গ্লোবাল বাংলাদেশ ইউনিটি নেটওয়ার্ক (জিবিইউএন)-এর প্রেস বিবৃতি: মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশে দেশের বিশিষ্টজন ও স্বাধীন মতপ্রকাশকারীদের গ্রেপ্তার, হয়রানি এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রতিবাদ
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
গ্লোবাল বাংলাদেশ ইউনিটি নেটওয়ার্ক (জিবিইউএন) গভীর ক্ষোভ ও দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, বাংলাদেশে অগণতান্ত্রিক ও অবৈধ ইউনুস সরকার প্রতিহিংসাপরায়ণ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে দেশের বিশিষ্টজন, স্বাধীন মতপ্রকাশকারী, শিক্ষাবিদ, গবেষক, শিল্পী, সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মী ও বুদ্ধিজীবীদের বিরুদ্ধে নিপীড়ন চালাচ্ছে। বিচারপতি, আইনজীবী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও শিক্ষক, খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ, প্রগতিশীল শিল্পীসহ বহু মুক্তচিন্তার মানুষকে গ্রেপ্তার, হয়রানি এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে অন্যায়ভাবে দমন করা হচ্ছে।
সম্প্রতি অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার, হামলা ও মিথ্যা মামলার শিকার বিশিষ্টজনদের মধ্যে রয়েছেন ,সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক ,সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন আহমেদ মানিক ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক চেয়ারম্যান ও ডিন প্রফেসর শিবলী রুবায়াত-উল-ইসলাম ,বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) প্রাক্তন সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর এস. এম. আনোয়ারা বেগম ,সাবেক উপাচার্য, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রফেসর আব্দুস সাত্তার ,কৃষি অর্থনীতিবিদ ও পরিকল্পনা কমিশনের প্রাক্তন সদস্য ড. শামসুল আলম ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক, প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর আবুল বারকাত ,বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ ,মুক্তচিন্তা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের নিবেদিত প্রাণ চিত্রশিল্পী কামাল পাশা চৌধুরী এবং আরও বহু বিশিষ্টজন।জাতির আলোকবর্তিকা এসব বিচারপতি, শিক্ষাবিদ, গবেষক, আইনজীবী ও শিল্পীদের বিরুদ্ধে আনা হত্যা, দুর্নীতি ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগগুলো স্পষ্টতই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এটি শুধু কয়েকজন ব্যক্তির ওপর নয়, বরং গোটা জাতির বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা ও মুক্তচিন্তার ওপর নির্মম আঘাত। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালা ও ন্যায়ের মৌলিক মানদণ্ডের পরিপন্থী এই কর্মকাণ্ড জাতিকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
আজ ইউনুসের মব বাহিনীর তাণ্ডবে ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশ আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে। নারী ও শিশুরা নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে, সর্বত্র চলছে হত্যা, চাঁদাবাজি, লুটপাট, ধর্ষণ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন ও পেশাজীবীদের ওপর হামলা। বিচারহীনতা, আইনের অপব্যবহার ও ন্যায়বিচারের অভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রকাশ্য দিবালোকে মবসন্ত্রাসীরা পাথর নিক্ষেপ, জবাই ও অমানবিক নির্যাতনের মাধ্যমে মানুষ হত্যা করছে, অথচ রাষ্ট্র নির্বিকার।
আমাদের জোর দাবি:
১. অবিলম্বে দেশের সকল বিচারপতি, শিক্ষাবিদ, গবেষক, শিল্পী, সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মী ও মুক্তচিন্তার মানুষদের ওপর চালানো মিথ্যা মামলা, হয়রানি ও গ্রেপ্তার বন্ধ করতে হবে।
২. রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নামে যেসব বিশিষ্টজনকে অন্যায়ভাবে কারারুদ্ধ করা হয়েছে তাঁদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।
৩. দেশে আইনের শাসন, মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।
৪. নাগরিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী সব কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে।
গ্লোবাল বাংলাদেশ ইউনিটি নেটওয়ার্ক (জিবিইউএন) দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে— বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ মুক্তচিন্তা, মানবিক মূল্যবোধ, গণতান্ত্রিক অধিকার ও আইনের শাসনের ওপর নির্ভরশীল। জাতির এই সংকটময় সময়ে আমরা দেশি-বিদেশি সকল গণতন্ত্রপ্রেমী, মানবাধিকারকর্মী ও প্রগতিশীল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাই।
– গ্লোবাল বাংলাদেশ ইউনিটি নেটওয়ার্ক (জিবিইউএন)



















