Logo

আন্তর্জাতিক    >>   বরিশাল-৫: গরীবের ডাক্তার, ডা. মনীষা চক্রবর্তী মানুষের পাশে এবার জাতীয় নির্বাচনে

বরিশাল-৫: গরীবের ডাক্তার, ডা. মনীষা চক্রবর্তী মানুষের পাশে এবার জাতীয় নির্বাচনে

বরিশাল-৫: গরীবের ডাক্তার, ডা. মনীষা চক্রবর্তী মানুষের পাশে এবার জাতীয় নির্বাচনে

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র:

বরিশাল-৫ (সদর) আসনে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর মনোনীত প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তী দেশের রাজনীতিতে এক ভিন্ন এবং মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন। বরিশালে জন্ম ও বেড়ে ওঠা মনীষা বরিশাল মেডিকেল কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে ডাক্তারি পাশ করেছেন।

বিসিএস পাশ করেও সরকারি চাকরি গ্রহণের পর বুঝতে পারেন, মানুষসেবার প্রকৃত সুযোগ সরকারি কাঠামোয় সীমাবদ্ধ। তাই সরকারি চাকরি ছেড়ে তিনি মানুষের পাশে দাঁড়ান, সেবাকে প্রাধান্য দিয়ে নিজের পরিচয় তৈরি করেন ‘গরীবের ডাক্তার’ হিসেবে।

করোনা মহামারীর সময়ে নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে তিনি ঘরে ঘরে গিয়ে রোগীদের চিকিৎসা করেছেন। এমন মানবিকতা ও দেশপ্রেমিক মনোভাব তাকে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক সমর্থকদের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে। বিদেশে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি বরিশাল ত্যাগ করেননি। ঢাকা বা নামি দামী হাসপাতালগুলোতে যোগ দিয়ে আরামদায়ক জীবন কাটানো সহজ হতো, কিন্তু তিনি বেছে নিয়েছেন বরিশালের মানুষের পাশে থাকা ও বামধারার রাজনীতি করা।

ডা. মনীষা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এক অভিনব কৌশল গ্রহণ করেছেন। প্রচারণার সময় তিনি বড় মিছিল, হ্যান্ডমাইক বা পোস্টার দিয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করেন না। বরং তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করেন। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তিন থেকে ছয় ঘণ্টা হাঁটেন, দোকান-বেঞ্চিতে বসে চা খান, ভোট চাইতে যান না; বরং মানুষের জীবন বোঝার চেষ্টা করেন। তিনি প্রশ্ন করেন – “গত কয়েক বছরে কী বদলেছে? মানুষ কীভাবে দিন কাটাচ্ছে?”

তিনি ছোট ছোট উঠান বৈঠক ও চায়ের দোকানে ভোটারদের সঙ্গে সংলাপ করেন। বক্তৃতা নয়, তিনি শুনতে পছন্দ করেন। ভোটের সময়ে প্রতিশ্রুতির পাহাড় গড়ার বদলে, তিনি দীর্ঘমেয়াদি জনস্বার্থ-সংক্রান্ত আন্দোলনকে প্রধান রেখেছেন। নির্বাচিত হোক বা না হোক, মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার তার রাজনীতির মূল ভিত্তি।

বরিশালে সাধারণ মানুষের সঙ্গে নীরব সংযোগই মনীষার রাজনৈতিক শক্তি। তিনি ভোটারদের সমস্যা, তাদের দৈনন্দিন জীবন, অভাব-অভিযোগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত প্রশ্নগুলি শুনে সংহতি গড়ে তোলেন। স্থানীয়দের মতে, “হেঁটে হেঁটে মানুষের পাশে থাকার এই রাজনীতি মনীষা ছাড়া আর কারো মধ্যে চোখে পড়ে না। বড় ব্যানার বা জাঁকজমকপূর্ণ প্রচারের মধ্যে এই ধরনের সংযোগ ধরা পড়ে না। কিন্তু অনেক ছোট বৈঠক ও চায়ের দোকানে তার নিঃশব্দ ছাপ থেকে যায়।”

এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে তিনি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হলেও তার নৈতিকতা, উদারতা, নিষ্ঠা ও সততা মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করছে। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অনৈতিকতার অভিযোগ নেই।

সংবাদ সম্মেলনে বাসদ নেতারা জানান, দল জন্মলগ্ন থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শোষণমুক্ত ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামে নিয়োজিত। বরিশাল-৫ আসনের নির্বাচনে গণমানুষের অর্থায়নে অংশ নেওয়া হচ্ছে। বরিশালের বিভিন্ন রিকশা গ্যারেজ, হোটেল ও বাসাবাড়িতে শতাধিক মাটির ব্যাংক বিতরণ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ দৈনন্দিন খরচ থেকে ২, ৫ বা ১০ টাকা জমা দিচ্ছেন। বিকাশ, নগদ ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সহায়তাও নেওয়া হচ্ছে।

গণমানুষের অর্থায়নে বরিশালে নির্বাচন করছেন ডা. মনীষা। ছবি: মাটির ব্যাংক সংগ্রহ কর্মসূচি।

নেতারা বলেন, বর্তমান নির্বাচনী ব্যবস্থায় কালো টাকা ও পেশিশক্তির প্রভাব থাকায় জনগণের স্বার্থ প্রাধান্য পায় না। তাই বাসদের স্লোগান: ‘ভোট দিন, ভোটের খরচ যোগান, জনগণের পক্ষের সৎ, যোগ্য ও নীতিবান প্রার্থীকে নির্বাচিত করুন।’

মনিষার এই কর্মশৈলী ও মানবিক রাজনীতি শুধু নির্বাচনী নয়; বরং এটি বরিশালের মানুষের জীবনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা এক ধারাবাহিক আন্দোলন। নির্বাচনী প্রচারণা যেন দর্শনীয় মঞ্চ নয়, মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক স্থাপনের এক সুযোগ।

বরিশাল জেলা মহিলা পরিষদের সভানেত্রী অধ্যাপক শাহ সাজেদা বলেন, “মনিষার রাজনীতি খাঁটি। বহরের প্রচার নয়, ছোট বৈঠক ও নীরব সংযোগের মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকার এই রাজনীতি অন্য কারোর মধ্যে চোখে পড়ে না। দীর্ঘদিন ধরে খেটে খাওয়া মানুষের বিপদে-আপদে তিনি ৩৬৫ দিনই পাশে থাকেন।”

বরিশালবাসীর প্রতি আহ্বান – ডা. মনীষা চক্রবর্তীকেই ভোট দিয়ে সংসদে পাঠান। তিনি শুধু জয়ী হবেন না, বরং বরিশালের মানুষের গণতান্ত্রিক শক্তি ও নৈতিক রাজনীতির প্রতীক হয়ে থাকবেন।