Logo

ইউএসএ নিউজ    >>   নিউইয়র্কে ‘আনন্দধ্বনি’—প্রাণের উৎসব, প্রেরণার নাম

নিউইয়র্কে ‘আনন্দধ্বনি’—প্রাণের উৎসব, প্রেরণার নাম

নিউইয়র্কে ‘আনন্দধ্বনি’—প্রাণের উৎসব, প্রেরণার নাম

উত্তম কুমার সাহা:
নিউইয়র্কের প্রবাসী বাঙালি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কিছু সংগঠন আছে, যারা শুধু অনুষ্ঠান করে না—তারা ইতিহাস রচনা করে। ‘আনন্দধ্বনি’ তেমনই একটি সংগঠন, যার তুলনা করা সত্যিই কঠিন। তাদের প্রতিটি আয়োজন যেন শুধু উৎসব নয়, বরং শিকড়ের টানে ফিরে যাওয়ার এক অনন্য উপলক্ষ।
২০২৬ সালের ১২ এপ্রিল, নিউইয়র্কের কুইন্সবোরো পারফরমিং আর্টসে ‘আনন্দধ্বনি’র আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ ১৪৩৩-এর বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। প্রচারণা থেকে শুরু করে মঞ্চসজ্জা, পরিবেশনা থেকে সার্বিক ব্যবস্থাপনা—সবকিছুতেই ছিল পেশাদারিত্বের ছাপ এবং আন্তরিকতার উজ্জ্বল উপস্থিতি।


এই আয়োজনের নেপথ্যে ছিলেন সংগঠনের সভাপতি, প্রখ্যাত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অর্ঘ্য সারথী শিকদার। তার অক্লান্ত পরিশ্রম, দূরদর্শী পরিকল্পনা এবং সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতা এই আয়োজনকে প্রতি বছরই অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। তিনি শুধু একজন সংগঠক নন, তিনি এক প্রেরণার নাম—যিনি প্রবাসে থেকেও বাংলার সংস্কৃতিকে হৃদয়ে ধারণ করে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
একটি সফল অনুষ্ঠান আয়োজনের পেছনে যে পরিমাণ শ্রম, সময়, ত্যাগ এবং মানসিক চাপ জড়িয়ে থাকে, তা কেবল তারাই উপলব্ধি করতে পারেন যারা এই কাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। বাইরে থেকে হয়তো সবকিছু সহজ ও ঝলমলে মনে হয়, কিন্তু পর্দার আড়ালের বাস্তবতা অনেক কঠিন। দিনরাত পরিশ্রম, অসংখ্য চ্যালেঞ্জ, এবং সীমাবদ্ধতার মাঝেও একটি নিখুঁত আয়োজন উপহার দেওয়ার যে চেষ্টা—তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।
দুঃখজনকভাবে, প্রতিটি ভালো কাজের পরেই কিছু নেতিবাচক মন্তব্য, অপ্রয়োজনীয় সমালোচনা ও কটাক্ষ ভেসে আসে। যারা নিজেরা কোনো উদ্যোগ নেন না, তাদের কাছে অন্যের পরিশ্রমের মূল্য বোঝা কঠিন। সমালোচনা থাকতেই পারে—কিন্তু তা হওয়া উচিত গঠনমূলক, সহায়ক এবং সম্মানজনক।


অনুষ্ঠান শেষে যখন কোনো আয়োজক বা সংগঠক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখে হতাশ হন, তখন সেটি কেবল একজন ব্যক্তির নয়—পুরো একটি দলের মনোবলকে আঘাত করে। অর্ঘ্য সারথী শিকদার কেন ব্যথিত হয়েছেন, তা হয়তো আমরা পুরোপুরি জানি না, কিন্তু এটুকু নিশ্চিত—তার চিন্তা-চেতনা, তার দৃষ্টিভঙ্গি অনেক উঁচুতে অবস্থান করে।
তাই আজ সময় এসেছে সমালোচনার ভাষা বদলানোর। যারা কাজ করছেন, তাদের পাশে দাঁড়ানো, তাদের উৎসাহ দেওয়া এবং তাদের প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দেওয়াই আমাদের দায়িত্ব।
অর্ঘ্য সারথী শিকদারদের থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা যদি কখনো সফল হয়, তবে একসময় থেমে যাবে এই প্রবাসের সাংস্কৃতিক চর্চাও। কারণ, কিছু মানুষ আছেন যারা এগিয়ে নিয়ে যান—আর বাকিরা তাদের পথ অনুসরণ করেন।
সুতরাং, থামবেন না। আপনারা এগিয়ে যান। কারণ, আপনারা থেমে গেলে আমরা যারা আপনাদের কাজ দেখে অনুপ্রাণিত হই, তারাও একসময় থেমে যাব।
‘আনন্দধ্বনি’ শুধু একটি সংগঠন নয়—এটি প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা।