নারী শক্তি, নারী মুক্তি—প্রিমা হোসাইন
প্রিমা হোসাইন:
দেশ ও জাতির প্রতিটি গভীর সংকটে নারী সমাজ বারবার প্রমাণ করেছে—নারী কেবল সহনশীল নয়, নারী প্রতিরোধ ও অগ্রগতির প্রতীক। অসীম ধৈর্য, দায়িত্ববোধ ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে নারীরা পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। মিল, ফ্যাক্টরি, কলকারখানা থেকে শুরু করে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ও বৈদেশিক কর্মক্ষেত্রে নারীদের শ্রম ও মেধা আজ দেশের অর্থনীতির এক শক্ত ভিত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
চিকিৎসা, শিক্ষা, আইন, প্রশাসন, সরকারি-বেসরকারি চাকরি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক অঙ্গন এবং সমাজসেবায় নারীদের অবদান অপরিসীম। রাজনৈতিক অঙ্গনেও নারীরা দক্ষ নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন এবং নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে আপোষহীন অবস্থান ধরে রেখেছেন। নারীর অগ্রযাত্রাই আজ সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি।
অথচ দুঃখজনক বাস্তবতা হলো—জামাত-ই-ইসলামি ধর্মের অপব্যাখ্যা ও তথাকথিত ইসলামী শাসনের নামে নারীদের ওপর নির্যাতন, নিপীড়ন ও জুলুম চালানোর অপচেষ্টা করছে। যেসব দেশে শরিয়া আইনের নামে কঠোরতা আরোপ করা হয়েছে, সেখানে নারীদের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়ে তাদের গৃহবন্দী করে রাখার নির্মম চিত্র দেখা যায়। এই দমননীতি মানবিকতা, ন্যায়বিচার ও সভ্যতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিও গভীর উদ্বেগজনক। মৌলবাদী, উগ্রপন্থী ও জঙ্গি সন্ত্রাসীদের তৎপরতা বেড়ে চলেছে। অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনুসের অবৈধ ক্ষমতা দখলের পর দেশ ক্রমেই অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে। মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে, গণতন্ত্রের নামে চলছে প্রতারণা এবং গণমাধ্যমের বাকস্বাধীনতা কার্যত রুদ্ধ।
এই দুঃশাসন, অপশাসন ও অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে নারী সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে জাগ্রত হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—যুগে যুগে নারীরাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকেছে। আজও দেশকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে নারীদের সক্রিয় ও সাহসী ভূমিকা অপরিহার্য।
অতএব, অবৈধ নির্বাচন বর্জন করুন। প্রহসনের সাজানো-পাতানো তথাকথিত গণভোট প্রত্যাখ্যান করুন। ন্যায়, মানবাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে দৃঢ় অবস্থান নিন।
আজকের অবস্থানই আগামী দিনের নারী মুক্তির মূলমন্ত্র।
প্রিমা হোসাইন, সমাজসেবিকা


















