জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর ইউনূস বাহিনীর বর্বর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ
সাদ্দাম হোসেন :
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের উপর ‘জঙ্গি-ফ্যাসিস্ট ইউনূস’-এর গৃহপালিত পেটোয়া বাহিনী কর্তৃক বর্বর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির প্রতি দ্বিধাহীন সংহতি ও আন্দোলনের প্রতি সম্পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছে ছাত্রসমাজের এ ঐতিহ্যবাহী সংগঠন।
শিক্ষার্থীদের তিনটি মৌলিক দাবি—আবাসন বৃত্তি চালু, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় বার্ষিক বরাদ্দ প্রদান এবং দ্রুততম সময়ে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণ—এই দাবি আদায়ের লক্ষ্যে চলমান শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ কর্তৃক লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড, গরম পানি নিক্ষেপ ও রাবার বুলেট ব্যবহারের ফলে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০-৪০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রাতের অন্ধকারে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে, ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের ভীত সন্ত্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ, হুমকি-ধামকি এবং মামলার ভয় দেখিয়ে আন্দোলন দমন করার ষড়যন্ত্র চলছে।
একদিকে ইউনূস তার নিয়ন্ত্রিত প্রশিক্ষিত ‘ছাত্রনামধারী সন্ত্রাসী’ বাহিনী দিয়ে পরিকল্পিতভাবে আন্দোলনের নামে নাশকতার নাটক সাজাচ্ছে, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। সমাবেশ নিষিদ্ধ করে, রাস্তা বন্ধ করে, জনদুর্ভোগ বাড়িয়ে, ছুটির দিনে রাজনৈতিক বৈঠক ডেকে দেশের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক শক্তিকে নিষিদ্ধ ঘোষণার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
এছাড়া, গ্রেপ্তার, মিথ্যা মামলা, জামিন অস্বীকৃতি ও শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে ন্যায্য আন্দোলনকে স্তব্ধ করতে চাইছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের লক্ষ্যে জায়গা বরাদ্দ, মাস্টারপ্ল্যান ও নকশা প্রণয়নসহ যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা, দেশরত্ন শেখ হাসিনা। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে আজকের এই আন্দোলনের প্রয়োজনই হতো না। কিন্তু একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
আজ শিক্ষার্থী ও জনগণের কাছে স্পষ্ট—রাষ্ট্র এখন একটি সন্ত্রাসী চক্রের হাতে জিম্মি। ইউনূস শুধুমাত্র নিজের মালিকানাধীন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, পেটোয়া বাহিনী ও গোষ্ঠীস্বার্থ রক্ষার জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করছেন। এই ব্যবস্থায় শুধুমাত্র ক্ষমতাসীনদের লুণ্ঠনই বৈধ, আর জনমানুষের ন্যায্য দাবি অবৈধ—এমনই এক ফ্যাসিবাদী দমননীতি প্রতিষ্ঠা করতে চায় তারা।
এই অবস্থায়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির প্রতি দৃঢ় সমর্থন ও আহত শিক্ষার্থীদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করছে। ছাত্রলীগ বিশ্বাস করে—দেশপ্রেমিক ছাত্রসমাজ ও সাধারণ জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে ইউনূসের হায়েনা-সন্ত্রাসী রাজনীতিকে প্রতিহত করবে এবং এ দেশকে আবারও গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও মুক্তির পথে ফিরিয়ে আনবে।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
সাদ্দাম হোসেন
সভাপতি, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ, ঢাকা।
বাংলাদেশ


















