কবিতা: লাবণ্য—মুক্তা লোহ
লাবণ্য…
মুক্তা লোহ
তোমার কি মনে পড়ে—
সেই সোনা ঝরা এক সন্ধ্যা?
জানালার পাশে আমরা দুজন,
মুখোমুখি চুপটি করে বসে ছিলাম।
কথা ছিল না কোনো—শুধুই নীরবতা।
তবে সে নীরবতা কি সত্যিই নীরব ছিল?
না, দুজনের চোখের গভীর দৃষ্টিতে
হাজারো অপ্রকাশিত কথা
নিঃশব্দেই আদান–প্রদান হচ্ছিল।
আজও ভাবি—
কেন তুমি এমন করলে?
পারলে না আমায় ক্ষমা করতে?
কি এমন অন্যায় ছিল আমার,
যে তুমি এভাবে চলে গেলে!
একবারও কি ভাবোনি—
তোমাকে ছাড়া আমি থাকব কেমন করে?
ভালোবাসলে তো
ক্ষমা করতেও জানতে হয়…
সময় ফুরিয়ে এল—
বিদায় ঘণ্টা বুঝি বাজতে চলেছে।
এখনই ফিরতে হবে
দুজনকে দুই ভিন্ন প্রান্তে।
হঠাৎ তুমি আস্তে করে
আমার হাতটি ধরলে—
চোখ দুটো ছলছল করছিল।
আজ তুমি খুব দূরে নও,
আছো আমার খুব কাছে।
তবু মনে হয়—
তুমি যেন অনেক দূরে।
কারণ তুমি এখন
আমার মর্মে আছো—
আছো আমার
গোপন অশ্রুজলে…
কত দুঃখ, কত বেদনা আর যন্ত্রণা
নিভৃতে ঢেকে রেখে
আমি যেন এক নিদ্রাহীন নদী—
এঁকে বেঁকে
অন্তহীন বয়ে চলেছি
প্রেমের স্রোতের টানে।
শেষে এসে পৌঁছেছি
তোমার মিলনের মোহনায়—
ভালোবেসে
সেই বক্ষে
পরম সুখে
হৃদয়ের গভীরে গিয়ে মিশেছি।
মনে হয়—
এবার বুঝি আসবে ঘুম,
এক মুঠো প্রশান্তি
এই ক্লান্ত মনে…
তাই বিদায়ের আগে
কবি গুরুর সেই অমর পংক্তি মনে পড়ে—
“ভরা থাক স্মৃতি সুধায় বিদায়ের পাত্রখানি,
মিলন উৎসবে তায় ফিরায়ে দিয়ো আনি।”
এই গানটুকু সঙ্গে নিয়ে
আমি বিদায় নিচ্ছি।
ভালো থেকো তুমি—
খুব ভালো…


















