নিউইয়র্কে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকী পালন এবং শাহরিয়ার কবিরের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক স্মরণসভা ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলো নিউইয়র্কে। একই আয়োজনে গ্রেপ্তারকৃত সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী শাহরিয়ার কবিরের নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানানো হয়।
গত ২৭ জুন (শুক্রবার) সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের জুইস সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচির আয়োজন করে ‘ইন্টারন্যাশনাল ফোরাম ফর সেক্যুলার বাংলাদেশ অ্যান্ড ট্রায়াল অব ওয়ার ক্রিমিন্যালস অব ১৯৭১’, নিউইয়র্ক চ্যাপ্টার, ইউএসএ।
সভায় বক্তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “শাহরিয়ার কবিরকে জেলে রেখে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার চক্রান্ত চলছে।” তারা অবিলম্বে তাঁর মুক্তি দাবি করেন এবং তাকে সকল আইনগত অধিকার ও চিকিৎসা সেবার নিশ্চয়তা দেওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবী ড. নুরুন নবী। বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদউল্লাহ, মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত বিশ্বাস, কবি হাসান আল আব্দুল্লাহ, লেখক শিতাংসু গুহ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতা প্রদীপ রঞ্জন কর, সাবেক প্রেস মিনিস্টার সাজ্জাদ হোসেন, একুশের চেতনা পরিষদ যুক্তরাষ্ট্রের সভাপতি ওবায়দুল্লাহ মামুন, মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, গোপাল স্যানাল, সাংবাদিক পিনাকী তালুকদার, লেখক স্মৃতি ভদ্র, প্রজন্ম একাত্তুর নেতা শিবলী সাদিক, এবং অ্যাক্টিভিস্ট জয় তুর্য চৌধুরী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন যুক্তরাষ্ট্র নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক স্বীকৃতি বড়ুয়া।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সবচেয়ে সুসংগঠিত গণআন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জাহানারা ইমাম। ১৯৯২ সালে জামায়াতে ইসলামীর আমির গোলাম আযমকে প্রতীকী বিচারের মাধ্যমে দণ্ডিত করে গঠিত হয়েছিল “গণআদালত”। যার মুখ্য সংগঠক ছিলেন তিনি নিজেই।
১৯৯৪ সালের ২৬ জুন, ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের জীবনাবসান ঘটে।
শাহরিয়ার কবির প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, তিনি শুধু একজন লেখক নন, একজন অগ্রণী মানবাধিকার কর্মী, প্রগতিশীল চিন্তাবিদ ও ইতিহাসবিদও। স্বাধীনতা যুদ্ধ, মৌলবাদ বিরোধী আন্দোলন এবং সাম্প্রদায়িকতা নির্মূলে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।
বক্তারা জানান, গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর বনানী থেকে একটি হত্যামামলায় শাহরিয়ার কবিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁরা এই গ্রেপ্তারকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, শাহরিয়ার কবিরের মতো একজন শারীরিকভাবে অসুস্থ প্রবীণ লেখক ও কর্মীকে জেলে রেখে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
বক্তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান— আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের আলোকে তাঁর চিকিৎসা, চলাফেরায় হুইলচেয়ারসহ সকল প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে এবং আইনজীবী ও পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ অব্যাহত রাখতে হবে।
উল্লেখ্য, শাহরিয়ার কবির এখন পর্যন্ত ৭০টিরও বেশি বই লিখেছেন। শিশুতোষ সাহিত্য, মুক্তিযুদ্ধ, মৌলবাদ, মানবাধিকার এবং ইতিহাসভিত্তিক গবেষণায় তিনি সুপ্রতিষ্ঠিত। ১৯৯৫ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হন। জাহানারা ইমামের মৃত্যুর পর ‘ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির’ সভাপতির দায়িত্বও পালন করে আসছেন তিনি।



















