Logo

অপরাধ    >>   এ কে আজাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও দখল-নৈরাজ্যের দ্বিমুখী অভিযোগ: ব্যাংক, এনবিআর ও আরজেএসসিতে ভিন্ন ভিন্ন অডিট—অন্যদিকে পল্লীকবির পৈতৃক জমি দখলের অভিযোগ

এ কে আজাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও দখল-নৈরাজ্যের দ্বিমুখী অভিযোগ: ব্যাংক, এনবিআর ও আরজেএসসিতে ভিন্ন ভিন্ন অডিট—অন্যদিকে পল্লীকবির পৈতৃক জমি দখলের অভিযোগ

এ কে আজাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও দখল-নৈরাজ্যের দ্বিমুখী অভিযোগ: ব্যাংক, এনবিআর ও আরজেএসসিতে ভিন্ন ভিন্ন অডিট—অন্যদিকে পল্লীকবির পৈতৃক জমি দখলের অভিযোগ

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:

হা-মীম গ্রুপের মালিক ও সাবেক সংসদ সদস্য এ কে আজাদের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন, জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান জোরদার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর আগেও পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের পৈতৃক জমি দখলের অভিযোগে এ কে আজাদ ও তাঁর ভাই বিলাল হোসেনের বিরুদ্ধে কবি পরিবারের পক্ষ থেকে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে—যা ক্ষমতার অপব্যবহার ও ভূমিদস্যুতার অভিযোগকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান টিমের প্রধান পরিচালক আবুল হাসনাতের স্বাক্ষরিত চিঠিতে হা-মীম গ্রুপের ১০টি অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের (ডেনিম মিল, সোয়েটার ও প্রিন্টিং ফ্যাক্টরি, কার্টন ও লেবেল ফ্যাক্টরি, পলি ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রি, পরিবহন, জুট মিল, চা-বাগান ও কেমিক্যাল ফরম্যুলেশন প্ল্যান্ট) ২০১৮–২০২৫ সময়কালের বার্ষিক অডিট রিপোর্ট ২৫ জানুয়ারির মধ্যে জমা দিতে বলা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যাংকঋণ পেতে ব্যাংকে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে বিপুল লাভ দেখানো হলেও এনবিআরে লোকসান এবং আরজেএসসিতে সীমিত লাভ বা লোকসান দেখানো হয়েছে—ফলে রাষ্ট্র বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতীয়মান।

দৈনিক খবরের কাগজে প্রকাশিত এ কে আজাদের জালিয়াতির খবর

উল্লেখ্য, এ কে আজাদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদক ২০১৮ সালেও অনুসন্ধান শুরু করেছিল; ওয়ান-ইলেভেন আমলে ২০ কোটি ৩৬ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের মামলাও হয়েছিল, যা সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাবে টেকেনি বলে জানা যায়। একাধিকবার অনুসন্ধান টিম বদলের পর বর্তমান টিম তথ্য সংগ্রহে নতুন করে তৎপর হয়েছে।

এর পাশাপাশি ফরিদপুরের ‘অনাথের মোড়’ এলাকায় পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের ৫০.৯০ শতক পৈতৃক জমি নিয়ে দখল-নৈরাজ্যের অভিযোগ সামনে এসেছে। কবির পুত্র জামাল আনোয়ারের স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা অভিযোগ করেছেন, এ কে আজাদের ভাই বিলাল হোসেন ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করেছেন; শতাধিক লোক নিয়ে বাধা, ঘরভাঙা, রাস্তা বন্ধ করে দেয়াল নির্মাণ এবং হুমকির ঘটনা ঘটেছে। আদালতের আদেশ ও সোলেনামা থাকা সত্ত্বেও দখলচেষ্টা অব্যাহত ছিল বলে তাঁর দাবি।

পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের  পৈতৃক জমি

রাজিয়া সুলতানার অভিযোগে আরও বলা হয়, ওয়ারিশি জটিলতার সুযোগ নিয়ে কবির ছোট কন্যাকে প্রকৃত মূল্য না জানিয়ে কম দামে জমির অংশ বিক্রিতে প্ররোচিত করা হয়; পরে অসুস্থ ও ভাষাগতভাবে দুর্বল এক ওয়ারিশের কাছ থেকেও জমি লিখিয়ে নেওয়া হয়েছে। কবিপুত্র জামাল আনোয়ারের আকস্মিক মৃত্যুর পেছনে এই দখল-চাপ ও মানসিক হয়রানির ভূমিকা ছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

একদিকে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ও ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ভিন্ন ভিন্ন হিসাব দেখিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ, অন্যদিকে সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার-সংশ্লিষ্ট পৈতৃক জমি দখলের অভিযোগ—দুটি ধারাই এ কে আজাদ ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত এবং আইনের শাসন নিশ্চিতের দাবি তুলছেন সংশ্লিষ্টরা। 

বাংলাদেশ প্রতিদিন নিউজে প্রকাশিত এ কে আজাদের খবর