রাজবন্দীদের মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি সৈয়দা রাজিয়া মোস্তফার
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক :
বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিশিষ্ট সমাজসেবিকা সৈয়দা রাজিয়া মোস্তফা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং সকল রাজবন্দীর মুক্তি দাবি করেছেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ৫ই তারিখের পর থেকে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী মোহাম্মদ ইউনুসের নির্দেশে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের লক্ষ লক্ষ নিরপরাধ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করে তাদেরকে কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে। কারাগারের ভেতরে তাদের ওপর মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সৈয়দা রাজিয়া মোস্তফা বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে বিরোধী দল ও মতকে দমন করার চেষ্টা চলছে। যারা সন্ত্রাস, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতায় জড়িত, তাদের অনেকেই এখনও গ্রেফতারের বাইরে রয়েছে। অথচ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রায় ৪ লক্ষ ৬৬ হাজার নেতাকর্মী কারাগারে বন্দি রয়েছেন এবং সরকার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে তাদের জামিন দেওয়া হবে না। অথচ একজন নাগরিকের জন্য জামিন চাওয়া একটি মৌলিক অধিকার। সেই অধিকার থেকেও তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যারা সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত তাদের অনেককে জামিন দিয়ে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া কিংবা ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ বাজানোর মতো ঘটনাকে অপরাধ হিসেবে দেখিয়ে মানুষকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেফতার করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
বিবৃতিতে তিনি প্রশ্ন তোলেন—দেশে আইনের শাসন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা কোথায়? দেশের সংবিধান ও ন্যায়-নীতির পরিপন্থী এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি সংকটের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সৈয়দা রাজিয়া মোস্তফা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও অস্তিত্ব রক্ষার জন্য জনগণের আন্দোলন-সংগ্রাম চলমান রয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। তিনি অবিলম্বে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, সকল রাজবন্দীর মুক্তি এবং দেশে আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের নির্বাচন সম্পর্কে দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক মহল অবগত। যারা আইনের শাসন, সুশাসন ও জবাবদিহিতার কথা বলে ক্ষমতায় এসেছে, তাদের উচিত দ্রুত সকল রাজবন্দীর মুক্তি নিশ্চিত করে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করা।
শেষে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ সবকিছু দেখছে এবং সময়মতো জনগণই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সবসময় জনগণের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও জনগণের পাশেই থাকবে।


















