কোরআন শরীফ স্পর্শ করে ইতিহাস গড়লেন জোহরান মামদানি: নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম ও সর্বকনিষ্ঠ মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণ
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধিক জনবহুল ও ব্যয়বহুল নগরী নিউ ইয়র্ক সিটির ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচিত হলো। ইংরেজি নববর্ষের প্রথম প্রহরে, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর জোহরান মামদানি আনুষ্ঠানিকভাবে নিউ ইয়র্ক সিটির ১১২তম মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন।
সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ এই শপথ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় ম্যানহ্যাটনের সিটি হল পার্কের নিচে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক, বর্তমানে পরিত্যক্ত সাবওয়ে স্টেশনে। ১৯৪৫ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া এই ভূগর্ভস্থ স্টেশনটি বর্তমানে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হলেও, মামদানির অভিষেক অনুষ্ঠানের জন্য এটি বেছে নেওয়া হয় প্রতীকী অর্থ বহন করে।
উগান্ডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হয়ে আসা ৩৪ বছর বয়সী জোহরান মামদানি নিউ ইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র, প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র এবং একই সঙ্গে সর্বকনিষ্ঠ মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে একাধিক রেকর্ড গড়েছেন।
ফক্স নিউজের খবরে জানানো হয়, শপথ গ্রহণের সময় তিনি পবিত্র কোরআন শরীফ স্পর্শ করবেন—এ বিষয়টি আগেই নিশ্চিত করেছিল তার নির্বাচনী প্রচারণা শিবির। শপথ অনুষ্ঠানে কোরআন শরীফ তার সহধর্মিণী, সিরীয় বংশোদ্ভূত শিল্পী রামা দুয়াজির হাতে ছিল, যা এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।
শপথ নিচ্ছেন নিউইয়র্ক সিটি মেয়র জোহরান মামদানি। ফাইল ছবি-রয়টার্স।
নিউ ইয়র্ক রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশা জেমস তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান। মামদানি এর আগেও লেটিশা জেমসকে তার ‘রাজনৈতিক অনুপ্রেরণা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মামদানির ট্রানজিশন টিম জানায়, ভূগর্ভস্থ সাবওয়ে স্টেশনে শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি নিউ ইয়র্ক নগরীকে প্রতিদিন সচল রাখা কর্মজীবী মানুষদের প্রতি তার অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটাতে চেয়েছেন। এই আয়োজন নগরীর শ্রমজীবী মানুষের প্রতি তার রাজনৈতিক দর্শন ও দায়বদ্ধতার প্রতীক।
নিজেকে ডেমোক্র্যাটিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া মামদানি বৃহস্পতিবার থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। তার অভিষেক ঘিরে নিউ ইয়র্কবাসীর মধ্যে আশাবাদ ও উদ্বেগ—উভয় প্রতিক্রিয়াই লক্ষ্য করা গেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
নিউ ইয়র্কের আইন অনুযায়ী, মেয়রের চার বছর মেয়াদি দায়িত্ব নির্বাচনের পরবর্তী ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়। কে ওই দিন নগরীর দায়িত্বে থাকবেন—সে বিষয়ে কোনো সাংবিধানিক অস্পষ্টতা এড়াতেই মধ্যরাতে শপথ গ্রহণের রীতি দীর্ঘদিন ধরে চালু রয়েছে।
নিউ ইয়র্ক রাজ্যের সাবেক আইনপ্রণেতা মামদানি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে বাড়িভাড়া বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, সবার জন্য বিনামূল্যে বাস সার্ভিস এবং সর্বজনীন চাইল্ডকেয়ার ব্যবস্থার কথা বলেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার এসব জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জন্য নতুন রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা তৈরি করতে পারে। সূত্র: সিনিয়র সাংবাদিক, হাকিকুল ইসলাম খোকন ।

















