উদীচী ফ্রান্স সংসদের আয়োজনে বৈশাখী মেলা: বাংলার লোকসংগীত ও সংগ্রাম – বৈশাখী উৎসবে নতুন প্রজন্মের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক , ফ্রান্স ,১৮ মে ২০২৫:
বাংলার লোকসংগীত ও সংগ্রাম—এই শিরোনামে উদীচী ফ্রান্স সংসদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ উদযাপন। রবিবার, স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় উবারভিলিয়ে শহরে আয়োজিত এই বৈশাখী মেলায় ভিন্ন জাতিগোষ্ঠির অংশগ্রহণে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মিলনমেলায় পরিণত হয় পুরো আয়োজন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই অনুষ্ঠিত হয় শিশু-কিশোর ও ভিন্ন জাতিগোষ্ঠির অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। উদীচী ফ্রান্সের কোষাধ্যক্ষ রোমানা আফরোজ, এর পরিচালনায় আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় প্রায় অর্ধশত শিশু-কিশোর অংশ নেয়।
চিত্রাঙ্কন শেষে বর্ণিল মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। মুখোশ, প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুনে সজ্জিত এই শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন বয়সের মানুষ। শোভাযাত্রার প্রস্তুতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীত ব্র্যান্ড ‘জলের গান’-এর শিল্পী ও গীতিকার রাহুল আনন্দ, চিত্রশিল্পী উর্মিলা বসাক শুক্লা, এবং শিশু শিল্পী চন্দ্রবিন্দু তোতা।
শোভাযাত্রা শেষে বাংলাদেশে জাতীয় সংগীত অবমাননার প্রতিবাদে উপস্থিত শিল্পীকর্মী, অতিথি ও দর্শকদের অংশগ্রহণে জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়। পরে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়, যেখানে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন উবারভিলিয়ে মেরীর আর্ট প্লাস্টিক বিভাগের পরিচালক ম্যাডাম লেনা মোনিয়ে।
এরপর , বর্ষবরণের তৃতীয় পর্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন উদীচী ফ্রান্স সংসদের সভাপতি কিরণ্ময় মণ্ডল, অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হাওলাদার।
বক্তব্য রাখেন—
জাকিয়া বুদিজি, উবারভিলিয়ে মেরীর সংস্কৃতি বিষয়ক সহকারী মেয়র,
সানন্দ্রিন দেজির, ভি এসোসিয়েটিভ সহকারী মেয়র,কামেল দা ফ্রী, ভিল দো মুজিক দো মন্দ-এর পরিচালক,আন্তনী দাগে, প্রাক্তন সহকারী মেয়র,গিয়োম লুসকেত, লা ফন্স আনসুমী পার্টির স্থানীয় সাধারণ সম্পাদক,
কার্লোস সামেদু, ভাষা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালক।
এছাড়া অনুষ্ঠান পরিকল্পনা ও সংগীত পরিচালনায় ছিলেন সহ-সভাপতি রোজী মজুমদার, সহযোগিতায় সুস্মিতা বড়ুয়া, নির্বাহী সম্পাদক, সংগীত বিভাগ। যন্ত্রানুসঙ্গ নির্দেশনায় ছিলেন সহ-সভাপতি সাগর বড়ুয়া, সহযোগিতায় প্লাসিড শিপন রিবেরিও।
নৃত্য পরিকল্পনায় ছিলেন জি.এম. শরিফুল ইসলাম, নির্বাহী সম্পাদক, নৃত্য বিভাগ। নাট্য নির্দেশনায় ছিলেন প্রদীপ কুমার বড়ুয়া টিপু এবং দীপক নিকোলাস গোমেজ। আবৃত্তি নির্দেশনায় ছিলেন কার্যকরী সদস্য শম্পা বড়ুয়া।
শিশু-কিশোর পরিবেশনার সংগীত পরিচালনায় ছিলেন রোজী মজুমদার, সহযোগিতায় সুস্মিতা বড়ুয়া। নৃত্য পরিচালনায় জি.এম. শরিফুল ইসলাম। নাট্য পরিকল্পনায় কিরণ্ময় মণ্ডল, নাটক পরিচালনায় প্রদীপ কুমার বড়ুয়া টিপু ও দীপক নিকোলা গোমেজ।
শিশু-কিশোরদের পরিবেশনা যৌথভাবে উপস্থাপনা করেন রোমানা আফরোজ, কোষাধ্যক্ষ এবং সুস্মিতা বড়ুয়া, নির্বাহী সম্পাদক।
বড়দের পরিবেশনা উপস্থাপনায় ছিলেন সাইফুল ইসলাম, শম্পা বড়ুয়া, শর্মিষ্ঠা বড়ুয়া এবং আবু বকর আলামিন।
এছাড়া আয়োজনের শেষ পর্বে ছিলো বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘জলের গান’-এর শিল্পী রাহুল আনন্দ-এর একক সংগীত পরিবেশনা, যা হাজারো দর্শককে আবিষ্ট
আয়োজনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন—
রজত রায় রাজু, জহির হোসেন ভূঁইয়া, দীপক নিকোলাস গোমেজ, প্রদীপ কুমার বড়ুয়া টিপু, পলাশ বড়ুয়া, নির্মল দে, তপন দাস, নাসির উদ্দিন, বেনু সরকার এবং আরও অনেকে।
এছাড়াও মঞ্চ ও সাজসজ্জায় ভূমিকা রাখেন—
রাহুল আনন্দ, উর্মিলা বসাক শুক্লা, দুলাল চন্দ মিশেল, শিমুল রায়, শুভাশীষ রায় শুভ, বাবুল বড়ুয়া, সাইফুল ইসলাম, নির্মল দে, রনধীর কুমার বোস, নাসির উদ্দিন, আবু বকর আলামিন, রহমান সাদিক সুমন প্রমুখ।
স্বেচ্ছাসেবক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন,
সলিমুল্লাহ সিদ্দিকী রানা, সুশীল সিংহ, স্বাগত, সম্ভার, রৌদ্র রায়।
মেলায় দেশজ খাবার ও ঐতিহ্যবাহী পণ্যের স্টল আয়োজনের দায়িত্বে ছিলেন আহাম্মেল আলী দুলাল। প্রচার কার্য পরিচালনায় ছিলেন, শিমুল রায়, নির্বাহী সম্পাদক, প্রচার বিভাগ,দুলাল চন্দ মিশেল, সহকারী সাধারণ সম্পাদক,শুভাশীষ রায় শুভ, কার্যকরী সদস্য,
লিপিকা বড়ুয়া, সদস্য।
অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচারে ছিলেন বিকাশ কর্মকার এবং আলোকচিত্র ধারণ করেন বিশ্বজিৎ ভট্ট।



















