Logo

ইউএসএ নিউজ    >>   মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বৈষম্যহীন মানবিক সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের ৫৫ তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বৈষম্যহীন মানবিক সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের ৫৫ তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বৈষম্যহীন মানবিক সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের ৫৫ তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস শুধু একটি তারিখ নয়—এটি একটি জাতির আত্মপরিচয়, আত্মত্যাগ এবং মুক্তির গৌরবগাঁথা। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি যে স্বাধীনতা অর্জন করে, তার মূল ভিত্তি ছিল সাম্য, মানবিকতা, গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িকতার আদর্শ। সেই চেতনার ধারাবাহিকতায় “বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক সমাজ আমাদের লক্ষ্য”—এই অঙ্গীকারকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হলো বাংলাদেশের ৫৫ তম স্বাধীনতা দিবস।

গত ২৮ মার্চ ২০২৬, শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় জ্যাকসন হাইটসের জুইস সেন্টারে প্রগ্রেসিভ ফোরাম ইউএসএ’র উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যাপক উপস্থিতি এক আবেগঘন ও গৌরবময় পরিবেশের সৃষ্টি করে। আলোচনা সভা, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সংগীত, কবিতা আবৃত্তি ও নাট্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে পুরো আয়োজনটি হয়ে ওঠে ইতিহাসচেতনা ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের এক অনন্য মেলবন্ধন।

অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে প্রগ্রেসিভ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বাচ্চুর সঞ্চালনায় এবং সভাপতি হাফিজুল হকের সভাপতিত্বে এক প্রাণবন্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় বিশিষ্টজনেরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্ব এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে গভীর বিশ্লেষণধর্মী বক্তব্য প্রদান করেন। 

বক্তব্য রাখেন স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ নিউইয়র্ক কোর্টল্যান্ডের অর্থনীতির অধ্যাপক ডঃ বিরূপাক্ষ পাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক খোরশেদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডিন ও খ্যাতিমান কবি অধ্যাপক হোসাইন কবির, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক কল্লোল দাশ এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সংগীত শিল্পী তাহমিনা শহিদ।
কবিতা আবৃত্তি করেন রঞ্জন ও ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত বর্ষবরণ ও মঙ্গল শোভাযাত্রা পর্ষদের সদস্য সচিব মোজাহিদ আনসারী, সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন, সাবেক ছাত্রনেতা আখতার হোসেন, আবুল হোসেন এবং মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হোসেন।
নবীন প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করে বক্তব্য রাখেন নিশাত হাসান, নাদিয়া হাসান, প্রজ্ঞাত্তম  সাহা প্রজ্ঞা ও সুবর্ণ রহমান—যা অনুষ্ঠানে নতুন প্রজন্মের সম্পৃক্ততা ও সচেতনতার একটি ইতিবাচক দিক তুলে ধরে।

আলোচনা পর্ব শেষে শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যা পুরো আয়োজনকে নতুন মাত্রা প্রদান করে। 
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও উপস্থাপিকা সাবিনা হাই উর্বির উপস্থাপনায় Proggattom Saha Progga পরিবেশন করেন “সূর্যোদয়ে তুমি, সূর্যাস্তে তুমি”—তবলা ও ভায়োলিনের অনন্য সমন্বয়ে গানটি উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। সংগীত পরিচালক রফিকুল ইসলাম সানা তবলায় এবং আবৃত্তি শিল্পী মুনমুন সাহা হারমোনিয়ামে সঙ্গত দেন।

নৃত্য পরিবেশনায় অংশ নেন কাব্য, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর শিল্পী সুলেখা পাল, স্নিগ্ধা আচার্য, লিলি মজুমদার, ফুলু রায়, সুপর্না সরকার রিমা, মুনমুন সাহা ও শুভ্রা নন্দি। সংগীত পরিচালক রফিকুল ইসলাম সানার পরিচালনায় এবং আবৃত্তি শিল্পী সুচরিত দত্তের তবলায় পরিবেশনা ছিল অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও দর্শকনন্দিত।
এরপর পরিবেশিত হয় নাটিকা “সোনার ছেলে” (শিল্পাঙ্গন), যেখানে অভিনয় করেন দীপ্তি বড়ুয়া, রাফিয়া নিশি, ডঃ মো. নজরুল ইসলাম এবং আহসান উল্লাহ—যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশপ্রেমের বার্তা বহন করে।

ডঃ মো. নজরুল ইসলাম ও রাফিয়া নিশি কবিতা ও গান পরিবেশন করেন। এছাড়া কবিতা আবৃত্তি করেন প্রমোদ রঞ্জন সরকার , রতন কর্মকার ও মহিলা পরিষদ যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ সম্পাদক সুলেখা পাল একক কবিতা আবৃত্তি করে দর্শকদের আবেগাপ্লুত করেন।
সংগীত পরিবেশন করেন ফুলু রায় চৌধুরি, সংগীত শিল্পী আয়েশা খান, সুপর্না সরকার ও স্নিগ্ধা আচার্য। 
এরপর সংগীত পরিচালক রফিকুল ইসলাম সানার পরিচালনায় বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সমবেত সংগীত পরিবেশনা ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা বাস্তবায়নে আমাদের পথচলা এখনো চলমান। বৈষম্য, সাম্প্রদায়িকতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের মাধ্যমেই একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রবাসে বসবাসরত নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়—যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশপ্রেম, মানবিকতা ও অসাম্প্রদায়িকতার পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে।