Logo

ইউএসএ নিউজ    >>   নিউইয়র্কে উদীচীর বর্ণাঢ্য আয়োজনে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন — ৭১-এর চেতনায় প্রগতির লড়াই অব্যাহত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার

নিউইয়র্কে উদীচীর বর্ণাঢ্য আয়োজনে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন — ৭১-এর চেতনায় প্রগতির লড়াই অব্যাহত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার

নিউইয়র্কে উদীচীর বর্ণাঢ্য আয়োজনে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন — ৭১-এর চেতনায় প্রগতির লড়াই অব্যাহত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
প্রবাসে বাঙালির হৃদয়ে স্বাধীনতার চেতনা আরও একবার উজ্জ্বল হয়ে উঠলো নিউইয়র্কে। গত ২৯ মার্চ ২০২৬, রবিবার বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, যুক্তরাষ্ট্র সংসদের উদ্যোগে সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে উৎসবমুখর ও আবেগঘন পরিবেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে মহান স্বাধীনতা দিবস। এ আয়োজনে অংশ নেন মুক্তিযোদ্ধা, প্রগতিশীল চিন্তাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিরা—যা প্রবাসে এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।


বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস কেবল একটি ঐতিহাসিক দিন নয়; এটি একটি জাতির আত্মমর্যাদা, আত্মত্যাগ এবং মুক্তির অনন্য মহাকাব্য। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সাম্য, মানবিকতা, গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িকতার অটল ভিত্তির ওপর। সেই চেতনার ধারাবাহিকতায় “৭১-এর চেতনায় সমাজ প্রগতির লড়াই চলবেই”—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে উদীচীর এ আয়োজন প্রবাসেও নতুন প্রেরণা জাগায়।


অনুষ্ঠানের শুরুতে সংগঠনের সভাপতি ক্লারা রোজারিওর সভাপতিত্বে এবং সুপর্না সরকারের সঞ্চালনায় বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর অনুষ্ঠিত আলোচনা পর্বে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের প্রচার সম্পাদক উত্তম কুমার সাহা, সাধারণ সম্পাদক কল্লোল দাশ, জ্যামাইকা শাখার সভাপতি আশীষ রায় ও সাধারণ সম্পাদক হিরো চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক খোরশেদুল ইসলাম, সালেহা ইসলাম, একুশে চেতনা পরিষদ যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বায়ক ড. ওবায়েদুল্লাহ মামুন, প্রগ্রেসিভ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বাচ্চু, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মিনহাজ আহমেদ সাম্মু, গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক সৈয়দ জাকির আহমেদ রনি, বীর মুক্তিযোদ্ধা রতন কর্মকার, কমিউনিটি নেতা ভিক্টর এলাহী লিয়াকত, আবৃত্তি শিল্পী সুচরিত দত্ত, সাংস্কৃতিক সম্পাদক সুলেখা পালসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।


বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং স্বাধীনতার প্রকৃত চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সংগঠনের সাংস্কৃতিক সম্পাদক সুলেখা পাল, সদস্য মুনমুন সাহা ১৯৭১ মুক্তিযুদ্ধে তাদের পরিবার ও বাবার আত্মত্যাগের কথা বক্তব্যে তুলে ধরেন । এছাড়াও সংগঠনের আরেক সদস্য বিশেষ করে স্নিগ্ধা আচার্য তাঁর পরিবারের আত্মত্যাগের করুণ স্মৃতি তুলে ধরলে পুরো মিলনায়তন আবেগে আপ্লুত হয়ে ওঠে—যা উপস্থিত সবার হৃদয়কে নাড়া দেয়।


আলোচনা পর্ব শেষে অনুষ্ঠিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠানটিকে প্রাণবন্ত করে তোলে। উদীচীর শিল্পী সুলেখা পাল, স্নিগ্ধা আচার্য, ফুলু রায়, সুপর্না সরকার রিমা, মুনমুন সাহা, শুভ্রা নন্দি এবং সংগীতশিল্পী আয়শা খানের কণ্ঠে দেশাত্মবোধক গান ও আবৃত্তি দর্শকদের গভীরভাবে নাড়া দেয়। সংগীত পরিচালক রফিকুল ইসলাম সানার পরিচালনায় এবং সুচরিত দত্তের তবলায় পরিবেশনা অনুষ্ঠানে এক অনন্য মাত্রা যোগ করে।


বক্তারা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে দেশের প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত হিসেবে কাজ করে আসছে। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠন মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী গণতান্ত্রিক আন্দোলনগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সংস্কৃতিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় উদীচীর অবদান সুপ্রতিষ্ঠিত।


তারা আরও বলেন, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, যুক্তরাষ্ট্র সংসদ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে—সাংস্কৃতিক আন্দোলনের শক্তিতেই সমাজ ও দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে উদীচীর সদস্যরা ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের পক্ষে নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।


উদীচী নেতৃবৃন্দ দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন যে, তারা সবসময় স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেবে, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরবে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে জীবন্ত রাখতে সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে আরও বেগবান করবে। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মাঝে দেশপ্রেম, ইতিহাসবোধ ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করাই হবে তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।