গানের সুরে, জ্ঞানের আলোয়—এক স্মরণীয় সন্ধ্যা মুত্তালিব বিশ্বাসের সঙ্গে - স্মৃতির আড্ডা
কাবেরী দাশ:
গতকালের সন্ধ্যাটি ছিল আমার জীবনের এক অনন্য ও হৃদয়ছোঁয়া অভিজ্ঞতা—যে সন্ধ্যা সময়ের কাঁটাকে থামিয়ে দিয়েছিল মুহূর্তের আবেশে। প্রিয় কাকু, বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী ও গবেষক শ্রদ্ধেয় মুত্তালিব বিশ্বাস–এর সান্নিধ্যে কয়েকটি মূল্যবান ঘণ্টা কাটানোর সৌভাগ্য হলো। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আরেক গুণীজন, ড. জীবন বিশ্বাস। জ্ঞান, সংগীত আর জীবনের অভিজ্ঞতায় মোড়া সেই আড্ডা ছিল যেন এক চলমান পাঠশালা—যেখানে প্রতিটি কথা, প্রতিটি সুর হৃদয়ে স্থায়ী ছাপ রেখে যায়।
মুত্তালিব বিশ্বাস কেবল একজন সংগীতশিল্পী নন; তিনি জ্ঞানের এক জীবন্ত ভাণ্ডার। তাঁর কথায় আছে ইতিহাসের গভীরতা, অভিজ্ঞতার প্রজ্ঞা আর মানবিকতার উষ্ণতা। কথার মাধুর্য আর স্মৃতির ঝর্ণাধারায় কখন যে সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হয়ে গেল, তা টেরই পাইনি।
৯১ বছর বয়সেও তাঁর কণ্ঠের দৃঢ়তা, সুরের শুদ্ধতা ও আবেগের গভীরতা বিস্ময়ে ভরিয়ে দেয় মন। একের পর এক গান গেয়ে শোনালেন কাকু—প্রতিটি গানে ছিল সাধনা, জীবন আর সময়ের ছাপ। তাঁর গান শুনতে শুনতে বারবার মনে পড়ছিল আমার বাবার কথা—যাঁর কণ্ঠও বয়সের ভারে কখনো ম্লান হয়নি। কাকুর গানে যেন সেই স্মৃতিগুলো নতুন করে জীবন্ত হয়ে উঠল।
এই সংগীতময় সন্ধ্যায় ড. জীবন বিশ্বাসও কয়েকটি চমৎকার গান পরিবেশন করেন। তাঁর কণ্ঠে যুক্ত হয়েছিল অন্যরকম এক আবেশ, যা পুরো আড্ডাকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে।
সবশেষে, সত্যিই মধুরেণ সমাপয়েৎ—রাতের খাবারের মধ্য দিয়ে শেষ হলো সেই হৃদ্যতাপূর্ণ আড্ডা। আমার জন্য কাকু নিজ হাতে করে নিয়ে এসেছিলেন অসাধারণ স্বাদের দই-মিষ্টি—যার মধ্যে লুকিয়ে ছিল নিখাদ স্নেহ আর পারিবারিক ভালোবাসার উষ্ণতা। এই আনন্দঘন সন্ধ্যার সাক্ষী ছিল আমার নাতনী ঈশানী ও কন্যা পারমিতাও। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়া এই হাসি, গান আর ভালোবাসাই যেন জীবনের আসল সার্থকতা।
পুরো সন্ধ্যাটাই ছিল সংগীত, স্মৃতি ও মানবিক বন্ধনের এক অনুপম মিলনমেলা। এমন মুহূর্ত জীবনকে নতুন করে ভাবতে শেখায়, শিকড়ের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
শ্রদ্ধেয় মুত্তালিব বিশ্বাসের সুস্থ, দীর্ঘ ও নীরোগ জীবন কামনা করি। তিনি যেন এভাবেই আমাদের সবার মাথার ওপর আশীর্বাদের ছায়া হয়ে বিরাজ করেন—এই প্রার্থনাই রইল।
কাবেরী দাশ, সংগীত পরিচালক ও সিইও - সংগীত পরিষদ নিউইয়র্ক।


















