আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রতিবাদে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ: বাংলাদেশে উগ্র ফ্যাসিবাদের উত্থানে প্রবাসীদের হুঁশিয়ারি
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, আওয়ামী পরিবার, সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনসহ প্রবাসী সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবাধিকার সংগঠনসমূহ।
গত ১১ই মে ২০২৫, রবিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসস্থ ডাইভার্সিটি প্লাজায় এক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বলেন, স্বৈরাচারী, অবৈধ ও অগণতান্ত্রিক ইউনূস সরকার উপমহাদেশের প্রাচীনতম ও মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে অবৈধভাবে নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও বাকসু’র সাবেক জিএস ড. প্রদীপ কর।
সঞ্চালনা করেন দপ্তর সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী। সমাবেশে বক্তৃতা করেন ,
সিনিয়র সাংবাদিক ও উপদেষ্টা হাকিকুল ইসলাম খোকন,আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মো. বখতিয়ার আলী,সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন,ওয়াশিংটন দূতাবাসের সাবেক প্রেস মিনিস্টার ও সাংবাদিক এজেডএম সাজ্জাদুর রহমান সবুজ,আওয়ামী লীগ নেতা ও ‘শেখ হাসিনা মন্ত্র’র সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জালাল উদ্দিন জলিল,নেতা আকতার হোসেন, সাংবাদিক হেলাল মাহমুদ,মুক্তিযোদ্ধা মোয়াজ্জেম হোসেন মাসুদ,নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন আজমল,সহ-সভাপতি শাখাওয়াত আলী, সহ-সভাপতি আবুল কাশেম ভূঁইয়া,মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুমানা আক্তার,যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শহীদুল ইসলাম,সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর এইচ মিয়া ।
এছাড়া মো. রজব, মো. হেলাল, সুলতান মোহাম্মদ, খন্দকার জাহিদুল ইসলাম, শাহ মাহিনসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। “জয় বাংলা”, “জয় বঙ্গবন্ধু”, “জয় শেখ হাসিনা”—এই স্লোগানে মুখরিত হয়ে প্রকম্পিত হয় জ্যাকসন হাইটসের রাজপথ।
বক্তারা বলেন—
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ইউনূস সরকার ইতিহাসের গভীর অজ্ঞতা ও চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিচয় দিয়েছে। তারা বলেন, “আসিফ নজরুল ও ড. ইউনূসদের মতো ব্যক্তিরা আজ অবাঞ্চিত, অথচ তাদের হাত ধরে বাংলাদেশে উগ্র ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটছে।”
বক্তারা আরও বলেন, “আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে দিলে ইতিহাসে তা নিঃশেষ হবে না, বরং পুনরায় দ্বিগুণ শক্তিতে ফিরে আসবে—এটাই ইতিহাসের শিক্ষা।” তারা এই সিদ্ধান্তকে ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
তাঁরা সতর্ক করে বলেন, “আজকের বাংলাদেশ চরম সংকটের মুখে। ১৯৭১-এর পরাজিত অপশক্তি ও বিদেশি দোসররা আবার সক্রিয়। তারা দেশকে একটি নতুন উগ্রবাদী ও ধর্মান্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করার চক্রান্তে লিপ্ত।”
বক্তারা অভিযোগ করেন, “এই নাটকের মূল উদ্দেশ্য ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত ক্ষোভের শোধ। কিছু সুবিধাবাদী ছাত্রনেতা ও ধর্মীয় মৌলবাদীদের দিয়ে সাজানো এই তথাকথিত সরকার দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তিকে নিষিদ্ধ করে পুরো জাতিকে রাজনৈতিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে।”
তাঁদের কটাক্ষ :
“যারা কথায় কথায় জার্মানির হিটলারের উদাহরণ টানেন, তাদের মনে রাখা উচিত—১৯৩০-এর দশকে বার্লিনের পার্লামেন্টে হিটলারের ছবি টাঙানোর যে ইতিহাস আছে, আজ বাংলাদেশের পরিস্থিতি সেই দিকেই যাচ্ছে।”
সমাপ্তিতে বক্তারা বলেন,
“বাংলাদেশে যারা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারা ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াবে। প্রবাসে অবস্থানকারী বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশিরা এই ফ্যাসিবাদী সিদ্ধান্ত ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতন্ত্র রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের অঙ্গীকার করছে।”



















