সনাতনী বৃদ্ধ বাবা ও ছেলের ওপর হামলা-নির্যাতনের অভিযোগ: ধর্মীয় সহনশীলতা নিয়ে প্রশ্ন
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশের লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোশালা বাজারে ধর্মীয় সংবেদনশীলতার জেরে পরেশ চন্দ্র শীল নামের একজন সনাতনী (হিন্দু) বৃদ্ধ ও তাঁর ছেলেকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী দুইজনই হলেন, পরেশ চন্দ্র শীল (৭০) এবং তাঁর ছেলে বিষ্ণু চন্দ্র শীল (৩৫)।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নামাটারি আল-হেরা জামে মসজিদের এক ইমাম সেলুনে এসে পরেশ চন্দ্র শীলকে ইসলামের দাওয়াত দেন। তিনি শান্তভাবে নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসের কথা জানিয়ে বলেন, “বয়স হয়েছে, আমি আমার বাপ-দাদার ধর্ম মেনে চলি। সৃষ্টিকর্তা সবারই একজন।” এই কথোপকথনের পরই স্থানীয়ভাবে গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হয় যে, তিনি ইসলাম অবমাননা করেছেন। এরপর একটি দল তাঁর সেলুনে এসে তাঁদের মারধর করে এবং থানায় নিয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, থানায়ও তাঁদের প্রতি নির্মম আচরণ করা হয়।
আরো উদ্বেগের বিষয় হলো—সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরনবীর মন্তব্য। গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “এই দেশে ৯০ শতাংশ মুসলমান। বিধর্মীরা সেটা মাথায় না রাখলে সাধারণ মানুষ উত্তেজিত হতেই পারে।” এমন বক্তব্য একটি গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের কাছ থেকে একেবারেই অনভিপ্রেত এবং সংবিধানবিরোধী বলে মনে করছেন মানবাধিকারকর্মীরা।
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা কী সত্যিই নিশ্চিত?
মানবাধিকার সংগঠনগুলো দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। বাংলাদেশ সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষতা ও সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করে। ধর্মীয় বিশ্বাসের পার্থক্য যেন কারো নিরাপত্তা ও মানবাধিকার ক্ষুণ্ণ করার কারণ না হয়—এমন প্রত্যাশাই করছে সচেতন সমাজ।



















