Logo

রাজনীতি    >>   শেখ হাসিনা - জাতির আশ্রয়স্থল, বাংলাদেশের নিরাপত্তার প্রতীক: দেশ যখন ষড়যন্ত্রের মুখে, তখন বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বই একমাত্র ভরসা

শেখ হাসিনা - জাতির আশ্রয়স্থল, বাংলাদেশের নিরাপত্তার প্রতীক: দেশ যখন ষড়যন্ত্রের মুখে, তখন বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বই একমাত্র ভরসা

শেখ হাসিনা - জাতির আশ্রয়স্থল, বাংলাদেশের নিরাপত্তার প্রতীক: দেশ যখন ষড়যন্ত্রের মুখে, তখন বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বই একমাত্র ভরসা

নয়ন বিশ্বাস রকি, প্রজ্ঞা নিউজ ডেস্ক:

বাঙালির জাতীয় ইতিহাসে শেখ হাসিনা শুধু একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি এক সাহসী রাষ্ট্রনায়ক, যিনি বাংলাদেশকে অনিশ্চয়তা, দুঃশাসন এবং বৈশ্বিক ষড়যন্ত্র থেকে বারবার রক্ষা করেছেন। তাঁর দৃঢ় নেতৃত্বে বাংলাদেশ গত এক যুগে যেভাবে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও প্রযুক্তিগতভাবে অগ্রসর হয়েছে, তা উন্নয়নশীল দেশের জন্য একটি অনুকরণীয় মডেল হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

উন্নয়নের গতিধারা ও মানবিক অর্জন-

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিগত ১৫ বছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামো, ডিজিটাল প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও শিক্ষাখাতে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য নিরসন, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে তিনি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। স্বল্প আয়ের মানুষ এখন ঘর পাচ্ছে, স্কুলে যাচ্ছে শিশু, নারীরা কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করে পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করছে। এসবই শেখ হাসিনার বাস্তবমুখী ও গণমুখী নেতৃত্বের ফল।

ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টা ও ষড়যন্ত্রের ঘূর্ণিপাক-

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে যে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়েছিল, সেই বাংলাদেশকে আবার দাঁড় করিয়েছেন শেখ হাসিনা। কিন্তু আজ আবার একদল অশুভ শক্তি দেশকে অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিতে মরিয়া। তথাকথিত “সংস্কারের নামে” দেশের সার্বভৌমত্ব ও ঐতিহ্যকে ধ্বংসের খেলায় মেতে উঠেছে একটি চক্র।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে ও সমন্বয়ে পরিচালিত তথাকথিত সরকার দেশের ভেতরে ভয়াবহ অরাজকতা, চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতন, ইতিহাসবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিকে পুনরায় সক্রিয় করে তুলেছে। ধানমন্ডির ৩২ নম্বর ঐতিহাসিক বাড়ি, হাজার হাজার ঘরবাড়ি, মাজার, মন্দির, মুক্তিযুদ্ধের প্রতীকসম স্থাপনাগুলোকে ধ্বংস করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নিশ্চিহ্ন করার অপচেষ্টা চলছে।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের নীলনকশা-

এই অরাজনৈতিক সরকার প্রশাসন ও বিচার ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। হাজার হাজার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অন্যায়ভাবে অপসারণ করা হয়েছে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অপমান ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ, সাংবাদিকদের গ্রেফতার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি—সব মিলে দেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার আজ গভীর সংকটে।

শুধু তাই নয়, ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হত্যাকাণ্ডের বিচারও বন্ধ করা হয়েছে। বিচারব্যবস্থা নীরব, মানুষের বাকস্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে, আইনের শাসন আজ ধ্বংসপ্রায়।

বৈদেশিক চাপ ও নিরাপত্তা সংকট-

এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তথাকথিত মানবিক করিডোর, চট্টগ্রাম বন্দর ও সেন্টমার্টিন দ্বীপ আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে। এতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ বন্ধ, গার্মেন্টস শিল্পে ধ্বংস, শ্রমিকদের বেকারত্ব, এবং ৩৬টি উন্নয়ন সহযোগী দেশ তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার সংকট—সব মিলে দেশ গভীর অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জে পড়েছে।

শেখ হাসিনার বিকল্প নেই-

এমন এক সময়ে, যখন দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা হুমকির মুখে, তখন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাই জাতির একমাত্র ভরসা। জনগণ বিশ্বাস করে, তাঁর বিচক্ষণ নেতৃত্বেই বাংলাদেশ আবার ঘুরে দাঁড়াবে। সত্য যে, আওয়ামী লীগ সরকারের কিছু ত্রুটি ছিল, কিছু হাইব্রিড ও চাটুকারদের জন্য সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে—তবে এ থেকে শিক্ষা নিয়ে শুদ্ধি অভিযানে দলকে পুনর্গঠিত করতে হবে।

দলকে দুর্নীতিমুক্ত, কর্মীবান্ধব, দেশপ্রেমিক নেতৃত্বে গড়ে তুলতে হবে। তবেই আওয়ামী লীগ আবার জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পারবে। কারণ, গত ১৫ বছরে দেশের যে দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে—তার নেতৃত্বে ছিলেন শেখ হাসিনা। সেই অভিজ্ঞতা ও সাফল্যকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশ আবারও এগিয়ে যাবে।

ঐক্যের আহ্বান-

আজ আমাদের সবার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—স্বাধীনতাকে রক্ষা করা, গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখা এবং ষড়যন্ত্রের কালো ছায়া থেকে জাতিকে মুক্ত করা। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, সত্যের পক্ষে, দেশের পক্ষে দাঁড়াতে হবে।

নয়ন বিশ্বাস রকি

কলামিস্ট ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা