Logo

ইউএসএ নিউজ    >>   নিউইয়র্কে গণহত্যা দিবসে আলোর মিছিল: ২৫ মার্চের শহীদদের স্মরণে প্রবাসে দীপ্ত শপথ ও শ্রদ্ধাঞ্জলি

নিউইয়র্কে গণহত্যা দিবসে আলোর মিছিল: ২৫ মার্চের শহীদদের স্মরণে প্রবাসে দীপ্ত শপথ ও শ্রদ্ধাঞ্জলি

নিউইয়র্কে গণহত্যা দিবসে আলোর মিছিল: ২৫ মার্চের শহীদদের স্মরণে প্রবাসে দীপ্ত শপথ ও শ্রদ্ধাঞ্জলি

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
‘২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষে নিউইয়র্কে গভীর শ্রদ্ধা ও শোকের মধ্য দিয়ে আলোচনা, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং আলোর মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজন করে সম্মিলিত বর্ষবরণ ও মঙ্গল শোভাযাত্রা উদযাপন পর্ষদ, নিউইয়র্ক।
গত ২৫ মার্চ ২০২৬, বুধবার রাতে জ্যাকসন হাইটসের ডাইভার্সিটি প্লাজায় অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও প্রগতিশীল সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে নিহত সকল শহীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।


সংগঠনের আহ্বায়ক সৈয়দ মোহাম্মদউল্লাহর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মুজাহিদ আনসারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে সংক্ষিপ্ত আলোচনা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট উত্তর আমেরিকার প্রতিনিধি মিথুন আহমেদ এবং উদীচী যুক্তরাষ্ট্র সংসদের সভাপতি ক্লারা রোজারিও।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন একুশের চেতনা পরিষদের সভাপতি ওবায়দুল্লাহ মামুন, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক কাজল মাহমুদ, গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক সৈয়দ জাকির আহমেদ রনি, সৈয়দ মিজানুর রহমান।

উদীচী যুক্তরাষ্ট্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক কল্লোল দাশ, মহিলা পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক সুলেখা পাল, উদীচী জ্যামাইকা শাখার সভাপতি আশীষ রায় ও সাধারণ সম্পাদক হিরো চৌধুরী, প্রগ্রেসিভ ফোরাম ইউএসএ’র সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বাচ্চু, অনুপ ড্যান্স একাডেমী নিউইয়র্কের আল্পনা গুহ, শিল্পকলা একাডেমী যুক্তরাষ্ট্রের মিলন কুমার রায়, গাইবান্ধা সোসাইটি অব আমেরিকার প্রতীমা সরকার ও দীলিপ মোদক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব স্বপন দত্ত, বাচিক শিল্পী গোপন সাহা, সম্মিলিত বর্ষবরণ ও মঙ্গল শোভাযাত্রা উদযাপন পর্ষদের যুগ্ম আহ্বায়ক সনজীবন কুমার, সুমন আলম, সৈয়দ মিজানুর রহমান, সাবিনা হাই উর্বি, সংবাদপত্র প্রজ্ঞার সম্পাদক উত্তম সাহা, সংগঠক আবুল হোসেনসহ আরও অনেক সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংগঠক।


সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ মোহাম্মদউল্লাহ বলেন, “গণহত্যার মতো জঘন্য অপরাধ করে কোনো শক্তিই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে না। ইতিহাস প্রমাণ করে, এসব অপরাধীদের পরিণতি পরাজয়। শহীদের আত্মত্যাগ আমাদের দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমকে আরও শক্তিশালী করে।”
বক্তারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের ভয়াল রাতের স্মৃতিচারণ করে বলেন, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর গণহত্যা চালায়। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়।


তারা নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এই ইতিহাস শুধু স্মরণ করার জন্য নয়, বরং তা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মানবতা, ন্যায় ও সত্যের পথে এগিয়ে নিতে হবে।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও আলোর মিছিলের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। প্রবাসের মাটিতে এই আয়োজন বাঙালির ইতিহাস, চেতনা ও আত্মপরিচয়ের এক উজ্জ্বল প্রতিফলন হিসেবে উপস্থিত সকলকে আবেগাপ্লুত করে তোলে।