্দীর দিকে এসে বহু বড় শহর হঠাৎ করেই পরিত্যক্ত হয়ে যায়। দীর্ঘ খরা, পরিবেশগত বিপর্যয়, অতিরিক্ত জনসংখ্যা, অভ্যন্তরীণ সংঘাত কিংবা যুদ্ধ—বিভিন্ন কারণের কথা গবেষকেরা উল্লেখ করেন। নিশ্চিত কারণ আজও অজানা। জঙ্গল ধীরে ধীরে পিরামিড ও প্রাসাদ গ্রাস করে নেয়, আর এক মহিমান্বিত অধ্যায় ঢেকে যায় সময়ের আবরণে।


তবু মায়া সভ্যতা সম্পূর্ণ বিলীন হয়নি। আজও মেক্সিকো, গুয়াতেমালা, বেলিজ ও হন্ডুরাসে লক্ষ লক্ষ মায়া বংশধর তাদের ভাষা ও সংস্কৃতি ধারণ করে আছেন। তাদের ঐতিহ্য প্রমাণ করে—সভ্যতা কেবল স্থাপত্যে নয়, মানুষের স্মৃতি ও সংস্কৃতিতেই বেঁচে থাকে।
মায়া সভ্যতার ইতিহাস আমাদের শেখায়—জ্ঞান ও উন্নতি যতই হোক, প্রকৃতির সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা না করলে কোনো শক্তিই চিরস্থায়ী নয়।