Logo

ইউএসএ নিউজ    >>   ৩৫তম নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা ২০২৬—উদ্বোধনে আসছেন কথাসাহিত্যের মহারথী ইমদাদুল হক মিলন

৩৫তম নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা ২০২৬—উদ্বোধনে আসছেন কথাসাহিত্যের মহারথী ইমদাদুল হক মিলন

৩৫তম নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা ২০২৬—উদ্বোধনে আসছেন কথাসাহিত্যের মহারথী ইমদাদুল হক মিলন

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :
প্রবাসী বাঙালির বহুল প্রতীক্ষিত সাংস্কৃতিক মহাযজ্ঞ—নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা—তার ৩৫তম আসরে যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন মাত্রা। আগামী ২২ মে থেকে যুক্তরাষ্ট্রের New York City-এর Jamaica Performing Arts Center-এ শুরু হতে যাওয়া এই চারদিনব্যাপী আয়োজনে উদ্বোধক হিসেবে যোগ দিচ্ছেন বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী কথাশিল্পী ইমদাদুল হক মিলন।
মুক্তধারা ফাউন্ডেশন আয়োজিত এই বইমেলা উত্তর আমেরিকায় বাঙালির অন্যতম বৃহৎ সাহিত্য-সংস্কৃতির মিলনমেলা হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত। ৩৫তম এই বিশেষ আসরকে ঘিরে ইতোমধ্যেই প্রবাসী বাংলা ভাষাভাষীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বইমেলার ইতিহাসও সমৃদ্ধ ও গৌরবময়। গত ৩৪ বছরে বাংলা সাহিত্যের অসংখ্য দিকপাল এই মেলার উদ্বোধন করে এর মর্যাদা বাড়িয়েছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন হাসান আজিজুল হক, পবিত্র সরকার, সেলিনা হোসেন, আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, সৈয়দ শামসুল হক, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এবং হুমায়ূন আহমেদ প্রমুখ।
চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ইমদাদুল হক মিলন তাঁর শক্তিশালী ও মানবিক লেখনীর মাধ্যমে দুই বাংলার পাঠকদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে আছেন। গ্রামীণ জীবনের সূক্ষ্ম বাস্তবতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং মানুষের অন্তর্গত আবেগ তাঁর রচনায় জীবন্ত হয়ে ওঠে। তাঁর কালজয়ী উপন্যাস নূরজাহান বাংলা সাহিত্যে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।
সাহিত্যের পাশাপাশি সাংবাদিকতায়ও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। তিনি দীর্ঘদিন শীর্ষস্থানীয় দৈনিক কালের কণ্ঠ-এর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে প্রধান সম্পাদক হিসেবে কর্মরত। তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক এবং বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারসহ বহু দেশি-বিদেশি সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
আয়োজকরা মনে করছেন, এবারের বইমেলায় তাঁর উপস্থিতি প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে এবং বাংলা সাহিত্যচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করবে। বইমেলা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৩৫তম এই আসর উত্তর আমেরিকায় বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রসারে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে, এবারের নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা শুধু একটি আয়োজন নয়—এটি প্রবাসে বাংলা ভাষার ঐতিহ্য, সাহিত্যিক উত্তরাধিকার এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের এক গৌরবময় উদযাপন হতে যাচ্ছে।