Logo

ইউএসএ নিউজ    >>   বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদে নিউইয়র্কে আন্তধর্মীয় ভিজিল: নিহতদের স্মরণে জ্যাকসন হাইটসে মোমবাতি প্রজ্বালন ও ঐক্যের আহ্বান

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদে নিউইয়র্কে আন্তধর্মীয় ভিজিল: নিহতদের স্মরণে জ্যাকসন হাইটসে মোমবাতি প্রজ্বালন ও ঐক্যের আহ্বান

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদে নিউইয়র্কে আন্তধর্মীয় ভিজিল: নিহতদের স্মরণে জ্যাকসন হাইটসে মোমবাতি প্রজ্বালন ও ঐক্যের আহ্বান

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক : 
বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু—বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর চলমান সহিংসতায় নিহতদের স্মরণে তীব্র শীত উপেক্ষা করে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে এক আন্তধর্মীয় স্মরণসভা ও ভিজিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। জ্যাকসন হাইটসের জুইশ সেন্টারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন ধর্ম, জাতিগোষ্ঠী ও কমিউনিটির প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রবিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এই ভিজিলটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ২০টিরও বেশি শহরে ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত সচেতনতা কর্মসূচির অংশ। কর্মসূচির আয়োজন করে কোহনা ও হিন্দু অ্যাকশন। স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন হিন্দু অ্যাকশনের উপদেষ্টা ও কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট শুভ রায় এবং পঙ্কজ মেহেতা।


আয়োজকরা জানান, মূলত নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে উন্মুক্ত ভিজিল আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও তীব্র শীত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অনুষ্ঠানটি জ্যাকসন হাইটসে স্থানান্তর করা হয়। তবে আবহাওয়া সত্ত্বেও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধর্ম ও কমিউনিটির মানুষের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
অনুষ্ঠানে হিন্দু, মুসলিম, ইহুদি, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। বিশ্ব শান্তি সংস্থা HWPL-এর প্রতিনিধি আন্দ্রে ফাদেল বলেন, মানব মর্যাদা রক্ষা ও সহিংসতা প্রতিরোধে আন্তধর্মীয় ঐক্য এখন সময়ের দাবি।


ইসকন নিউইয়র্কের সভাপতি হংস রূপ দাস করুণা, ন্যায়বোধ ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মুসলিম নেত্রী সুরায়া দীন ধর্মের নামে সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, কোনো ধর্মই বিদ্বেষ ও হত্যাকে সমর্থন করে না।

জৈন সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে চারুল কোঠারি পাঠ করা বার্তায় অহিংসা ও পারস্পরিক সম্মানের দর্শন তুলে ধরা হয়। শিখ নেতা কমল পুরি শিখ ধর্মের ন্যায় ও নিপীড়িতের পক্ষে দাঁড়ানোর ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করেন।


অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির সদস্য জেনিফার রাজকুমার। তিনি বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এর নিন্দা জানান এবং বিষয়টি নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি ও যুক্তরাষ্ট্রের জনপরিসরে তুলে ধরার অঙ্গীকার করেন। তিনি একটি শান্তিপূর্ণ, সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের কেন্দ্রীয় অংশে বাংলাদেশে সহিংসতায় নিহতদের নাম পাঠ করা হয়। প্রতিটি নামের সঙ্গে প্রদীপ ও মোমবাতি প্রজ্বালন করা হয় এবং নীরবতা পালন করা হয়। এই পর্বটি উপস্থিত সকলের মধ্যে গভীর আবেগের সৃষ্টি করে।


আন্তঃকমিউনিটি সংগঠক পঙ্কজ মেহতা বলেন, “এই ভিজিল শুধু স্মরণ নয়, এটি একটি স্পষ্ট বার্তা। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ক্যাপিটল হিলে কংগ্রেশনাল ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে আমরা এই বিষয়গুলো সরাসরি মার্কিন কংগ্রেসের সামনে তুলে ধরব।”
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ও শিক্ষাবিদ দ্বীজেন ভট্টাচার্য, ডেমোক্রেটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার ড. দিলীপ নাথ, কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ শিতাংশু গুহ, বিদ্যুৎ সরকারসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ভারতীয় ডায়াস্পোরার পক্ষ থেকে সহযোগিতা করেন সত্য সেনাপতি।
বক্তারা সম্মিলিতভাবে মত দেন, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়; এটি মানবাধিকার ও বৈশ্বিক ন্যায়বিচারের প্রশ্ন। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।