Logo

অপরাধ    >>   দুর্গাপূজার আগে ৩৪ মণ্ডপে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ, ৩৬৫ দিনের নিরাপত্তা দাবি সংখ্যালঘুদের

দুর্গাপূজার আগে ৩৪ মণ্ডপে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ, ৩৬৫ দিনের নিরাপত্তা দাবি সংখ্যালঘুদের

দুর্গাপূজার আগে ৩৪ মণ্ডপে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ, ৩৬৫ দিনের নিরাপত্তা দাবি সংখ্যালঘুদের

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:

শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতির মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৩৪টি পূজামণ্ডপে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি। এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ, দোষীদের বিচার এবং ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠন দুটি।

বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য ও দাবি তুলে ধরা হয়। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।

সভায় নেতারা আশা প্রকাশ করেন, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও নির্বিঘ্নে উদযাপিত হবে। তাঁদের মতে, ঈদ, পূজা, বড়দিন, বুদ্ধপূর্ণিমাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবে সব সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ বাঙালির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। তাঁরা এমন একটি অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনের আহ্বান জানান, যেখানে মানুষ ভয়ভীতি ও অতিরিক্ত নিরাপত্তার ওপর নির্ভর না করেই নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারবেন।

মতবিনিময় সভায় লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস (সাধন)। সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী ও কাজল দেবনাথ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার, উপদেষ্টা বীরেশ চন্দ্র সাহা এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথসহ অন্য নেতারা।

পূজার পাঁচ দিন নয়, সারা বছর নিরাপত্তার দাবি

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দুর্গাপূজার প্রস্তুতির সময় সিলেট, রাজবাড়ী, পঞ্চগড়, নেত্রকোনা ও টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলায় দুর্গাপ্রতিমা ও মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ফরিদপুরে একটি ঐতিহ্যবাহী কালীমন্দিরে চুরির পাশাপাশি সুনামগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, দোকানপাট ও মন্দিরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলেও উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া নওগাঁয় গোয়েন্দা বিভাগের কর্মচারী পরিচয়ে ডাকাতির খবর পাওয়ার কথা জানানো হয়।

সংগঠন দুটির নেতারা জানান, এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে এবং অনেক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তাঁদের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁদের মতে, কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার ওপর নির্ভর না করে রাষ্ট্রের অসাম্প্রদায়িক চেতনা জোরদার ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বন্ধ করতে হবে।

নেতারা বলেন, শুধু দুর্গাপূজার পাঁচ দিনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করলেই চলবে না; বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য বছরের ৩৬৫ দিন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশ এবং অপরাধীদের বিচারের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, দেশজুড়ে দুর্গাপূজার আয়োজন নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা এবং নিরাপত্তায় কোনো ঘাটতি না রাখার আশ্বাস দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোও সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে পূজা আয়োজনের জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ২২ দফা নির্দেশনা পাঠিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ।

সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় আট দফা দাবি

সভায় ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের স্বার্থ, অধিকার ও অস্তিত্ব রক্ষায় আট দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন এবং সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা।

এ ছাড়া অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। এ ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে ট্রাইব্যুনালের রায় অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভুক্তভোগীদের জমির মালিকানা ও দখল ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে সরকার, সংসদ ও জনপ্রতিনিধিত্বশীল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব ও অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করার দাবিও তোলা হয়।

অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে দেবোত্তর সম্পত্তি সংরক্ষণে আইন প্রণয়ন, বৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়ন, হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টকে ফাউন্ডেশনে রূপান্তর এবং শারদীয় দুর্গাপূজায় অষ্টমী থেকে দশমী পর্যন্ত তিন দিনের ছুটি সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দেবোত্তর সম্পত্তি সংরক্ষণ ও বৈষম্য বিলোপ আইনের খসড়া বিল ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। সূত্র: সমকাল