Logo

আন্তর্জাতিক    >>   বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা ও রাষ্ট্রব্যবস্থা: মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা ও রাষ্ট্রব্যবস্থা: মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা ও রাষ্ট্রব্যবস্থা: মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
তারিখ: ১৪ মার্চ ২০২৬ খ্রি.

বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টির উদ্যোগে “বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা ও রাষ্ট্রব্যবস্থা: মানবজাতির ভবিষ্যৎ” শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৩ মার্চ শুক্রবার বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পার্টির সভাপতি এম এ আলীম সরকার।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টির তাত্ত্বিক ও প্রধান উপদেষ্টা এবং বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। তিনি বলেন, বিশ্বায়নের যুগে অনেকেই মনে করেন জাতি ও রাষ্ট্রের গুরুত্ব কমে গেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো—মানুষের চিন্তা ও কর্মকাণ্ড বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত হলেও জাতি ও রাষ্ট্র বিলুপ্ত হয়ে যায়নি। বরং বিশ্বমানবতার কল্যাণে জাতি-রাষ্ট্র ও আন্তঃরাষ্ট্রিক সম্পর্ককে নতুনভাবে পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা এখন আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। তিনি বলেন, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ও আন্তর্জাতিকতাবাদসহ রাজনৈতিক আদর্শগুলোকে বর্তমান সময়ের বাস্তবতার আলোকে নতুনভাবে মূল্যায়ন ও পুনর্গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বর্তমান জাতিসংঘ কাঠামো অপ্রতুল উল্লেখ করে তিনি বলেন, কালের চাহিদা অনুযায়ী জাতিসংঘকে পুনর্গঠন করা জরুরি। মানবজাতিকে যুদ্ধমুক্ত করার লক্ষ্যে জাতিসংঘের অধীনে একটি আন্তর্জাতিক সেনাবাহিনী গঠন করে ধীরে ধীরে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সেনাবাহিনী বিলুপ্ত করার চিন্তাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। পাশাপাশি রাষ্ট্র পর্যায়ে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পুলিশ বাহিনীকে আরও কার্যকরভাবে পুনর্গঠন এবং শ্রমিক, কৃষক ও মধ্যবিত্তসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বিশেষ আলোচক অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ তাদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন বিশ্বব্যবস্থা ও রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। এসব ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য ছিল শান্তি প্রতিষ্ঠা, সামাজিক ও রাষ্ট্রিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং মানুষের মৌলিক চাহিদা—অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা—নিশ্চিত করা। কিন্তু পরাশক্তিগুলোর স্বার্থ, বৈষম্য ও লোভের কারণে কাঙ্ক্ষিত বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় এমন বৈপরীত্য দেখা যায় যে—কোনো ক্ষেত্রে আক্রমণকারীর পরিবর্তে অন্য রাষ্ট্রকে দোষারোপ করা হয়। এই ধরনের বৈষম্যমূলক আন্তর্জাতিক কাঠামোর কারণে বিশ্বে যুদ্ধ, শোষণ ও সাম্রাজ্যবাদের বিস্তার বন্ধ করা যাচ্ছে না।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, গণতন্ত্র, সুশাসন এবং মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য যে ধরনের শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন, তা এখনো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে আশা তৈরি হলেও পরবর্তীতে নানা রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ দেশের পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। তবে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ আবার গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভাপতির বক্তব্যে এম এ আলীম সরকার বলেন, বর্তমান বিশ্বে জাতিসংঘের অধীনে যে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা বিদ্যমান, তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকার কোনো সুযোগ নেই। মানবজাতির পারস্পরিক সম্প্রীতি, ন্যায়বিচার এবং সাংস্কৃতিক বিকাশ নিশ্চিত করতে বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক কাঠামো অনেক ক্ষেত্রেই অপ্রতুল। তিনি বলেন, ধর্ম, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও বিশ্বমানবতার প্রচলিত ধারণাগুলো মানবসভ্যতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও বর্তমান সময়ের জটিল বাস্তবতায় সেগুলো নতুনভাবে চিন্তা ও মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর যুক্তরাষ্ট্র একক পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয় এবং বিশ্বরাজনীতিতে তার প্রভাব বৃদ্ধি পায়। বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত ও ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিশ্বকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘের লক্ষ্য ছিল বিশ্বশান্তি ও সহযোগিতা নিশ্চিত করা, কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় সংস্থাটি কাঙ্ক্ষিত কার্যকারিতা দেখাতে পারছে না। তাই একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও কার্যকর বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতিসংঘকে পুনর্গঠন করে নতুনভাবে বিশ্বরাষ্ট্রসংঘ গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি।
এম এ আলীম সরকার বলেন, মানবকল্যাণের পরিবর্তে বিশ্বজুড়ে বিপুল অর্থ সামরিক খাতে ব্যয় করা হচ্ছে, যা মানবসভ্যতার জন্য অকল্যাণকর। তিনি যুদ্ধমুক্ত, ক্ষুধামুক্ত ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ‘চর্চা’ সম্পাদক ও কবি সোহরাব হাসান, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক ও উপদেষ্টা এবং বারভিডার প্রেসিডেন্ট আবদুল হকসহ বিভিন্ন জাতীয় নেতা। সভা সঞ্চালনা করেন পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক, লেখক অমূল্য কুমার বৈদ্য।
অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে দোয়া মাহফিল এবং ইফতার অনুষ্ঠিত হয়।