রোনালদোর হাতে বিশ্বকাপ দেখতে চায় পর্তুগাল, অনুসরণ আর্জেন্টিনাকে
প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে নতুন স্বপ্নে বিভোর পর্তুগাল জাতীয় ফুটবল দল। একসময় ইউরোপের মাঝারি শক্তি হিসেবে বিবেচিত দলটি ইউরো ২০১৬ জয়ের পর বদলে ফেলেছে নিজেদের পরিচয়। বর্তমানে বিশ্বমানের অসংখ্য ফুটবলারের সমন্বয়ে গড়া দলটি এখন নিয়মিতভাবেই বড় টুর্নামেন্টের শিরোপা প্রত্যাশী—আর সামনে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬।
এই বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে পর্তুগাল শিবিরে সৃষ্টি হয়েছে বিশেষ এক আলোচনা—রোনালদোর হাতেই বিশ্বকাপ ট্রফি তুলে দেওয়া। দলের ভেতরের এই ভাবনার বিষয়টি সামনে এনেছেন তারকা মিডফিল্ডার ব্রুনো ফার্নান্দেজ। তার মতে, দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে এমন এক ঐক্য ও লক্ষ্যবোধ তৈরি হয়েছে, যা অনেকটাই অনুপ্রাণিত আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল-এর সাম্প্রতিক সাফল্য থেকে।
উল্লেখ্য, ফিফা বিশ্বকাপ ২০২২-এ আর্জেন্টিনা দল এক অনন্য ঐক্যের উদাহরণ স্থাপন করে লিওনেল মেসি-কে বিশ্বকাপ জেতাতে সক্ষম হয়। সেই সাফল্য এখন অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে পর্তুগালের জন্যও।
রোনালদোর ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার ইতোমধ্যেই কিংবদন্তির মর্যাদা পেয়েছে। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ-এ একাধিক শিরোপা, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ, বিভিন্ন দেশের লিগ ট্রফি—সবই তার অর্জনের তালিকায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায়ও তিনি শীর্ষে অবস্থান করছেন। তবে এত কিছুর পরও বিশ্বকাপ ট্রফি এখনো অধরা—যা তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের একমাত্র বড় অপূর্ণতা।
অন্যদিকে, মেসি ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ঘাটতি পূরণ করেছেন। এর ফলে ‘সর্বকালের সেরা’ বিতর্কে তিনি এগিয়ে গেছেন—এমন মতও রয়েছে অনেক বিশেষজ্ঞের। ফলে রোনালদোর সামনে এখন একটাই বড় চ্যালেঞ্জ—নিজের ক্যারিয়ারকে পূর্ণতা দেওয়া।
বর্তমানে ৪১ বছর বয়সী রোনালদোর জন্য ২০২৬ বিশ্বকাপকে ধরা হচ্ছে শেষ বড় সুযোগ হিসেবে। যদিও তিনি ভবিষ্যতে খেলার ইঙ্গিত দিয়েছেন, বাস্তবতা বলছে এই আসরই তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে আয়োজিত এই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আয়োজনগুলোর একটি হতে যাচ্ছে, যেখানে ৪৮টি দল অংশ নেবে।
সম্প্রতি সাবেক ইংলিশ তারকা ওয়েন রুনি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রুনো ফার্নান্দেজ বলেন, “রোনালদো যদি বিশ্বকাপ জিতে ক্যারিয়ার শেষ করতে পারেন, সেটা হবে অবিশ্বাস্য অর্জন।” তিনি আরও বলেন, “আমরা সত্যিই সেটা করতে চাই। শুধু পর্তুগালের জন্য নয়, ফুটবলের প্রতি রোনালদোর অবদানের জন্যও এটি প্রাপ্য।”
বর্তমানে রোনালদো এখনও দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। ক্লাব ফুটবলে নিয়মিত গোল করার পাশাপাশি জাতীয় দলের হয়েও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। তার অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব এবং জয়ের মানসিকতা তরুণ খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করছে। সব মিলিয়ে, পর্তুগাল এখন শুধু একটি দল নয়—একটি লক্ষ্যভিত্তিক মিশন। প্রশ্ন একটাই—ইতিহাস কি আবারও নতুন করে লেখা হবে? মেসির পর কি রোনালদোর হাতেও উঠবে বিশ্বকাপ ট্রফি? ফুটবল বিশ্ব এখন সেই উত্তরের অপেক্ষায়। সূত্র: জাগোনিউজ



















