শেখ হাসিনার মুখে মানুষের হাসি, শেখ হাসিনাই বাঙালির আশা-আকাঙ্ক্ষার আশ্রয়স্থল: হাসান ইকবাল
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
সাহস, দূরদর্শিতা ও আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা আজ শুধু একজন রাজনীতিক নন, তিনি বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের বিকাশমান রূপকথার নির্মাতা। তার হাতে গড়ে উঠেছে জাতির আত্মবিশ্বাস, গড়ে উঠেছে নতুন বাংলাদেশ। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও প্রযুক্তিনির্ভর পদ্মা সেতু নির্মাণ করে তিনি প্রমাণ করেছেন, ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে স্বনির্ভরতার পথে হাঁটা সম্ভব।
বিশ্বব্যাংক যখন অযৌক্তিক অভিযোগ তুলে পদ্মা সেতু থেকে সরে দাঁড়াল, তখন অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে। কিন্তু শেখ হাসিনা নিজের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, সাহসিকতা এবং জনসমর্থনের শক্তিকে পুঁজি করে শুধু পদ্মা সেতু নয়, একটি জাতির সম্মান ও আত্মবিশ্বাসও গড়ে তুলেছেন। দেশের নিজস্ব অর্থায়নে এই সেতু নির্মাণ করেই তিনি শুধু দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সড়ক ও রেল সংযোগের দিগন্ত খুলে দেননি, তিনি প্রমাণ করেছেন বাঙালিও পারে।
বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছেছে, অর্থনৈতিক অঞ্চল, এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেল, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম—সবকিছুই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাস্তব হয়েছে। তিনি নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষি উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছেন।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ কেবল একটি রাজনৈতিক দল নয়; এটি বাঙালির আত্মপরিচয়, ভাষা ও স্বাধীনতার সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন রোজ গার্ডেনে যে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়, সেটিই ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৬৬-এর ছয় দফা, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধসহ প্রতিটি জাতীয় সংকটে নেতৃত্ব দিয়েছে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগকে জনগণের সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলেন। নিজের জীবন বাজি রেখে তিনি এই জাতির জন্য সংগ্রাম করেছেন।
আজ তার কন্যা শেখ হাসিনা সেই সংগ্রামের উত্তরাধিকার নিয়ে পথ চলছেন। ষড়যন্ত্র, নিন্দা, বারবার মৃত্যুর হুমকি—সব কিছু পেছনে ফেলে দেশ ও জনগণের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। তার সাহসী নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে।
কিন্তু আজকের বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের শাসনক্ষমতা যাদের হাতে তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। কথিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নামে একটি অপশক্তি ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। অধ্যাপক মোঃ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক সরকার গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর নিষ্ঠুর আঘাত হানছে। চারদিকে গ্রেফতার, গুম, মিথ্যা মামলা, মব সন্ত্রাস, ধর্ষণ, দুর্নীতি ও অরাজকতা ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ প্রশাসন ও বিচার বিভাগ দলীয় হস্তক্ষেপে জর্জরিত। মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের জেলে রেখে নির্মম নির্যাতন চালানো হচ্ছে। থানা-আদালত এখন ভয়াবহ নিরাপত্তাহীনতার প্রতীক।
এই সময়ে আওয়ামী লীগ আবারও প্রমাণ করেছে, তারা সংগ্রামী দল। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলটি রাজপথে নেমেছে দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায়। যত বাধাই আসুক, আওয়ামী লীগ থেমে থাকবে না। ইতিহাস প্রমাণ করেছে, এই দল বারবার প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠে মানুষের আস্থা অর্জন করেছে।
শেখ হাসিনা শুধু একজন নেতা নন, তিনি একটি বিশ্বাস, একটি আশা। তার মুখে দেশের মানুষের হাসি ফুটে ওঠে, কারণ তিনি বাংলাদেশের ভবিষ্যতের প্রতীক। তাকে থামানোর চেষ্টা আগেও ব্যর্থ হয়েছে, আবারও ব্যর্থ হবে। কারণ তিনি মুজিবকন্যা—অদম্য সাহস আর জনগণের ভালোবাসা যার একমাত্র শক্তি।
হাসান ইকবাল. সাধারণ সম্পাদক, ইটালি আওয়ামী লীগ।


















