চট্টগ্রাম সমিতির উদ্যোগে ট্যাক্স ও ইমিগ্রেশন বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার—প্রবাসী বাংলাদেশিদের আইনগত সচেতনতায় নতুন উদ্যোগ
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
“সকলের তরে সকলে, আমরা প্রত্যেকে আমরা পরের তরে”—এই মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার মর্মবাণীকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ আঞ্চলিক সংগঠন চিটাগাং এসোসিয়েশন অফ নর্থ আমেরিকা ইনকর্পোরেটেড প্রথমবারের মতো ট্যাক্স ও ইমিগ্রেশন—এই দুইটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে একটি সচেতনতামূলক সেমিনারের আয়োজন করেছে।
গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রবিবার চট্টগ্রামবাসীর হৃদস্পন্দন হিসেবে পরিচিত নিউইয়র্কের চার্চ–ম্যাকডোনাল্ড এলাকায় অবস্থিত চট্টগ্রাম ভবনে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। চরম বৈরী আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে সন্ধ্যা সাতটার কিছু পর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের বর্তমান সভাপতি মোহাম্মদ আবুতাহের এবং পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের দুই কৃতি সন্তান—বিশিষ্ট সিপিএ শ্রাবনী সিং এবং প্রখ্যাত ইমিগ্রেশন এটর্নি খাইরুল বাশার। উল্লেখ্য, উভয় অতিথিই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে নিজ নিজ পেশায় সক্রিয় রয়েছেন। সম্প্রতি শ্রাবনী সিং চার্চ–ম্যাকডোনাল্ড এলাকার ৪৭৫ ম্যাকডোনাল্ড এভিনিউ ঠিকানায় তাঁর নতুন অফিস কার্যক্রম শুরু করেছেন। অপরদিকে ইমিগ্রেশন এটর্নি খাইরুল বাশার দীর্ঘদিন ধরে জ্যাকসন হাইটসের ৭২-৩২ ব্রডওয়ে, সুইট–৩০২ থেকে তাঁর অভিজ্ঞ সেবা প্রদান করে আসছেন।
পবিত্র কোরআন ও গীতা পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। কোরআন তেলাওয়াত করেন সমিতির ক্রীড়া সম্পাদক মোহাম্মদ ঈসা এবং গীতা পাঠ করেন কার্যকরী কমিটির সদস্য শ্রী পল্লব রায়।
স্বাগত বক্তব্যে সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম সমিতির বর্তমান নেতৃত্ব গতানুগতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে এসে নতুন ও জনকল্যাণমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আজকের এই সেমিনার সেই নতুন পথচলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। অদূর ভবিষ্যতে প্রবাসী চট্টগ্রামবাসীর কল্যাণে আরও কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
সেমিনারের পূর্বপর্বে বক্তব্য রাখেন ট্রাস্টি বোর্ডের কো-চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিঠু, অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ নুরুল আনোয়ার, অডিট কমিটির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ ইব্রাহিম দিপু প্রমুখ। এছাড়া বর্তমান কার্যকরী কমিটির পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন যুগ্ম সম্পাদক মাস্টার মোহাম্মদ কলিমুল্লাহ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি আলহাজ্ব টি আলম, অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ শফিকুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক তানিম মহসিন, অফিস সম্পাদক অজয় প্রসাদ তালুকদার, কার্যনির্বাহী সদস্য মাস্টার নাছির ও মহিম উদ্দিনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সেমিনারের মূল পর্বে প্রথমে ট্যাক্স বিষয়ক আলোচনা করেন অভিজ্ঞ সিপিএ শ্রাবনী সিং। তিনি একজন নাগরিকের জীবনে ট্যাক্সের গুরুত্ব তুলে ধরে ‘ওয়ান বিউটিফুল বিল’-এর বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, সাময়িক লাভের আশায় ট্যাক্স রিটার্নে ভুল বা অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্য প্রদান করলে ভবিষ্যতে গুরুতর আইনি জটিলতায় পড়তে হতে পারে। ট্যাক্স ফাইলিংয়ের ক্ষেত্রে পেশাদার সিপিএদের সহায়তা নেওয়ার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন এবং উপস্থিত দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
এরপর শুরু হয় ইমিগ্রেশন বিষয়ক আলোচনা পর্ব। এই অংশটি উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট ইমিগ্রেশন এটর্নি ও ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার খাইরুল বাশার। সাম্প্রতিক সময়ে ইমিগ্রেশন আইনে পরিবর্তনের কারণে উপস্থিতিদের আগ্রহ ছিল লক্ষণীয়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন আইনে সাম্প্রতিক পরিবর্তন, বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এবং ইউএসসিআইএসের বর্তমান নির্দেশনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, এখনো অনেক বিষয় অস্পষ্ট থাকলেও অচিরেই সেসব পরিষ্কার হবে বলে তিনি আশাবাদী।
এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে আইসিই (ICE) কর্তৃক বিভিন্ন হয়রানির ক্ষেত্রে প্রবাসীরা কীভাবে আইনগতভাবে নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারেন, সে বিষয়েও তিনি দিকনির্দেশনা দেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সভাপতি মোহাম্মদ আবুতাহের উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রমে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। রাতের খাবার পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সেমিনারের কার্যক্রম সমাপ্ত হয়।


















