Logo

আন্তর্জাতিক    >>   ৭০ বছরের হাকিমের সঙ্গে ২২ বছরের তরুণীর বিয়ে: ‘মনটা তরুণ থাকলেই হয়’—সমালোচনার মাঝেও দৃঢ় দম্পতি

৭০ বছরের হাকিমের সঙ্গে ২২ বছরের তরুণীর বিয়ে: ‘মনটা তরুণ থাকলেই হয়’—সমালোচনার মাঝেও দৃঢ় দম্পতি

৭০ বছরের হাকিমের সঙ্গে ২২ বছরের তরুণীর বিয়ে: ‘মনটা তরুণ থাকলেই হয়’—সমালোচনার মাঝেও দৃঢ় দম্পতি

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :
পাকিস্তানের Rawalpindi শহরের চাকলালা স্কিম-৩ এলাকায় ৭০ বছর বয়সী হাকিম বাবর ও ২২ বছর বয়সী এক তরুণীর বিয়ে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বয়সের প্রায় পাঁচ দশকের ব্যবধানকে কেন্দ্র করে গত এক সপ্তাহ ধরে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে স্থানীয় মহল থেকে শুরু করে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে।
স্থানীয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও ইউটিউবাররা দম্পতির বাসায় গিয়ে ভিডিও ধারণ করলে বিষয়টি আরও ভাইরাল হয়ে পড়ে। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া সাক্ষাৎকারে হাকিম বাবর জানান, তাদের বিয়ে পারিবারিক সম্মতির পাশাপাশি পারস্পরিক ভালোবাসার ভিত্তিতেই সম্পন্ন হয়েছে।
ভিডিও সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,
“আমরা একে অপরকে পছন্দ করতাম। বিশেষ করে আমার স্ত্রীই প্রথমে আমাকে ভালোবাসার কথা জানান। পরে দুই পরিবার কথা বলে শরিয়াহ অনুযায়ী নিকাহ সম্পন্ন করেছি।”
তার পাশে দাঁড়িয়ে তরুণী স্ত্রীও একই বক্তব্য সমর্থন করেন। তিনি জানান, বয়সের পার্থক্য নিয়ে সামাজিক সমালোচনা থাকলেও তাদের সম্পর্কে বোঝাপড়া ও মানসিক মিলই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সমালোচনার জবাবে হাকিম বাবর বলেন,
“বয়স কেবল একটি সংখ্যা। মানুষের মন তরুণ থাকাটাই আসল বিষয়। আমার স্ত্রী তালাকপ্রাপ্ত ছিলেন। তাকে বিয়ে করা ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ এবং এটি আল্লাহর নির্দেশ ও নবীজির সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত। আমি সেই পথ অনুসরণ করেছি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, যারা তাদের বিয়ে নিয়ে কটূক্তি করছেন, তাদের অনেকের জীবনেই নৈতিক বিচ্যুতি রয়েছে। “আমি কোনো অনৈতিক কাজ করিনি। ব্যভিচার করিনি। তাহলে কেন এত নেতিবাচক মন্তব্য?”—প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তরুণী স্ত্রী বলেন, “সত্যিকারের ভালোবাসা তৈরি হলে বয়স কোনো বাধা হতে পারে না। মানুষ যদি প্রকৃত সঙ্গী খুঁজে পায়, তবে বিয়ে করতে দেরি করা উচিত নয়।”
স্থানীয় সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার সমাজে বয়সের বড় ব্যবধানের বিয়ে নতুন নয়, তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের কারণে এখন এমন ঘটনাগুলো দ্রুত ভাইরাল হয় এবং জনমতের তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। বিশেষ করে নারীর বয়স কম হলে বিষয়টি বেশি বিতর্কের জন্ম দেয়।
দম্পতি জানিয়েছেন, আগামী ঈদুল ফিতরের পর তারা প্রথমে Saudi Arabia সফরে গিয়ে ওমরাহ পালন করবেন। এরপর ইউরোপের দেশ Netherlands ভ্রমণের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানে আইন অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্কদের পারস্পরিক সম্মতিতে বিয়ে বৈধ। তবে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে বয়সের বড় ব্যবধানের বিয়ে এখনও বিতর্কিত বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। সূত্র: The Daily Ittefaq।