Logo

রাজনীতি    >>   বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: সংগ্রাম, অর্জন ও নেতৃত্বের ইতিহাস

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: সংগ্রাম, অর্জন ও নেতৃত্বের ইতিহাস

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: সংগ্রাম, অর্জন ও নেতৃত্বের ইতিহাস

মিজানুর রহমান খান, প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:

২৩ জুন—বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলের পথচলা আজ সাত দশকেরও বেশি সময় অতিক্রম করেছে।

১৯৪৯ সালের এই দিনে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী রোজ গার্ডেনে “পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ” নামে যাত্রা শুরু হয় এক ঐতিহাসিক আন্দোলনের। প্রতিষ্ঠাকালে বঙ্গবন্ধু কারাবন্দী ছিলেন এবং তখনই তাঁকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করা হয়। দলের নাম থেকে “মুসলিম” শব্দটি ১৯৫৫ সালে বাদ দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে “পূর্ব পাকিস্তান” শব্দদ্বয় ইতিহাসের গর্ভে বিলীন হয় মুক্তিযুদ্ধের পর। স্বাধীনতার পর থেকে এই দল পরিচিত “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ” নামে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়, এটি বাঙালি জাতির আত্মপরিচয়ের উৎস। ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ—সব আন্দোলনের কেন্দ্রে ছিল এই দল ও এর নেতা শেখ মুজিবুর রহমান।

স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ বারবার ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে জাতির ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় রচিত হয়। দলটিকে ধ্বংস করার গভীর চক্রান্ত হলেও, দীর্ঘ ২১ বছরের সংগ্রামের মাধ্যমে ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলটি আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে আসে।

২০০৮ সালে “দিন বদলের সনদ” নিয়ে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ আবারো সরকার গঠন করে। টানা চারবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালনে দলটি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে অবৈধ ক্ষমতা দখলের পথ রুদ্ধ, দারিদ্র্য বিমোচন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, নারীর ক্ষমতায়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা এবং বর্তমান ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’-এর স্বপ্নপূরণে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে।

শেখ হাসিনা শুধু বঙ্গবন্ধুর কন্যা নন, বরং তিনি নিজেই আজ বাংলাদেশের সবচেয়ে কার্যকর, বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনেতা। তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ আজ উন্নয়নের প্রতীক, গণতন্ত্রের ধারক এবং একটি আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের রূপকারে পরিণত হয়েছে।

তবে আজ যখন আমরা ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছি, তখন দেশের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী—অসাংবিধানিক, দুর্নীতিগ্রস্ত, বিদেশি লবির দালাল এবং দেশবিরোধী শক্তি—বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে নস্যাৎ করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তাদের নেতৃত্বে রয়েছেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি কথিত ‘জাতীয় ঐক্য’ গড়ার নামে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির পাঁয়তারা চালাচ্ছেন।

আজকের বাংলাদেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থানের সংকট, মিথ্যা মামলা ও হয়রানি, লুটপাট, চাঁদাবাজি এবং মিথ্যাচারের এক নতুন সংস্কৃতি চালু হয়েছে। এমন বাস্তবতায় স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন যেন আবারও একটি ষড়যন্ত্রের মুখে। গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং আইনের শাসন—সবকিছুই আজ প্রশ্নবিদ্ধ।

তবুও, অতীতের মতো ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জনগণের শক্তিকে অবলম্বন করে এই ষড়যন্ত্র রুখে দেবে—এই প্রত্যাশাই আজকের দিনে জাতি করে।

বাংলাদেশের ইতিহাস মানেই আওয়ামী লীগের ইতিহাস—সংগ্রামের, অর্জনের, আত্মত্যাগের, গণমানুষের ভালোবাসার ইতিহাস। আর এই ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা। এই দুই মহানায়ক বাঙালির আত্মপরিচয় ও উন্নয়নের প্রতীক।

স্মৃতি শুধু গৌরব নয়, পথ চলার পাথেয়। অতীতের আলোকবর্তিকা হাতে ধরেই আওয়ামী লীগ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে, এমনটিই প্রত্যাশা করি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশপ্রেমী প্রতিটি নাগরিক।