সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হিসেবে মমতাজ আলোকে মনোনয়নের জোর দাবি মুন্সীগঞ্জবাসীর
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :
মুন্সীগঞ্জে জন্ম নেওয়া আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত মানবাধিকারকর্মী ও রাজনীতিবিদ মমতাজ আলো-কে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি পদে মনোনীত করার জোর দাবি উঠেছে। বিষয়টি তারেক রহমান-এর নজরে আনতে মুন্সীগঞ্জ জেলা বাসী, প্রবাসী শুভানুধ্যায়ী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গসংগঠনের শত শত নেতাকর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
নেতৃবৃন্দ তাদের ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেছেন, মমতাজ আলো একজন সৎ, পরিচ্ছন্ন ও আপসহীন রাজনীতিবিদ। দলকে সুসংগঠিত রাখা এবং নারী ভোটারদের বিএনপির পক্ষে ঐক্যবদ্ধ করতে সংরক্ষিত আসনে তাকে মনোনয়ন দেওয়া সময়ের দাবি বলে মনে করছেন তারা। দীর্ঘদিন ধরে মুন্সীগঞ্জে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা অবহেলিত—এমন অভিযোগ তুলে এলাকাবাসী বলছেন, মমতাজ আলোর মনোনয়ন সেই শূন্যতা পূরণ করবে।
বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল-এর আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দলের বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। মানবাধিকার ইস্যুতে সোচ্চার থেকে দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী মহলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করায় তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিচিতি লাভ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত এক দশকে মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে তার প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। তার উদ্যোগে দিঘীরপাড় অভয়চরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) থেকে ১০ লাখ টাকার বিশেষ অনুদান অনুমোদন হয়। এছাড়া জেলায় ৪০টি নলকূপ স্থাপনের বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে।
জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও কবরস্থানের উন্নয়নে ৫৪টি প্রকল্পে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান আনা হয়েছে বলে জানা গেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কামারখাড়া থেকে হাসাইল বাজার পর্যন্ত ১৪ ফুট প্রশস্ত আরসিসি ঢালাই সড়কের বরাদ্দ নিশ্চিত হয়েছে। দিঘীরপাড় হাই স্কুল সড়ক সংস্কারে ১৪ লাখ টাকা এবং দিঘীরপাড় শাখা নদীর ওপার থেকে গুচ্ছগ্রাম পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের বরাদ্দও অনুমোদন করা হয়েছে।
শিক্ষা ও সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পূর্ব রাকি গ্রামের শহিদ শ্যামল স্মৃতি পাঠাগারের জন্য ১০ লাখ টাকা এবং লৌহজং উপজেলার কোমার ভোক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ১০ লাখ টাকার বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া টংগিবাড়ী উপজেলার হাসাইল বাজার থেকে কলমা পর্যন্ত সড়ক উন্নয়নকাজে ১ কোটি টাকার বরাদ্দ আনার কথাও জানা গেছে।
এলাকাবাসীর মতে, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হবে, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং সাধারণ মানুষের চলাচল আরও সহজ ও নিরাপদ হবে। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতেও মমতাজ আলোর মতো নেতৃত্বের মাধ্যমে মুন্সীগঞ্জে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে রাজপথে সক্রিয় ও জেল-জুলুমের শিকার নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সে বিবেচনায় মমতাজ আলো এগিয়ে রয়েছেন।
এ বিষয়ে মমতাজ আলো বলেন, “দলের প্রতি আমার আনুগত্য ও ত্যাগ বিবেচনা করে হাইকমান্ড যে সিদ্ধান্ত নেবে, আমি তা মাথা পেতে নেব। আমার লক্ষ্য জনসেবা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাওয়া।”
মুন্সীগঞ্জের তৃণমূল নেতাকর্মীদের বিশ্বাস, তাকে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হলে সংসদে নারীর ক্ষমতায়ন জোরদার হবে এবং এলাকার পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে জনগণের প্রত্যাশা আরও বলিষ্ঠভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে। সূত্র : হাকিকুল ইসলাম খোকন ।


















