মানবতার সুরে অমর এক নাম: জর্জ হ্যারিসনের জন্মদিনে বাংলাদেশের কৃতজ্ঞতা
ডা.আজিজ:
২৫ ফেব্রুয়ারি—বিশ্বসংগীতের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের জন্মদিন। তিনি George Harrison—কেবল একজন সংগীতশিল্পী নন, মানবতার পক্ষে উচ্চকণ্ঠ এক সাহসী শিল্পী। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের দুর্দিনে তাঁর অবস্থান ছিল স্পষ্ট, দৃঢ় এবং হৃদয়স্পর্শী। ১৯৭১ সালের আগস্ট মাস। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ তীব্রতর, লাখো শরণার্থী সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আশ্রয় নিচ্ছে। বিশ্বরাজনীতি তখনও দ্বিধাগ্রস্ত, অনেক শক্তিধর রাষ্ট্র নীরব। ঠিক সেই সময়ে ভারতীয় সেতারসম্রাট Ravi Shankar-এর আহ্বানে সাড়া দিয়ে জর্জ হ্যারিসন এগিয়ে আসেন এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ নিয়ে।
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে অবস্থিত Madison Square Garden-এ আয়োজিত হয় ইতিহাসখ্যাত The Concert for Bangladesh। ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত দুটি কনসার্টে প্রায় ৪০,০০০ দর্শক উপস্থিত ছিলেন। মঞ্চে অংশ নেন কিংবদন্তি শিল্পীরা—Bob Dylan, Eric Clapton, Ringo Starr এবং Billy Preston।
এটি ছিল আধুনিক ইতিহাসের প্রথম বৃহৎ আন্তর্জাতিক চ্যারিটি কনসার্ট, যা কেবল তহবিল সংগ্রহই করেনি—বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল বাংলাদেশের মানবিক বিপর্যয়ের দিকে। সংগীত হয়ে উঠেছিল প্রতিবাদের ভাষা, মানবতার সেতুবন্ধন। বাংলাদেশ তখনও স্বাধীন রাষ্ট্র নয়; কিন্তু জর্জ হ্যারিসন তাঁর গান, খ্যাতি ও নৈতিক সাহস দিয়ে বিশ্বকে জানিয়েছিলেন—বাংলাদেশের মানুষের কষ্ট উপেক্ষা করার নয়। তাঁর কণ্ঠে উচ্চারিত “Bangla Desh” গানটি ছিল এক স্পষ্ট রাজনৈতিক ও মানবিক অবস্থান।
তিনি জন্মসূত্রে বাঙালি ছিলেন না, কিন্তু হৃদয়ে তিনি বাঙালি হয়ে উঠেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে তাঁর নাম তাই শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়। যে সময়ে অনেক বিশ্বতারকা নীরব ছিলেন, তিনি ছিলেন উচ্চকণ্ঠ—এক নির্যাতিত জাতির পক্ষে। আজ তাঁর জন্মদিনে বাংলাদেশের মানুষ তাঁকে গভীর ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—একজন শিল্পী কেবল বিনোদন দেন না; তিনি সময়ের বিবেক হয়ে উঠতে পারেন।
জর্জ হ্যারিসন প্রমাণ করে গেছেন, মানবতার পক্ষে দাঁড়ানোই শিল্পের সর্বোচ্চ মর্যাদা।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে তাঁর অবদান চিরঅম্লান—
একজন ব্রিটিশ সংগীতশিল্পী, কিন্তু বাংলাদেশের হৃদয়ে চিরদিনের আপনজন।
কলামিস্ট ডা. আজিজ, লং আইল্যান্ড, নিউইয়র্ক


















