সুজন দাশ-এর তিনটি কবিতা
সুজন দাশ-এর তিনটি কবিতা
বৈশাখ দিয়ে যাত্রা শুরু
বৈশাখ দিয়ে আমরা করি নতুন দিনের যাত্রা,
ঐক্যে জাগে সবার হৃদয় ভিন্নতা পায় মাত্রা!
বাঙ্গালীদের এটাই হল সবচে' বড় উৎসব,
ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে থাকে সবার এক রব।
দূর আগামীর ছবি আঁকি দুঃখ বিপদ ঘুচতে,
স্বপ্নডানায় ভেসে ভেসে যাই হতাশা মুছতে,
ছায়ানটে বর্ষবরণ দেয় প্রাণে সুর ছন্দ,
কৃষ্টি ঝরা বৃষ্টিতে পাই মায়ের শাড়ির গন্ধ!
চলে এদিন পান্তা ইলিশ ঐতিহ্যকে আনতে,
চারুকলার কারুকলায় সবকিছু পাই জানতে।
মেলা খেলার আসর জমে গ্রামও শহর গঞ্জে,
দেয় রাঙিয়ে ভাবনা সবার ভরেও ওঠে মন যে!
দেখা হলেই শুভেচ্ছা দিই বলি নববর্ষ,
প্রাণে প্রাণে বয়ে বেড়ায় আনন্দ সুখ হর্ষ!
মানতে যারা চায়না এটা বলি ওদের মূর্খ,
জল ছাড়া মাছ বাঁচে নাকি? চিন্তা কর সূক্ষ্ম।
স্বাধীনতা
স্বাধীনতা আকাশ পাড়ে মুক্ত ডানার চিল,
পরিযায়ীর স্বপ্ন ছোঁয়া বিচরণের ঝিল।
মায়ের কোলে শুয়ে শিশুর নির্ভাবনার ঘুম,
ইচ্ছে খুশির কিচ্ছে কথা আদর মাখা চুম।
স্বাধীনতা ঐক্য তারে সখ্য গড়ার সুর,
বিভেদ মাঠে মিলন বাঁশি ঘুচায় মনের দূর।
নিঝুম বনে শান্ত বায়ু পাখির কন্ঠে গান,
দেয় পরিচয় স্বকীয়তা মর্যাদা আর মান।
স্বাধীনতা দেয় অধিকার খুঁজতে নিজের সুখ,
রয় ক্ষমতা মত প্রকাশের আসলে বাধা দুখ।
এক পতাকার ছায়ার নিচে একটি সুখের দেশ,
সবাই নিয়ে বাঁচার স্বপ্ন আঁকে প্রাণের রেশ!
স্বাধীনতা মনের কোণে দেয় চেতনার ভিত,
দীপ্ত প্রাণে তৃপ্ত সুখের গাইতে শেখায় গীত।
স্বাধীনতা কিনতে গেলে হয়ও দিতে দাম,
নইলে ভোগে দেশের মানুষ বয় ও পরিনাম।
কোথায় এখন স্বাধীনতা?
স্বাধীনতা পরাজিতের
বিজেতারা মরছে ভাতে,
জয় বাংলা বললে এখন
তেড়ে আসে মারতে হাতে!
অগ্নিঝরা স্বাধীনতায়
লাগাচ্ছে রং চুনও কালি,
পি-পি করে নেতার মাথায়
উল্লাসে আজ দিচ্ছে তালি।
সাতই মার্চের ভাষণ এখন
বাজালে তার বিপদ আছে,
শুনলে মাথা হেঁট হয়ে যায়
বলতে যাব কাদের কাছে?
মুক্তিযোদ্ধার গলায় এখন
পাচ্ছে শোভা জুতোর মালা,
হায় বাঙালি থাক ঘুমিয়ে
ভুলবি তবে লজ্জা জ্বালা!
দেশের মানুষ পাল্টে গেছে
লজ্জা লাগে বলতে খুলে,
মুছে দিতে চায় ওরা সব
করছে আঘাত রোজই মূলে!


















