Logo

আন্তর্জাতিক    >>   বাতাসে কোটি কোটি টাকার সোনা ছড়াচ্ছে আগ্নেয়গিরি, রহস্যের সমাধান মেলেনি ৩০ বছরেও!

বাতাসে কোটি কোটি টাকার সোনা ছড়াচ্ছে আগ্নেয়গিরি, রহস্যের সমাধান মেলেনি ৩০ বছরেও!

বাতাসে কোটি কোটি টাকার সোনা ছড়াচ্ছে আগ্নেয়গিরি, রহস্যের সমাধান মেলেনি ৩০ বছরেও!

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
লাভা, ছাই আর ধ্বংসযজ্ঞ— সক্রিয় আগ্নেয়গিরির সঙ্গে সাধারণত এমন দৃশ্যই জড়িয়ে থাকে। তবে অ্যান্টার্কটিকার মাউন্ট ইরেবাস যেন সেই ধারণার সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। বিশ্বের সবচেয়ে দক্ষিণে অবস্থিত এই সক্রিয় আগ্নেয়গিরি প্রতিদিন অণুবীক্ষণিক স্ফটিক আকারে খাঁটি সোনার ধুলিকণা বাতাসে ছড়িয়ে দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

সায়েন্স অ্যালার্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যান্টার্কটিকার রস সাগরের রস দ্বীপে, ভৌগোলিক দক্ষিণ মেরু থেকে প্রায় ১ হাজার ৩৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মাউন্ট ইরেবাসের ভেতরে রয়েছে একটি স্থায়ী ফুটন্ত লাভার হ্রদ। সেখান থেকে নির্গত গ্যাসের মধ্যেই অণুবীক্ষণিক সোনার কণা শনাক্ত করা হয়েছে।

১৯৯১ সালে জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার্স সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় জানানো হয়, মাউন্ট ইরেবাস প্রতিদিন প্রায় ৮০ গ্রাম সোনার ধুলিকণা উদগিরণ করে। এসব কণা আগ্নেয়গিরি থেকে এক হাজার কিলোমিটার বা তারও বেশি দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এখন পর্যন্ত এটিই বিশ্বের একমাত্র পরিচিত আগ্নেয়গিরি, যেখান থেকে স্ফটিক আকৃতির খাঁটি সোনার কণা নির্গত হওয়ার প্রমাণ মিলেছে।

গবেষকদের মতে, সোনা সরাসরি বাষ্প হয়ে উড়ে যায় না। বরং এটি ক্লোরিন বা সালফারযুক্ত উদ্বায়ী যৌগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আগ্নেয়গিরির উত্তপ্ত গ্যাসের মাধ্যমে বাইরে আসে। পরে গ্যাস ঠান্ডা হলে সেই যৌগ থেকে আলাদা হয়ে সোনা স্ফটিক আকারে জমাট বাঁধে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো ইনস্টিটিউট অব মাইনিং অ্যান্ড টেকনোলজির ভূ-রসায়নবিদ কিম্বার্লি মিকারের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখের আশপাশের বরফ, লাভা হ্রদ থেকে নির্গত গ্যাস এবং আগ্নেয়গিরি থেকে এক হাজার কিলোমিটার দূরের বায়ুমণ্ডল থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তিনটি নমুনাতেই খাঁটি সোনার অণুবীক্ষণিক কণা পাওয়া যায়।

ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এসব কণা অনিয়মিত নয়; বরং অত্যন্ত সুগঠিত ও প্রায় নিখুঁত জ্যামিতিক স্ফটিকের মতো। কিছু কণার প্রস্থ প্রায় ৬০ মাইক্রোমিটার পর্যন্ত।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, মাউন্ট ইরেবাসের দৈনিক ৮০ গ্রাম সোনা নির্গমন অন্য কয়েকটি আগ্নেয়গিরির তুলনায় কম। হাওয়াইয়ের কিলাউয়েয়া থেকে প্রতিদিন আনুমানিক ৫০০ থেকে ৮০০ গ্রাম এবং ইতালির এটনা থেকে প্রায় ২ দশমিক ৪ কেজি পর্যন্ত সোনা নির্গত হওয়ার তথ্য মিলেছে। তবে সেসব ক্ষেত্রে সোনা রাসায়নিক পরীক্ষায় শনাক্ত হলেও ইরেবাসের মতো খাঁটি স্ফটিক আকারে পাওয়া যায়নি।

গবেষকদের ধারণা, ইরেবাসের বিশেষ তাপমাত্রা, ভূতাত্ত্বিক গঠন কিংবা আগ্নেয়গিরির অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক পরিবেশ সোনাকে স্ফটিকে রূপ নিতে সহায়তা করে। তবে তিন দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এই বিরল ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো উদঘাটন করতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট, জাগো নিউজ