Logo

আন্তর্জাতিক    >>   ইতিহাসের সাক্ষী পরিত্যক্ত সিটি হল সাবওয়েতে শপথ: কোরআন হাতে নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম ও কনিষ্ঠতম মেয়র জোহরান মামদানি

ইতিহাসের সাক্ষী পরিত্যক্ত সিটি হল সাবওয়েতে শপথ: কোরআন হাতে নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম ও কনিষ্ঠতম মেয়র জোহরান মামদানি

ইতিহাসের সাক্ষী পরিত্যক্ত সিটি হল সাবওয়েতে শপথ: কোরআন হাতে নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম ও কনিষ্ঠতম মেয়র জোহরান মামদানি

প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :
নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায় রচিত হলো বৃহস্পতিবার। পবিত্র কোরান শরিফ সাক্ষী রেখে বিশ্বের রাজধানী হিসেবে খ্যাত এই মহানগরের মেয়র হিসেবে শপথ নিলেন জোহরান মামদানি। ব্যতিক্রমী ও প্রতীকী এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় ম্যানহাটনের একটি পরিত্যক্ত সাবওয়ে স্টেশনে—যা শহরের ইতিহাস ও জনমানুষের সংগ্রামের নীরব সাক্ষী।
শপথ গ্রহণের পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় মামদানি বলেন,
“এই সম্মান ও সুযোগ আমার জীবনের অন্যতম গর্বের মুহূর্ত। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এটি আমার স্মৃতিতে অম্লান থাকবে।”
কেন পরিত্যক্ত সাবওয়ে স্টেশনে শপথ?
১৯০৪ সালে নিউইয়র্কে যখন প্রথম মেট্রো রেল পরিষেবা চালু হয়, তখন নির্মিত হয় ১৮টি স্টেশন। তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ছিল সিটি হল সাবওয়ে স্টেশন। পরবর্তীতে শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও আধুনিক প্রযুক্তির কারণে স্টেশনটির কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয়। ফলে এটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে।
তবে কার্যক্রম বন্ধ হলেও, সিটি হল স্টেশন আজও নিউইয়র্কের নগর ইতিহাস, শ্রমজীবী মানুষের যাতায়াত এবং আধুনিক শহর গঠনের এক ঐতিহাসিক প্রতীক। সেই ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতেই মামদানি এই স্থানটিকে শপথগ্রহণের জন্য বেছে নেন—যা তাঁর রাজনীতির মূল দর্শন, অর্থাৎ ইতিহাস, সাধারণ মানুষ ও বহুত্ববাদকে একসূত্রে যুক্ত করার বার্তা বহন করে।
৩৪ বছর বয়সি ডেমোক্র্যাট নেতা মামদানির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমস। এ সময় পবিত্র কোরান হাতে উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্ত্রী রমা দুয়াজি। স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স–এর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয় জাঁকজমকপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা। এই উপলক্ষে নিউইয়র্কে একটি বিশেষ প্যারেডও অনুষ্ঠিত হয়।
ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন মামদানি একাধিক কারণে। তিনি নিউইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম মেয়র। একইসঙ্গে, গত ১০০ বছরের ইতিহাসে ৩৪ বছর বয়সে তিনিই কনিষ্ঠতম মেয়র।
উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়েন মামদানি। নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার তাঁকে কটাক্ষ করে ‘কমিউনিস্ট’ আখ্যা দেন এবং হুঁশিয়ারি দেন যে মামদানি মেয়র হলে নিউইয়র্কের ফেডারেল অনুদান বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে সেই ‘রক্তচক্ষু’ উপেক্ষা করেই নিউইয়র্কবাসী বিপুল সমর্থনে মামদানিকে নির্বাচিত করে। যদিও জয়লাভের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সৌজন্য বৈঠকও করেন তিনি।
জোহরান মামদানির জন্ম উগান্ডার কাম্পালা শহরে। তাঁর বাবা প্রখ্যাত লেখক ও শিক্ষাবিদ মাহমুদ মামদানি এবং মা বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক মীরা নায়ার। জন্মের কিছু বছর পর পরিবারসহ তিনি নিউইয়র্কে চলে আসেন। বর্তমানে তিনি কুইন্সের বাসিন্দা। সেখানকার বহুভাষিক পরিবেশে বেড়ে উঠতে গিয়ে তিনি বাংলা ভাষাও রপ্ত করেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে বাংলায় কথা বলতেও দেখা গেছে, যা প্রবাসী বাঙালি সমাজে বিশেষভাবে আলোচিত হয়।
পরিত্যক্ত সাবওয়ে স্টেশনে কোরান হাতে শপথ—এই দৃশ্য শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি নিউইয়র্কের ইতিহাস, বহুত্ববাদ এবং নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।