অবৈধ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান: এখন নীরবতা মানেই অপরাধ
নয়ন বিশ্বাস রকি:
বাংলাদেশ আজ আর স্বাভাবিক কোনো রাজনৈতিক সময় অতিক্রম করছে না। আমরা এমন এক সংকটকাল পার করছি, যেখানে একটি সাজানো নির্বাচন শুধু ক্ষমতার হাতবদলের প্রশ্ন নয়—এটি সরাসরি জাতির অস্তিত্ব, সার্বভৌমত্ব ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভাগ্য নির্ধারণের প্রশ্ন। এই বাস্তবতায় নীরব থাকা মানেই অন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো।
যে প্রক্রিয়াকে নির্বাচন বলা হচ্ছে, তা আদতে গণতন্ত্রের কোনো শর্ত পূরণ করে না। লুটপাট, ভাঙচুর, দমন-পীড়ন ও ক্ষমতার নির্লজ্জ অপব্যবহারের মধ্য দিয়ে যে নাটক মঞ্চস্থ করা হচ্ছে, তা স্বাধীন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চেতনাকে ধ্বংস করার একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা। এ ধরনের নির্বাচন জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে না, বরং জাতিকে দুর্বল ও বিভক্ত করে।
গত ১৮ মাসের ঘটনাপ্রবাহ আমাদের জন্য যথেষ্ট শিক্ষণীয় হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমরা যদি সেই অভিজ্ঞতা থেকেও শিক্ষা না নিই, তবে ভবিষ্যতে তার মূল্য দিতে হবে আরও কঠিনভাবে। আজ যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তার প্রভাব কয়েক মাস নয়—বছরের পর বছর ধরে জাতিকে বহন করতে হবে।
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই সময়ে ভুল সিদ্ধান্ত বাঙালি জাতিকে দীর্ঘস্থায়ী দুঃখ, বঞ্চনা ও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেবে। অবৈধ ও সাজানো নির্বাচন বর্জন করা ছাড়া দেশকে এই সংকট থেকে উদ্ধার করার কোনো বাস্তব পথ নেই। এটি কেবল রাজনৈতিক অবস্থান নয়, এটি একটি নৈতিক দায়িত্ব। নিজে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি অন্যদের সচেতন করাও এখন নাগরিক কর্তব্য।
আজ প্রতিটি নাগরিকের সিদ্ধান্ত ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে। কারণ, ভবিষ্যৎ কোনো বিমূর্ত ধারণা নয়—আমাদের আজকের সিদ্ধান্তই আগামী দিনের বাংলাদেশ নির্মাণ করবে। যারা মনে করেন, “আমার একার সিদ্ধান্তে কী আসে যায়”—তারা ভুল করছেন। ইতিহাস দেখিয়েছে, ব্যক্তির নীরবতাই অনেক সময় জাতির পরাজয়ের কারণ হয়। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভাবলে আজ আর আপসের সুযোগ নেই।
এটি শুধু একটি নির্বাচন নয়; এটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা, জনগণের অধিকারের প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞা। বিশেষ করে নারীসমাজের প্রতি আমার আহ্বান—নিজেদের অধিকার, নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা রক্ষায় এখনই জাগ্রত হতে হবে। অবৈধ নির্বাচন বর্জনের মধ্য দিয়েই সেই প্রতিবাদ স্পষ্ট হতে পারে।
কর্মসংস্থান, শিল্প-কারখানা ও শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়েও গভীর উদ্বেগ রয়েছে। ইতিহাস বলে, অবৈধ শাসনব্যবস্থা কখনোই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে না। বরং শিল্প বন্ধ হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়, তরুণ সমাজ হতাশায় নিমজ্জিত হয়। একটি প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে গেলে তার ক্ষত সহজে সারানো যায় না।
আমার রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও অবস্থান থেকে আমি অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও সংশ্লিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করি। আমার মতে, তাদের কিছু কর্মকাণ্ড দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও সামাজিক কাঠামোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এটি আমার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মূল্যায়ন, এবং সেই অবস্থান থেকেই আমি তাদের বিরুদ্ধেও রাজনৈতিকভাবে সোচ্চার হওয়ার কথা বলেছি।
সবশেষে স্পষ্ট করে বলতে চাই—অবৈধ ও সাজানো নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করা মানেই বাংলাদেশকে রক্ষা করা। এটি কোনো দলীয় লড়াই নয়, কোনো ব্যক্তি-কেন্দ্রিক রাজনীতিও নয়। এটি আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি, স্বাধীনতা ও জাতির অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়—ভয়ের নয়, বিবেকের পক্ষে দাঁড়ানোর সময়।
নয়ন বিশ্বাস রকি, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা


















