নাইজেরিয়ায় মিলল ‘সাদা সোনা’র বিশাল ভাণ্ডার, বদলে যেতে পারে দেশের অর্থনীতির চিত্র
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
নাইজেরিয়ার কাদুনা রাজ্যে সোনা, লিথিয়াম, প্ল্যাটিনাম, নিকেল, তামাসহ বহু মূল্যবান খনিজের বিশাল ভাণ্ডারের সন্ধান মিলেছে। দেশটির সরকার এই আবিষ্কারকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছে। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি তৈরির প্রধান কাঁচামাল লিথিয়ামকে বিশ্বজুড়ে ‘সাদা সোনা’ বলা হয়। ফলে এই আবিষ্কার নাইজেরিয়ার অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজধানী আবুজায় অনুষ্ঠিত আফ্রিকান ন্যাচারাল রিসোর্সেস অ্যান্ড এনার্জি ইনভেস্টমেন্ট সামিট (AFNIS) ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশটির কঠিন খনিজ উন্নয়নমন্ত্রী ডেলে আলাকে এ ঘোষণা দেন। পরে নাইজেরিয়ান জিওলজিক্যাল সার্ভে এজেন্সি (NGSA) খনিজ ভাণ্ডারের অস্তিত্ব নিশ্চিত করে। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর এই গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়।
মন্ত্রী জানান, খনিটিতে এমন সব কৌশলগত খনিজ রয়েছে, যেগুলোর বৈশ্বিক চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে ক্লিন এনার্জি প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আধুনিক শিল্পে এসব খনিজের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। সরকারের দাবি, কাদুনার এই খনিজ ভাণ্ডার নাইজেরিয়াকে টেকসই খনি খাতে বৈশ্বিক বিনিয়োগের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করতে পারে। প্রেসিডেন্ট বোলা তিনুবুর অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও খনিজ খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে খনি খাতে স্বচ্ছতা আনতে ইতোমধ্যে তিন হাজারের বেশি নিষ্ক্রিয় খনি লাইসেন্স বাতিল করেছে সরকার। পাশাপাশি নতুন নীতিমালার আওতায় অপরিশোধিত খনিজ বিদেশে রপ্তানির পরিবর্তে দেশেই প্রক্রিয়াজাত করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। ফলে আবেদনকারীদের স্থানীয়ভাবে খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণের পরিকল্পনা জমা দিতে হচ্ছে।
সরকারের এই নীতির কারণে ইতোমধ্যে বড় অঙ্কের বিদেশি বিনিয়োগও আসতে শুরু করেছে। নাসারাওয়া রাজ্যে ৬০০ মিলিয়ন ডলারের এবং আবুজায় ২০০ মিলিয়ন ডলারের লিথিয়াম প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্ট চালুর অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া কোগি রাজ্যে এক বিলিয়ন ডলারের লৌহ আকরিক প্রকল্পও বাস্তবায়নাধীন।
সম্মেলনের অংশ হিসেবে আবুজায় স্টেরন মাইনিং কোম্পানির একটি খনি পরিদর্শনের সময় জানানো হয়, সেখানে আনুমানিক ৩৩ লাখ মেট্রিক টন লিথিয়ামের মজুত রয়েছে। কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু ওমর বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে স্থানীয়ভাবে খনিজ প্রক্রিয়াজাত করার পরই বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে।
স্টেরন মাইনিংয়ের ভূতাত্ত্বিক বেলো দামুলাক জানান, ওই এলাকায় মোট খনিজ সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৯ কোটি ৪৮ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে প্রায় ৩৩ লাখ মেট্রিক টন খাঁটি লিথিয়াম, আর বাকি অংশ গ্রানাইট শিলা। বিশ্লেষকদের মতে, এই আবিষ্কার শুধু নাইজেরিয়ার অর্থনীতিকেই শক্তিশালী করবে না, বরং আফ্রিকার জ্বালানি ও খনিজ খাতেও নতুন সম্ভাবনার সূচনা করবে। সূত্র: প্রিমিয়াম টাইমস, বিজনেস ইনসাইডার আফ্রিকা, জাগোনিউজ



















