পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে মোদি-ট্রাম্পের ফোনালাপ
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়ে দিয়েছেন, জম্মু-কাশ্মীর সমস্যার সমাধানে ভারত কখনো তৃতীয় কোনো দেশের হস্তক্ষেপ চায়নি, চাইবেও না। এ নিয়ে কখনো কারও মধ্যস্থতায় রাজিও হবে না।
আজ বুধবার (১৮জুন) সকালে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৩৫ মিনিটের ফোনালাপ হয়েছে। ফোনালাপের পর দুই নেতার আলোচনার বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, কানাডা থেকে ফেরার পথে কিছু সময়ের জন্য মোদিকে যুক্তরাষ্ট্রে আসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তিনি বলেছিলেন, সে ক্ষেত্রে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতে অনেক কথা হতে পারে। কিন্তু পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি থাকায় সেই প্রস্তাব গ্রহণ করা নরেন্দ্র মোদির পক্ষে সম্ভব হয়নি।
পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি বলেন, ৩৫ মিনিটের আলোচনায় ‘অপারেশন সিঁদুর’ নাম দিয়ে পাকিস্তানে চালানো হামলা নিয়ে কথা উঠলে কাশ্মীর নিয়ে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের বিষয়ে ভারতের মনোভাবের কথা স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ট্রাম্পকে মোদি বলেন, হামলার লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানে ঘাঁটি গেড়ে থাকা সন্ত্রাসবাদী ও তাদের স্থাপনা গুড়িয়ে দেওয়া। ট্রাম্পকে তিনি এ কথাও বলেছেন, অন্য কারও উদ্যোগে ভারত যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়নি। যুদ্ধবিরতির আলোচনা হয়েছে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে।
পররাষ্ট্রসচিব মিশ্রি আরো বলেন, ট্রাম্পকে মোদি জানিয়ে দেন, তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ না মানার বিষয়ে ভারতের সব মহল এক। কোথাও বিন্দুমাত্র বিরোধ নেই। পাকিস্তানে হামলার পর জাতির প্রতি ভাষণে প্রধানমন্ত্রী যে কথা বলেছিলেন, ট্রাম্পকেও তা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। মোদি বলেছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে ভারত আলোচনা করতে পারে শুধু সন্ত্রাস বন্ধ ও অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীর ফেরত পাওয়া নিয়ে। আজ বুধবার মোদি-ট্রাম্প ফোনালাপ হয় এমন একটা সময়, যেদিন হোয়াইট হাউসে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে ট্রাম্পের মধ্যাহ্নভোজ করার কথা।
মিশ্রির দাবি অনুযায়ী, ‘অপারেশন সিঁদুর’ স্থগিত রাখা ও যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ার পেছনে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ ছিল না। অথচ ট্রাম্প অন্তত ১২ বার এই বিষয়ে নিজের কৃতিত্ব দাবি করেছেন। এমনকি এক দিন আগে ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ থামানোর উদ্যোগের ক্ষেত্রেও তিনি ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ থামাতে দুই দেশকে দেওয়া ‘বাণিজ্য হুমকির’ কথা উল্লেখ করেছেন।
মিশ্রি বলেন, ট্রাম্প জম্মু-কাশ্মীর সমস্যার সমাধানে মধ্যস্থতা করার ক্ষেত্রেও তাঁর ইচ্ছার কথা বারবার প্রকাশ করেছেন। এ নিয়ে ভারতীয় রাজনীতিতে প্রশ্ন উঠেছে। আজ ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় মোদি সেই সম্ভাবনা নাকচ করে দেওয়ার বার্তা দেন। তিনি বলেন, এ সমস্যা সমাধানে তৃতীয় পক্ষের সহায়তা না নেওয়া ভারতের বহুদিনের নীতি। সেই নীতির পরিবর্তন হয়নি।



















