Logo

আন্তর্জাতিক    >>   ভারতে নিষিদ্ধ চীনা সিসিটিভি: নিরাপত্তা জোরদারে বড় পদক্ষেপ

ভারতে  নিষিদ্ধ চীনা সিসিটিভি: নিরাপত্তা জোরদারে বড় পদক্ষেপ

ভারতে নিষিদ্ধ চীনা সিসিটিভি: নিরাপত্তা জোরদারে বড় পদক্ষেপ

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:

ভারত সরকার ১ এপ্রিল ২০২৪ থেকে চীনা ভিডিও নজরদারি সরঞ্জামের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে যাচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে Hikvision, Dahua Technology এবং TP-Link-সহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের ইন্টারনেট-সংযুক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা ভারতে আর বিক্রি করা যাবে না।

কেন এই সিদ্ধান্ত?

ভারতের Ministry of Electronics and Information Technology (MeitY) ২০২৪ সালের এপ্রিলে সিসিটিভি ক্যামেরার জন্য নতুন Essential Requirements (ER) মান চালু করে। এই নিয়ম অনুযায়ী:

* সব সিসিটিভি পণ্যকে Standardisation Testing and Quality Certification (STQC) ল্যাবে পরীক্ষা করাতে হবে।
* নির্মাতাদের ব্যবহৃত চিপসেট ও গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের উৎস ঘোষণা করতে হবে।
* ডিভাইসগুলোর সাইবার নিরাপত্তা দুর্বলতা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক।

সরকারের মতে, অনেক চীনা ব্র্যান্ড এসব মান পূরণে ব্যর্থ হয়েছে—বিশেষ করে যেসব ক্যামেরা ইন্টারনেট সংযুক্ত এবং চীনা চিপসেট ব্যবহার করে, সেগুলোতে ডেটা নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকতে পারে।

বাজারে প্রভাব

ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার স্পষ্টভাবে হিকভিশন, দাহুয়া ও টিপি-লিংকের তৈরি পণ্য এবং চীনা চিপসেট ব্যবহার করা পণ্যকে সার্টিফাই করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। কারণ তাদের সিসিটিভি ইন্টারনেট সংযুক্ত এবং চীনা চিপসেট ব্যবহার করে। গত বছর পর্যন্ত ভারতের মোট সিসিটিভি বিক্রির প্রায় এক-তৃতীয়াংশই চীনা ছিল। তবে নতুন সিদ্ধান্তের পর সিপি প্লাস, কিউবো, প্রামা, ম্যাট্রিক্স ও স্পর্শের মতো দেশীয় ব্র্যান্ডের বিক্রি বাড়বে। তাইওয়ানি চিপসেট ব্যবহারকারী এসব কোম্পানির ৮০ শতাংশের বেশি বাজার দখল করেছে। ভারতের উচ্চমানের বাজারে এখনো যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বশ ও হানিওয়েলের মতো ব্র্যান্ড শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।

এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য:

* সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা
* সংবেদনশীল ডেটা সুরক্ষা নিশ্চিত করা
* “আত্মনির্ভর ভারত” নীতির আওতায় দেশীয় প্রযুক্তি খাতকে এগিয়ে নেওয়া

সরকারি অফিস, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং বেসরকারি খাত—সব জায়গাতেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু নিরাপত্তা নয়, বরং ভারতের প্রযুক্তি বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। দেশীয় কোম্পানিগুলোর জন্য এটি একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: The Economic Times, ডব্লিউআইওএন নিউজ।