Logo

আন্তর্জাতিক    >>   আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ নয়, ইতিহাসকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ নয়, ইতিহাসকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ নয়, ইতিহাসকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা

নয়ন বিশ্বাস রকি, প্রজ্ঞা নিউজ :
অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে ঘোষিত তথাকথিত ‘নতুন বাংলাদেশ’ আজ জাতির ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও অর্জনের ওপর সরাসরি আঘাত। ২০২৫ সালের ১০ মে তারিখে অন্তর্বর্তীকালীন অবৈধ, অসাংবিধানিক, উগ্র মৌলবাদী চাপে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা একটি গভীর ষড়যন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ।

এর আগে ইতিহাসে দুইবার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল—১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের সামরিক শাসনে, এবং ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পাকিস্তানি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের ভাষণে। প্রতিবারই আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হয়েছিল, কিন্তু ইতিহাস প্রমাণ করে, ঠিক সেই মুহূর্ত থেকেই দলটি আরও দৃঢ়, আরও প্রতিশ্রুতিশীলভাবে জেগে উঠেছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না।

বাংলাদেশের জন্মই হয়েছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে। এই দলটি শুধু একটি রাজনৈতিক শক্তি নয়, এটি বাংলার আত্মপরিচয়, মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন ও জাতির পিতার স্বপ্নের প্রতীক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে, ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলনে জাতির পথপ্রদর্শক ছিল আওয়ামী লীগ। আজ তাঁর কন্যা, দেশরত্ন শেখ হাসিনার গত ১৫ বছরের নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের বিস্ময়—ডিজিটাল, স্মার্ট ও আত্মমর্যাদাশীল এক রাষ্ট্রে রূপ নিয়েছে।

হ্যাঁ, ভুল-ত্রুটি ছিল। কিছু আমলা ও নেতা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে, সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে—এসব অস্বীকারের সুযোগ নেই। তবে একইসঙ্গে সত্য এই যে, লক্ষ লক্ষ ত্যাগী কর্মী আজও দলের প্রাণ। আওয়ামী লীগ জনগণের দল—এটাই তার প্রকৃত শক্তি।

অথচ এখন সেই দলকেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যাদের নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হয়েছে। অন্যদিকে, ১৯৭১ সালের গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত, মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত জামায়াতে ইসলাম, আজও ক্ষমা চায়নি, সংস্কার করেনি—তাদের রাজনীতি কি স্বাভাবিকভাবে চলবে?

জাতি জানতে চায়—জামায়াত নিষিদ্ধ না হয়ে, কেন মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হবে? একাত্তর আর ২০২৪ কি এক? আমরা কি মৌলবাদী জঙ্গিবাদের কাছে আত্মসমর্পণ করছি?

আজ দেশে তথাকথিত সংস্কার আর মানবিক করিডোরের নামে চলছে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্ব বিক্রির গভীর ষড়যন্ত্র। সেন্ট মার্টিনে সাধারণ মানুষ যেতে পারছে না, ডিফি ওয়ার্ল্ড কোম্পানির কাছে বন্দরের দায়িত্ব হস্তান্তর হচ্ছে। এসব কি কাকতালীয়? না কি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র?

আওয়ামী লীগকে কোনো ষড়যন্ত্র, নিষেধাজ্ঞা কিংবা নিষ্পেষণ দমাতে পারবে না। সত্যের পক্ষে থাকা এই দল সব সময় জনগণের পাশেই ছিল, থাকবে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেবে—অবশেষে জয় হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার, জয় হবে গণতন্ত্রের, জয় হবে বাংলাদেশের।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
নয়ন বিশ্বাস রকি 
সাবেক ছাত্রলীগ নেতা