পূর্ণব্রহ্ম-পূর্ণাবতার শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের ২১৫তম শুভ আবির্ভাব উৎসব উপলক্ষে বাংলাদেশে শুরু হয়েছে সর্ববৃহৎ স্নানোৎসব ও তিন দিনব্যাপী বারুণী মেলা
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
পূর্ণব্রহ্ম-পূর্ণাবতার শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের ২১৫তম শুভ আবির্ভাব উৎসব উপলক্ষে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর ওড়াকান্দিতে আজ থেকে শুরু হয়েছে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ স্নানোৎসব ও তিন দিনব্যাপী বারুণী মেলা। আজ সোমবার (১৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় শুরু হয়েছে স্নানোৎসব। যা আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় টায় পুণ্যস্নানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে।
স্নানোৎসবে যোগ দিতে দেশ ও দেশের বাইরে থেকে লাখো মতুয়া ভক্ত শ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়িতে ছুটে এসেছেন। উৎসবকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন ও আয়োজক কমিটি।
স্নানোৎসব ও বারুণী মেলা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ও যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঠাকুর বাড়ি এলাকায় বসানো হয়েছে সুউচ্চ পর্যবেক্ষণ চৌকি ও সিসি ক্যামেরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর টহল ও মতুয়া সংঘের দুই শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন।
পূর্ণব্রহ্ম শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্ম তিথি উপলক্ষে প্রতি বছর ওড়াকান্দি ঠাকুর বাড়িতে মহাসমারোহে এ উৎসব পালিত হয়। এবার হরিচাঁদ ঠাকুরের ২১৫তম অবির্ভাবোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলাদেশ ছাড়াও দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ এবং নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১০ লাখ মতুয়া ভক্তের আগমন ঘটবে ওড়াকান্দি ঠাকুর বাড়িতে।
স্নান উৎসবকে ঘিরে ঠাকুর বাড়ির পাশ ঘেঁষে বসেছে তিন দিনব্যাপী বিশাল বারুণী মেলা। মেলায় কাঠ, বাঁশ ও বেতের তৈরি নান্দনিক আসবাবপত্রসহ লোকজ ঐতিহ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন কয়েকশ’ ব্যবসায়ী। গ্রামীণ ঐতিহ্যের স্মারক মাটির তৈরি জিনিসপত্র, খেলনা সামগ্রী এবং তালের পাখা মেলার অন্যতম আকর্ষণ।
গোপালগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্নানোৎসবে আগত পূণ্যার্থীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিতে মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। রোগীদের হাসপাতালে নেয়ার জন্য সার্বক্ষণিক অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন রয়েছে।
গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার হাবীবুল্লাহ বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন, ‘ওড়াকান্দি ঠাকুর বাড়ি স্নানোৎসব ও বারুণী মেলা সফল করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার কঠোর নজরদারি রয়েছে।’সূত্র: বাসস


















