শ্রদ্ধাঞ্জলি: সমাজ সংস্কারক ও শিক্ষানুরাগী নগেন দেওয়ানীর ১০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
নিজস্ব প্রতিবেদক, কুড়িগ্রাম, বাংলাদেশ:
কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার কৃতি সন্তান, বিশিষ্ট সমাজ সংস্কারক ও আলোকবর্তিকা সদৃশ ব্যক্তিত্ব নগেন দেওয়ানীর দশম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি এই কর্মবীর ইহলোক ত্যাগ করেন। তাঁর প্রয়াণে এলাকাবাসী এক অসাম্প্রদায়িক ও জনহিতৈষী ব্যক্তিত্বকে হারায়। আজ তাঁর ১০ম মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।
রাজারহাট উপজেলার ডাংরারহাট গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া নগেন দেওয়ানী কেবল নামেই নয়, কর্মেও ছিলেন একজন প্রকৃত 'দেওয়ানী' বা অভিভাবক। সমাজ সংস্কারে এক আজীবন যোদ্ধা হিসাবে পরিচিত। তিনি বিশ্বাস করতেন, একটি জাতির মেরুদণ্ড কেবল শিক্ষাই নয়, বরং নৈতিকতা সম্পন্ন সুশিক্ষা। এই লক্ষ্যেই তিনি ডাংরারহাট ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া মানুষের মাঝে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে আজীবন সংগ্রাম করেছেন।
তিনি প্রচারবিমুখ থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের অবকাঠামোগত উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন। মানুষের নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি বিকাশেও তিনি সোচ্চার ছিলেন। তাঁর সহজ-সরল জীবনযাপন এবং পরোপকারী মানসিকতা তাঁকে স্থানীয় মানুষের হৃদয়ে একজন 'অভিভাবক' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।
তাঁর কাজের ধরন ছিল নিরবচ্ছিন্ন। সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং এলাকার যেকোনো জনহিতৈষী কাজে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া ছিল তাঁর স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য।
নগেন দেওয়ানী কেবল একজন সমাজ সংস্কারক ও শিক্ষানুরাগীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের এক মূর্ত প্রতীক। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের কাছে তিনি ছিলেন এক নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল। তাঁর সহজ-সরল জীবনযাপন এবং পরোপকারী মানসিকতা আজও স্থানীয় মানুষের কাছে গল্পের মতো মুখে মুখে ফেরে।
আজ তাঁর ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্থানীয় মানুষজন ও পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে। এলাকাবাসীর মতে, নগেন দেওয়ানীর মতো মানুষের শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তাঁর আদর্শকে ধারণ করে সমাজ গড়ার শপথ নেওয়াই হবে তাঁর প্রতি শ্রেষ্ঠ সম্মান।


















