বাউল শিল্পী আবুল সরকারের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে নিউইয়র্কে লালন পরিষদ ইউএসএর জোরালো প্রতিবাদ সমাবেশ
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গ্রেপ্তার বাউল শিল্পী আবুল সরকার–এর নিঃশর্ত মুক্তি ও সারা দেশে একের পর এক মাজার ভাঙা–র ঘটনার বিরুদ্ধে নিউইয়র্কে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে লালন পরিষদ ইউএসএ।
২৩ নভেম্বর রাত ৮টায় জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে প্রবাসী সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের ঝড় ওঠে।
সমাবেশের শুরুতে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের প্রধান আব্দুল হামিদ।
ক্রমে বক্তব্য দেন প্রখ্যাত বাউল শিল্পী কালা মিয়া, বাউল শিল্পী আব্দুল করিম হাওলাদার, বাউল শিল্পী শাহ মাহবুব, মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত বিশ্বাস, প্রগ্রেসিভ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বাচ্চু, কবি হাসান আল আব্দুল্লাহ, বাউল কবি ফকির ইলিয়াস, রাকসুর সাবেক নেতা মুজাহিদ আনসারী, সাংস্কৃতিক সংগঠক সনজীবন কুমার, সাংস্কৃতিক কর্মী সাবিহা হাই উর্বি, বাচিক শিল্পী গোপন সাহা, বঙ্গবন্ধু পরিষদ যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ সম্পাদক সিকৃতি বড়ুয়া, সাংস্কৃতিক কর্মী আসলাম আহম্মেদ খান, একুশে চেতনা পরিষদের সভাপতি ওবায়দুল্লাহ মামুন, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতা শিতাংশু গুহ প্রমুখ।
সমাবেশ পরিচালনা করেন লালন পরিষদ ইউএসএর সদস্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠক গোপাল স্যানাল।
আন্দোলনকারীদের হাতে দেখা যায়— “আবুল সরকারের মুক্তি চাই”, “গান, জ্ঞান ও ভক্তির নিরাপত্তা চাই”, “মাজার দরবার রক্ষা করো”, “পৃথিবীটা একদিন বাউলের হবে”—এসব স্লোগানসংবলিত পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড।
বক্তারা অভিযোগ করেন, আবুল সরকারের পালাগানের একটি খণ্ডিত অংশ বিকৃতভাবে ইউটিউবে ছড়িয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মীয় উগ্রবাদ ভয়াবহভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। একটি গোষ্ঠী ‘ধর্মের একচ্ছত্র রক্ষক’ সেজে দেশজুড়ে সংস্কৃতি ও ভিন্নমত ধ্বংসের শুদ্ধি–অভিযানে নেমেছে।
দুই শতাধিক মাজার ভাঙা, নিরীহ মানুষকে মুরতাদ বা শাতিম ঘোষণা, কবর থেকে লাশ তুলে পোড়ানো, বাউল–ফকিরদের অপদস্ত করা, নারীদের পোশাক–চলাচল নিয়ে হেনস্তা, নাচ–গান–মেলা বন্ধ করে দেওয়া—এসব পরিস্থিতিকে তারা বাংলাদেশের সংস্কৃতির জন্য অশনি–সংকেত হিসেবে উল্লেখ করেন।
বক্তারা বলেন,
“অহিংস ও শান্তিপ্রিয় বাউল শিল্পীদের ওপর আঘাত মানে বাংলার হাজার বছরের লোকায়ত সংস্কৃতির ওপর আঘাত। মরমি সাধনার ঐতিহ্যকে যারা ধ্বংস করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে এখনই সোচ্চার হওয়া জরুরি। আজ নীরব থাকলে আমাদের সংস্কৃতি আমাদের চোখের সামনেই কবরস্থ হয়ে যাবে।”
তারা জোর দিয়ে আরও বলেন—
“সোচ্চার হোন, প্রতিবাদ করুন—এটাই সময়।”
উল্লেখ্য, গত ১৯ নভেম্বর বাংলাদেশে বাউল শিল্পী আবুল সরকার–কে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করেছেন এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উসকে দিতে ‘অট্টহাসি’ দিয়েছেন। তবে তার ভক্ত–অনুরাগী ও সাধারণ মানুষ দাবি করছেন— পালাগানের একটি অংশ বিকৃতভাবে ছড়িয়ে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। সূত্র: সনজীবন কুমার



















