Logo

আন্তর্জাতিক    >>   মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি খোলা চিঠি: দেশের সংবিধান, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন পুনরুদ্ধারের জরুরি আহ্বান

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি খোলা চিঠি: দেশের সংবিধান, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন পুনরুদ্ধারের জরুরি আহ্বান

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি খোলা চিঠি: দেশের সংবিধান, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন পুনরুদ্ধারের জরুরি আহ্বান

খোলা চিঠি

প্রতি: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ

বিষয়: দেশের সংবিধান, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন পুনরুদ্ধারের জরুরি আহ্বান

আসসালামু আলাইকুম,
আমরা, এই দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ, গভীর উদ্বেগ ও দায়িত্ববোধ থেকে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রশাসনিক অস্থিরতা এবং সাংবিধানিক কাঠামোর অবমাননা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অনিশ্চিত বাস্তবতা তৈরি করছে।
সংবিধান একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। এর প্রতি অবমাননা শুধু একটি রাজনৈতিক ইস্যু নয়—এটি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব, নাগরিক অধিকার এবং গণতান্ত্রিক চেতনার ওপর সরাসরি আঘাত। আমরা লক্ষ্য করছি, বর্তমান ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর নানা কর্মকাণ্ড দেশের সাংবিধানিক ভারসাম্য, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীন মতপ্রকাশ এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে। ইতোমধ্যে দেশের অর্থনৈতিক খাতে অস্থিতিশীলতা, বিনিয়োগে স্থবিরতা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট এবং কর্মসংস্থানের অভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আমাদের সুস্পষ্ট দাবিসমূহ:
১. সাংবিধানিক লঙ্ঘন ও রাষ্ট্রীয় সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার:
দেশের সম্পদ বিনষ্ট, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যু, এবং সংবিধানবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগসমূহ একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনের মাধ্যমে অনুসন্ধান করে দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
২. অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও স্বচ্ছ আর্থিক নীতি প্রণয়ন:
জাতীয় অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে একটি জাতীয় ঐকমত্যভিত্তিক অর্থনৈতিক রোডম্যাপ প্রণয়ন জরুরি। বৈদেশিক ঋণ, রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
৩. গণমাধ্যম ও বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ:
সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ, ভিন্নমত দমন ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ নিরসন করতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অবিচ্ছেদ্য।
৪. বিতর্কিত ও অস্বচ্ছ আন্তর্জাতিক চুক্তির পুনর্মূল্যায়ন:
জাতীয় স্বার্থবিরোধী বা জনস্বার্থের পরিপন্থী কোনো চুক্তি হয়ে থাকলে তা সংসদীয় পর্যালোচনার মাধ্যমে বাতিল বা সংশোধন করতে হবে। রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব কোনোভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে না।
৫. উগ্রবাদ, সন্ত্রাস ও সহিংস রাজনীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি:
যে কোনো উগ্রপন্থী বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের আইনি সহায়তা ও প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
আমরা বিশ্বাস করি, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের কণ্ঠস্বরই চূড়ান্ত শক্তি। তাই দেশের সার্বিক স্বার্থে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তায় এবং সংবিধানের মর্যাদা রক্ষায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জোর আহ্বান জানাচ্ছি।
ইতিহাস সাক্ষী—যে জাতি তার সংবিধান ও ন্যায়বিচারকে রক্ষা করে, সেই জাতিই টিকে থাকে মর্যাদার সাথে।
ধন্যবাদান্তে,
প্রাইমা হোসাইন
বিশিষ্ট সমাজসেবিকা ও নারী উদ্যোক্তা ।