Logo

অপরাধ    >>   চোরাই গরুর মাংসে ইফতার! ওসমানীনগরে তোলপাড়, লজ্জায় যুক্তরাজ্য ফিরে গেলেন প্রবাসী উদ্যোক্তা

চোরাই গরুর মাংসে ইফতার! ওসমানীনগরে তোলপাড়, লজ্জায় যুক্তরাজ্য ফিরে গেলেন প্রবাসী উদ্যোক্তা

চোরাই গরুর মাংসে ইফতার! ওসমানীনগরে তোলপাড়, লজ্জায় যুক্তরাজ্য ফিরে গেলেন প্রবাসী উদ্যোক্তা

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :
সিলেটের ওসমানীনগরে চুরি করা গরু জবাই করে সেই মাংস দিয়ে ইফতার মাহফিল আয়োজনের অভিযোগে পুরো উপজেলাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নের গলমুখাপন গ্রামে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় বইছে।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মঙ্গলবার আয়োজিত ওই ইফতার মাহফিলে কয়েকটি গ্রামের প্রায় সহস্রাধিক রোজাদার অংশ নেন। স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন। তবে পরে জানা যায়, ইফতারে পরিবেশিত গরুর মাংসটি ছিল চুরি করা—যা প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় শুরু হয় ব্যাপক ক্ষোভ ও বিতর্ক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গলমুখাপন গ্রামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ইউনাইটেড গলমুখাপন ট্রাস্ট’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আজাদ আহমদ সাদ মিয়ার পরিবারের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আহমদ মধু ও সাধারণ সম্পাদক বুরহান মিয়া সার্বিক তদারকির দায়িত্বে ছিলেন।
ইফতারের আগের দিন একই গ্রামের নাজমুল ইসলামের একটি গরু পাশের মাঠ থেকে নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও গরুটির কোনো সন্ধান পাননি তিনি।
অভিযোগ ওঠে, যুক্তরাজ্য প্রবাসী আহমদ মধু ইফতারের জন্য তার বাড়ির কেয়ারটেকার সাঈদীকে তিনটি গরু কেনার জন্য অর্থ প্রদান করেন। কিন্তু কেয়ারটেকার গরু না কিনে নিখোঁজ হওয়া নাজমুল ইসলামের গরুটিই ধরে এনে জবাই করেন এবং সেই মাংস দিয়েই ইফতার পরিবেশন করা হয়।
বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি জানাজানি হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামবাসী প্রবাসীর বাড়িতে গিয়ে কৈফিয়ত দাবি করেন। পরে বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা যায়, জবাই করা গরুটি প্রকৃতপক্ষে নাজমুল ইসলামেরই।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর প্রবাসী আহমদ মধু তাৎক্ষণিকভাবে গরুর মালিককে নগদ ৭০ হাজার টাকা প্রদান করে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, পুরো ঘটনায় তিনি সরাসরি জড়িত নন এবং কেয়ারটেকারের প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে সেটি ভাইরাল হয়ে যায় এবং নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।
বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে শুক্রবার রাতেই তিনি যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে দেশত্যাগ করেন বলে স্থানীয়রা জানান। অন্যদিকে অভিযুক্ত কেয়ারটেকার সাঈদী ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন।
গ্রামবাসীর ভাষ্য, দানশীল ব্যক্তি হিসেবে এলাকায় পরিচিত আহমদ মধু এই ঘটনার কারণে নিজে ও তার পরিবার সামাজিকভাবে চরম বিব্রত অবস্থায় পড়েছেন।
এ বিষয়ে ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুরশেদুল আলম ভূঁইয়া জানান, এখনো পর্যন্ত থানায় আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি শুধু একটি ইফতার আয়োজনের বিতর্ক নয়—বরং গ্রামীণ সামাজিক আস্থা, প্রবাসীদের ভাবমূর্তি এবং স্থানীয় সংগঠনগুলোর দায়বদ্ধতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সূত্র: ইত্তেফাক